আমাকে দেওয়া নান্নুর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ইন্টারভিউটাও আরেকটি ভারত সফর থেকে ফিরে। ১৯৯৪ আইসিসি ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে বিসিসিবি একাদশ নামে ভিন্ন দু-তিনটি দল গড়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে পাঠানো হয়েছিল। একেক দলের একেক অধিনায়ক। নান্নুর নেতৃত্বে ভারতে যাওয়া দলটি হায়দরাবাদে মঈন-উদ্-দৌলা টুর্নামেন্টে খেলার পর মুম্বাইয়ে আরও কয়েকটি ম্যাচ খেলে দেশে ফিরেছে।

বাংলাদেশে ফুটবল-ক্রিকেট দুটিরই ঠিকানা তখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। প্রতিদিনই তাই সেখানে যেতে হয়। তখন আবার ক্রিকেটের দলবদল চলছে। ক্রিকেট বোর্ড অফিস রীতিমতো জমজমাট। তার মধ্যেই নান্নু আমাকে আলাদা করে নিয়ে বললেন, 'ইন্ডিয়া ট্যুর নিয়ে আপনাকে আমি একটা ইন্টারভিউ দিতে চাই।' একটু আড়াল খুঁজে কাগজ-কলম নিয়ে তখনই বসে গেলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার চোখ বিস্ফারিত। নান্নু তো বিধ্বংসী সব কথাবার্তা বলছেন।

কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মহিন্দর অমরনাথ। যাঁর ভাবসাবই আলাদা। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাই বলেন না, বোর্ড কর্মকর্তারাও তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্বের সামনে কেঁচো হয়ে থাকেন। ক্রিকেট বোর্ডের অফিসে অমরনাথের রাজাধিরাজের মতো টেবিলের ওপর পা তুলে বসে থাকাটাও তখন রুটিন দৃশ্য। আর নান্নু কি না প্রবল পরাক্রান্ত সেই মহিন্দর অমরনাথের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলছেন। সেই ইন্টারভিউটা খুঁজে বের করে নান্নুর যা ভাষ্য পাচ্ছি, তা এ রকম— অমরনাথের সঙ্গে তাঁর প্রথম লাগল সার্ভিসেস টিমের বিপক্ষে ম্যাচে, যখন টসের আগে অমরনাথ নান্নুকে বললেন, 'তুমি শুধু প্লেয়ার হিসেবে খেলো, এই ম্যাচ ক্যাপ্টেনসি করবে এনামুল হক মনি।'

নান্নু তখন জাতীয় দলের অধিনায়ক। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদ করলেন, ‘বোর্ড তো আমাকে কিছু বলেনি। ক্যাপ্টেনসি নিয়ে তোমার এমন কিছু করার রাইট নাই।'

অমরনাথ জবাব দিলেন, 'আমি দেখতে চাই মনি কেমন করে।' নান্নু কি আর ছাড়ার পাত্র! 'মনি কেমন করে, সেটি তুমি বোর্ডের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে দেখো।'

মুম্বাইয়ে টাটার বিপক্ষে ম্যাচে আরেক কেলেঙ্কারি। বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের সময় দুই/তিন ওভার পর নিজেই মাঠে নেমে ক্যাপ্টেনসি করতে শুরু করেন অমরনাথ। ক্রিকেটারদের হাতে-কলমে ফিল্ডিং শেখাবেন বলে। কোনো অধিনায়ক এতে অপমানিত বোধ না করলে বুঝতে হবে তাঁর মান-অপমান বোধই নেই। নান্নু ওই ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। অমরনাথের ওই কাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে বলেও যৌক্তিক অভিযোগ তোলেন।

নামেমাত্র একটা সিলেকশন কমিটি থাকলেও কার্যক্ষেত্রে মহিন্দর অমরনাথই তখন ওয়ান ম্যান সিলেকশন কমিটি। এটা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন নান্নু, 'অমরনাথ তো ঠিকমতো প্লেয়ারই চেনে না, ও কীভাবে সিলেকশন করবে?’ শুধু অমরনাথই নন, দলের ম্যানেজার আলিউল ইসলামকে নিয়েও এন্তার অভিযোগ ছিল নান্নুর। ম্যানেজারের কোনো দায়িত্বই নাকি তিনি পালন করেননি। জয়পুরে বেড়াতে চলে গেছেন। সহকারী ম্যানেজার হিসেবে তানজীব আহসান সাদ ছিলেন বলে ভালোয় ভালোয় ট্যুরটা শেষ করে আসা গেছে।

সাংবাদিকের জন্য স্বপ্নের ইন্টারভিউ। আমার খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু এই ইন্টারভিউ ছাপা হলে তো আগুন জ্বলে যাবে। নান্নুও নির্ঘাত বিপদে পড়বেন। আমি তাই পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করেই নান্নুকে বললাম, 'আপনি কি সত্যিই চান, এই ইন্টারভিউটা ছাপা হোক? আপনি কিন্তু বিপদে পড়বেন।'

নান্নুকে ছাপার ব্যাপারে অনড় দেখে বললাম, 'ঠিক আছে, আমি লিখি। কাল আপনাকে দেখাই। তারপর আপনি যা বলবেন, তা-ই হবে।'

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু: খেলোয়াড়ি জীবনে। ছবি: আবদুল হান্নান

আমার সাংবাদিকতা জীবনে সেই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত শেষবারের মতো কারও ইন্টারভিউ করে সেটি আবার তাঁকে দেখানো। পরদিন ক্রিকেট বোর্ড অফিসে নান্নু ইন্টারভিউটা মাত্র পড়তে শুরু করেছেন, হুড়মুড় করে ঢুকে গেল আবাহনী সমর্থকেরা। ছয় বছর মোহামেডানে খেলার পর সেদিনই আবার আবাহনীতে যোগ দিয়েছেন। 'নান্নু ভাই জিন্দাবাদ' 'নান্নু ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম' স্লোগান দিতে দিতে সমর্থকেরা মিছিল করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল নান্নুকে। আমি পেছন পেছন একটু গিয়ে রণে ভঙ্গ দিলাম। ভিড়ের মধ্যে নান্নুকে দেখাই যাচ্ছে না, তাঁকে আর পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ইন্টারভিউর কপিটা কোনোমতে আগেই হাতে নিয়ে নিয়েছিলাম বলে রক্ষা। তখন তো আর মোবাইলের যুগ নয়। নান্নুর সঙ্গে যোগাযোগ করারও উপায় নেই। ইন্টারভিউটা ছাপব কি ছাপব না, সেই সিদ্ধান্ত তো হলো না।

ক্রিকেট বোর্ডে তো নান্নুর আর ফেরার কথা নয়। একটু মন খারাপ করেই তাই চলে এলাম নয়া পল্টনে আমার অফিসে। এ কি, আমি যাঁর জন্য হয়রান, সে তো দেখি আমারই অপেক্ষায় স্পোর্টস সেকশনে বসে আছে।

সেখানে বসেই পুরো ইন্টারভিউটা মন দিয়ে পড়লেন নান্নু। পড়ে বললেন, 'কোনো সমস্যা নেই।'

আমি বললাম, 'আরেকবার ভাবেন। ঝামেলা হবে কিন্তু।'

নান্নুকে একটুও চিন্তিত মনে হলো না, ‘এটা ছাপা দরকার। আর আমাকে বাদ দিয়ে কাকে ক্যাপ্টেন করবে?'

আমি ভবিষ্যৎ ঝামেলা পূর্বানুমান করে বললাম, ‘পরে যদি প্রতিবাদ পাঠিয়ে বলেন, আমি এসব কিছু বলিনি, সেটি কিন্তু হবে না।'

নান্নু হাসলেন, 'আরে না, আমাকে চেনেন না আপনি!' পরদিন ভোরের কাগজ-এ সেই ইন্টারভিউ ছাপা হয়ে গেল। নান্নুর কথা দিয়েই শিরোনাম, 'অমরনাথকে সিলেকশনের পুরো ক্ষমতা দেওয়া ঠিক হয়নি।' ক্রিকেট বোর্ডে স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড়। পরদিন কলকাতার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা 'বাংলা ক্যাপ্টেন ব্লাস্টস্ অমরনাথ’ হেডিং দিয়ে চার কলামজুড়ে নিউজ ছেপে এটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়ে ফেলল। মহিন্দর অমরনাথ এই খবর পেলেন লন্ডনে বসে। মহা ক্ষিপ্ত হয়ে বোর্ড কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিলেন, নান্নুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তিনি আর বাংলাদেশে আসছেন না।

ব্যাটসম্যান পরিচয়ের আড়ালে প্রায়ই ঢাকা পড়ে গেলেও নান্নু বোলার হিসেবেও ফেলনা ছিলেন না। ছবি দুটি ১৯৯০ সালে শারজায় অস্ট্রেলেশিয়া কাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের

অনুমিতভাবেই নান্নুকে প্রতিবাদপত্র দিতে বলা হলো। কিন্তু আমি তো আগেই বলে দিয়েছি, যা বলেছেন, পরে তা অস্বীকার করা যাবে না। যত দূর মনে পড়ে, সাবধানের মার নেই ভেবে ইন্টারভিউয়ের কপিতে নান্নুর স্বাক্ষরও নিয়ে রেখেছিলাম। তারপরও ইন্টারভিউ প্রকাশের চার দিন পর নান্নু একটা প্রতিবাদপত্র নিয়ে হাজির। নান্নু তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। 'আমি ওসব বলিনি' জাতীয় কোনো কথাই তাতে নেই। সাক্ষাৎকারে বলা কথাগুলোর মূলে বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থা, ভাবাবেগে আক্রান্ত হওয়াই যে কারণ ছিল, এমন কিছু তাঁর স্বীকারোক্তির সঙ্গে যা যা বলেছেন, সব বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা।

যেটি পড়ে আমি বললাম, 'এটি ছাপতে আমার কোনো সমস্যা নেই । আপনি তো আর বলেননি যে ইন্টারভিউয়ে যা ছাপা হয়েছে, আপনি তা বলেননি। তবে এটি পড়ার পর নিজের মনের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ ও বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়েই কিন্তু মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারে।'

নান্নু অনুরোধ করে বললেন, 'কী করব, বলেন! খুব চাপ দিচ্ছে।'

পঁচিশ বছরের পুরোনো পত্রিকা থেকে উদ্ধার করা নান্নুর সেই চিঠিটি হুবহু তুলে দিয়ে আপনার কৌতূহলটা মিটিয়েই দিই। প্রথাগত প্রতিবাদপত্র নয় বলে সেটি ছাপা হয়েছিল ‘ভোরের কাগজ-এর কাছে নান্নুর চিঠি' শিরোনামেই—

বিষয়: আপনার পত্রিকায় ২৭ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত আমার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে।

‘উল্লেখিত সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত আমার কিছু মন্তব্য ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছে। গত ভারত সফরে দলের কোচ ও ম্যানেজারের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদানের সময়ে আমি ভাবাবেগে আক্রান্ত ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই ঐ সকল মন্তব্য অতিশয়োক্তি দোষে দুষ্ট।

গত সফরে দলের পারফরম্যান্সে আমি হতাশ ছিলাম। যেহেতু দলটির বিদেশে ফলাফলের উপর সারা দেশের ক্রিকেটামোদীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল, তাই সফর শেষে আমার হতাশার মাত্রাও সহজেই অনুমেয়। অধিকন্তু ব্যক্তিগত কিছু সমস্যাও আমাকে পীড়িত করছিল। তাই সাক্ষাৎকার প্রদানের সময় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। উল্লেখিত অবস্থায় সাক্ষাৎকারটি প্রদান বিশেষত কোচ ও ম্যানেজার সম্পর্কে এবং বোর্ডের অনুসৃত নীতি প্রসঙ্গে আমার মন্তব্যসমূহ সঠিক অবস্থার প্রতিফলন নয়। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নিয়োজিত কোচ মহিন্দর অমরনাথও দলের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ভারত সফরে ম্যানেজারের নিপুণ ব্যবস্থাপনার কথাও উল্লেখ্য। আমি এই পত্রের মাধ্যমে দলের কোচ, ম্যানেজার এবং বোর্ডের নীতির বিষয়ে প্রদত্ত সকল মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।

আশা করি, এই পত্র আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে সহায়তা করবেন।'

পরে নান্নু আমাকে বলেছেন, সে সময়কার বোর্ড সেক্রেটারি আমিনুল হক মনি ও কোষাধ্যক্ষ রেজা-ই-করিম তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই চিঠিটা ছাপানোর অফিশিয়ালি ব্যবস্থা করলে তাঁর ক্যাপ্টেনসির কোনো সমস্যা হবে না।

নান্নুকে সরিয়ে দিয়ে ১৯৯৪ আইসিসি ট্রফিতে অধিনায়ক করা হলো ফারুক আহমেদকে। যে কারণই বলা হয়ে থাকুক, আসল কারণটা বুঝতে কারোরই বাকি ছিল না। ওই ঘটনার পর অনেক দিন চট্টগ্রামে গেলে আমাকে শুনতে হয়েছে, 'অনরলাই আরার চিটাগাংইয়া ফোয়া ইবার কেপ্টেনসি গেইওই।'

হয়তো অমরনাথের চাপেই তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। নান্নুকে সরিয়ে দিয়ে ১৯৯৪ আইসিসি ট্রফিতে অধিনায়ক করা হলো ফারুক আহমেদকে। যে কারণই বলা হয়ে থাকুক, আসল কারণটা বুঝতে কারোরই বাকি ছিল না। ওই ঘটনার পর অনেক দিন চট্টগ্রামে গেলে আমাকে শুনতে হয়েছে, 'অনরলাই আরার চিটাগাংইয়া ফোয়া ইবার কেপ্টেনসি গেইওই।' (বঙ্গানুবাদ: আপনার জন্যই। আমাদের চট্টগ্রামের ছেলেটার অধিনায়কত্ব গেছে)।

নান্নুকে সরিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক করা হয়েছিল ফারুক আহমেদকে। খেলোয়াড়-পরবর্তী জীবনেও দুজনের ভূমিকার অদলবদল হয়েছে। ফারুক পদত্যাগ করার পর প্রধান নির্বাচক হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নান্নু। ছবিতে আছেন ফারুকের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির সদস্য হাবিবুল বাশারও

ওই ঘটনার জের শুধু নান্নুর অধিনায়কত্ব হারানোতেই সীমাবদ্ধ থাকল না। দিতে হলো আরও অনেক বড় মূল্য। বাংলাদেশের জন্য ওই আইসিসি ট্রফিটা ছিল বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি। এর আগে শুধু আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়নরাই সুযোগ পেত বিশ্বকাপে। সেবারই প্রথম নিয়ম হয়েছে, বিশ্বকাপে উঠবে প্রথম তিনটি দল। আগের ইতিহাস মনে রাখলে বাংলাদেশের প্রথম তিনে না থাকার কোনো কারণ নেই । সংযুক্ত আরব আমিরাত, হল্যান্ড আর কেনিয়ার কাছে হেরে মৃত্যু হলো সেই স্বপ্নের। কেনিয়া থেকে আর বাংলাদেশেই ফিরলেন না মহিন্দর অমরনাথ। এমন বিপর্যয়ের পর বলির পাঠা খোঁজা হবেই। অধিনায়ক হিসেবে ফারুককেই নিতে হলো বড় দায়। তাঁকে সরিয়ে নতুন অধিনায়ক করা হলো আকরাম খানকে।

অধিনায়কত্ব হারিয়ে ক্ষুব্ধ নান্নুর বিরুদ্ধে ইচ্ছা করেই পুরো সামর্থ্য ঢেলে না দেওয়ার অভিযোগটাও খুব বাজার পেল। মহিন্দর অমরনাথের দেওয়া রিপোর্টে যেটির কোনো সত্যতা মেলেনি। অমরনাথের রিপোর্টটি আমার পড়ে দেখার সুযোগ হয়েছিল। নান্নু সম্পর্কে যেটিতে ভালো ভালো কথাই ছিল। একটা মন্তব্য এখনো আলাদাভাবে মনে আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে নান্নুকেই সত্যিকার ‘পেশাদার’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন অমরনাথ।

(লেখকের 'এগারো' বই থেকে)।

আরও পড়ুন:  মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর সেই ইন্টারভিউ