বেনজির ভুট্টোর হাত থেকে অর্জুনা রানাতুঙ্গা যখন বিশ্বকাপ নিচ্ছেন, তখন গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের দোতলায় বক্সে প্রৌঢ়ত্বের সীমায় দাঁড়ানো এক মহিলা এক রকম হাউমাউ করে কাঁদছেন। আগের দিনই রানাতুঙ্গার একান্ত সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে জেনেছিলাম, তিনি আসছেন। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে সোনার অক্ষরে লেখা দিনটি আনতে ক্রিকেটার ছাড়াও যে অসংখ্য মানুষের বিশাল অবদান, এই মহিলা তাঁদের পুরোভাগে পড়েন। তাঁর নাম নন্দিনী রানাতুঙ্গা। অর্জুনা রানাতুঙ্গার মা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন দুপুরে তাঁর হোটেল রুমে আধঘণ্টার মতো আলাপচারিতায় বের করে আনা হয়েছিল ক্রিকেটের বাইরের অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে। ক্রিকেটের বাইরে ঠিক নয়। ১৪ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে যাঁর সখ্য, তাঁর সঙ্গে ক্রিকেট ছাড়া আলাপ করাই কঠিন। তবে মাঠে যা দেখেন দর্শকেরা, তার পেছনে থাকে অনেক ত্যাগের ইতিহাস। কঠিন অধ্যবসায়, দৃঢ়প্রতিজ্ঞা আর অনেকের নীরব ত্যাগের মধ্য দিয়ে একজন ক্রিকেটারের গড়ে ওঠার ইতিহাস। অর্জুনা রানাতুঙ্গার মুখ থেকে সেই কাহিনীই শোনা হলো সেদিন।

বিশ্বকাপ জেতার আগেই জনপ্রিয়তায় শ্রীলঙ্কার শীর্ষে ছিলেন রানাতুঙ্গা। মানব-বোমার ভয় আছে, এই রসিকতা করার পরও অনেকদিন থেকেই তিনি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের প্রতীক। মিস্টার শ্রীলঙ্কার পুরো পরিবারটিই ক্রিকেটাক্রান্ত। রানাতুঙ্গারা ছয় ভাই। তার মধ্যে চারজনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন দেশের। বড় ভাই ধাম্মিকা টেস্ট ও ওয়ানডে দুটোই খেলেছেন। অর্জুনা রানাতুঙ্গার পর তৃতীয় নিশান্থা খেলেছেন ওয়ানডে। পঞ্চম সঞ্জীবা এই কদিন আগেও ছিলেন দলে। বাকি দুজন চতুর্থ প্রসন্ন ও সবার ছোট রুয়ানও খেলেছেন ক্রিকেট। এখন এঁরা দুজন যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার ক্যাবিনেট মন্ত্রী বাবা রেগি রানাতুঙ্গার কাজে সাহায্য করছেন তাঁরা। ‘রাজনীতি ও খেলার এমন সংমিশ্রণ আপনি বিশ্বের আর কোনো পরিবারে পাবেন বলে মনে হয় না’–অর্জুনা বললেন হাসতে হাসতে।

বাবাও উৎসাহ দিয়েছেন, তবে রাজনীতিতে সার্বক্ষণিক ব্যস্ততার কারণে তাঁর অনুপ্রেরণাটা ছিল পরোক্ষ। সেখানে মা নন্দিনী ছয় ছেলেকে মানুষ করে তোলার জন্য আর কোনোদিকে তাকানোর সুযোগ পাননি। ছেলেদের ক্রিকেটার করে তোলার পেছনে, রানাতুঙ্গা পরিবারকে ‘শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের ফার্স্ট ফ্যামিলি’ করে তোলায় বোরবার রাতে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আবেগের স্রোতে ভেসে যাওয়া ওই মহিলারই সবচেয়ে বড় অবদান। রানাতুঙ্গা পরিবার আগে থাকত কলম্বো থেকে ২৫ মাইল দূরের উগমপুলারনে। রানাতুঙ্গা ভাইদের স্কুল কলম্বোতে। প্রতিদিন সকালে উঠে ট্রেনে করে যেতে হতো সেখানে। রানাতুঙ্গা ভাইয়েরা যে স্কুলের ছাত্র, সেই আনন্দ স্কুল ও কলেজেরই শিক্ষয়িত্রী ছিলেন মা নন্দিনী।

ছেলেদের নিয়ে সকালে স্কুলে যেতেন। স্কুল শেষ হওয়ার পর শুরু হতো ক্রিকেট। ছেলেরা খেলা শেষ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা, তারপর তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে ফেরা। রাতের খাবার তৈরি করে সবাইকে খাইয়ে-দাইয়ে যখন শুতে যাওয়ার সময় হতো, তখন জেগে ওঠার সময়টা মাত্র ঘণ্টা তিনেক দূরে। ‘মায়ের জন্যই আমরা এখানে আসতে পেরেছি। মার সব চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে এখন। এটা বয়সের জন্য হয়নি বলেই আমার ধারণা। এটা হয়েছে আমাদের ছয় ভাইকে বড় করতে গিয়ে’– গলাটা একটু ভেজা শোনাচ্ছিল শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের।

রানাতুঙ্গা পরিবার এখনও খুব ঘনিষ্ঠ। এখন সবাই একসঙ্গে থাকা হয় না, কিন্তু সম্পর্ক এখনও অটুট, প্রায় প্রতিদিনই দেখা হয় তাঁদের। শ্রীলঙ্কায় থাকার সময়টা মায়ের সঙ্গে অর্জুনা রানাতুঙ্গার দেখা হওয়ার ক্ষেত্রে ওই ‘প্রায়’ শব্দটাও থাকে না। প্রতিদিন অন্তত একবার দেখা হবেই মা ও ছেলেতে। এখন প্রাচুর্যের মধ্যেই বসবাস। তবে বড় কঠিন সময় গেছে এই পরিবারটির। ১৯৭৭ সালটা এক বিভীষিকার মতো হয়ে আছে তাদের জন্য। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পর সেবার শ্রীলঙ্কার সাধারণ নির্বাচনে হেরে যায় শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের ফ্রিডম পার্টি (এখন পিপলস পার্টি)। রেগি রানাতুঙ্গা প্রিনাঙ্গুড়া নামক আসনে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছিলেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বিরোধী দল রানাতুঙ্গাদের বাড়ি-গাড়ি, যা কিছু ছিল, সব পুড়িয়ে দেয়। রাতারাতি পথে বসা রানাতুঙ্গারা আসলে একটু বসারও সুযোগ পায়নি। জীবনের ভয়ে পুরো পরিবারকে তখন পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। পরিবারের একেকজন ছিটকে পড়ল একেক দিকে। রানাতুঙ্গা ভাইরা আলাদা হয়ে পড়লেন। কেউ হয়তো হোটেলে, কেউ বা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিলেন। সে এক চরম দুঃসময়। তবে এখন সেই ভয়ঙ্কর সময়টারও একটা ইতিবাচক দিক খুঁজে পান অর্জুনা রানাতুঙ্গা। তাঁর প্রবাদপ্রতিম মানসিক দৃঢ়তাটা বীজ বোনা হয়েছিল তখনই। 

হোটেলরুমে যখন রানাতুঙ্গার সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখনো কেউ জানে না পরদিন শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। ছবি: দ্য হিন্দু

হোটেল রুমে যখন রানাতুঙ্গার সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখনও কেউ জানে না, পরদিনই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে শ্রীলঙ্কা। তবে যতটুকু জানা ছিল, ফাইনালে খেলছে শ্রীলঙ্কা, তাতেই খুশি অধিনায়ক ফিরে গেলেন তাঁর ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় এক স্মৃতির সামনে: ‘আমি তখন আনন্দ কলেজের অনূর্ধ্ব-১৪ দলের অধিনায়ক। ম্যাচ খেলতে যাব, আমরা ক্রিকেট কিট্স, গেঞ্জি, ট্রাউজার কিচ্ছু নেই। বাড়ি, গাড়ির সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ওগুলোও। তখন আমার গায়ে দেওয়ার জন্যই কোনো রকম একটা শার্ট-প্যান্ট ছাড়া কিছুই নেই। ম্যাচের দিন সকালে কোচ দলের অন্য সবাইকে বললেন তাদের কিটস বের করতে, এরপর আমাকে বললেন সেগুলো থেকে আমার পছন্দমতো বেছে নিতে। আমার মায়ের মতো, আমার কোচের মতো, এ রকম আরও অন্যান্য ভাইবোনের নীরব অবদানের কারণেই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট এখানে এসেছে। আজ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দিনটির আগে আমি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।’

১৯৭৭ সালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ার আট বছর পর ১৯৮৫-তে এসে কলম্বোতে আবার একটি বাড়ি করতে পারেন বাবা রেগি রানাতুঙ্গা। আবার পুরো পরিবার আসে এক ছাদের নিচে। ‘আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন এটি’– রানাতুঙ্গার এই মন্তব্যে এখন সংশোধনী প্রয়োজন। এখন সেই দিনটিকে ছাড়িয়ে গেছে ১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ। ‘কাল বিশ্বকাপ জিততে পারলে ওটাই হবে সবচেয়ে স্মরণীয় মূহুর্ত’–এটা তো নিজেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে শ্রীলঙ্কার অভিষেক টেস্টেই খেলেছিলেন সেই সময়ে স্কুলছাত্র অর্জুনা, এরপর ১৪ বছর ধরে হয়ে আছেন দলের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবারকে সময় দিতে পারেননি, অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর মাঠের বাইরের সময়টাও ব্যস্ত থাকতে হয়েছে নানা কাজে। ক্যাপ্টেনসি মাঠেই শেষ হয়ে যায়। তবে মাঠের বাইরে পড়ে থাকে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। সেগুলো করতে করতে ছেলে থিয়ান ধনাঞ্জয় কখন সাড়ে ছয় বছরের হয়ে উঠল, তা টেরই পাননি রানাতুঙ্গা।

স্ত্রী আর পুত্র-কন্যার সঙ্গে অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ছবি: আইল্যান্ডক্রিকেট

বিয়ে করেছেন মামাতো বোনকে। অর্জুনা আর সামোদরার সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে তিয়াঙ্গি উত্তরার বয়স আড়াই। সন্তানদের কথা বলতে বলতে আবেগ ছুঁয়ে যায় রানাতুঙ্গাকে, ‘ছেলেটাই আমাকে বেশি মিস করেছে। ওর যখন জন্ম, তখন আমি বেশিরভাগ সময়ই ট্যুরে। মেয়েটাকে বরং একটু একটু চোখের সামনেই বড় হতে দেখেছি। কারণ গত দুই-আড়াই বছর দেশেই বেশি খেলেছি আমরা। ট্যুর করলেও তা কাছাকাছি, ভারত বা পাকিস্তানে।' মায়ের পর স্ত্রীর কাছে তাঁর কৃতজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি। ছেলে-মেয়েকে বাবার অভাব যতটা কম বুঝতে দেওয়া যায়, সেজন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন তিনি। ছেলে অবশ্য বাবার পথেই এগোচ্ছে। ছয় মাস বয়সে মার কোলে শুয়ে প্রথম টেস্ট ম্যাচ দেখা থিয়ান যে ক্রিকেটের নেশায় জড়াবে, তাতে আর আশ্চর্য কী! এই বয়সেই খেলা ভালোই বুঝে ফেলেছে সে। বাজে শট খেলে আউট হলে রানাতুঙ্গা সবচেয়ে ভয়ে থাকেন ছেলেকে নিয়েই। ‘ও সময় এই শট তুমি কেন খেললে’– দেখা হতেই  থিয়ানের এই প্রশ্নের জবাব তো দিতে হবে!

ছেলে-মেয়েদের আরেকটু সময় দেওয়ার জন্যই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। বিশ্বকাপ জিতেই তা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এখনও দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার মতো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠেনি কেউ। তাই নির্বাচকেরা নিষেধ করেছেন তাঁকে। অরবিন্দ ডি সিলভা অধিনায়কত্বের ব্যাপারে খুব আগ্রহী নন। দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে বাড়তি চাপ ছাড়াই খেলতে দেওয়ার যুক্তিটাও আছে। রানাতুঙ্গা তাই রোশান মহানামা ও হাশান তিলকরত্নের মধ্যে একজনকে গড়ে তোলার কাজে নেমেছেন। সেটা সম্পূর্ণ হলেই ছুটি, তবে তা শুধুই অধিনায়কত্ব থেকে। আগামী বিশ্বকাপেও খেলতে চান। অধিনায়ক নয়, শুধুই খেলোয়াড় হিসেবে।

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে তাঁর অবদান নিয়ে একদিন অনেক কথা লেখা হবে। অ্যালান বোর্ডার যে ধ্বংসস্তূপ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলায় এত কৃতিত্বের দাবিদার, রানাতুঙ্গা তো তার চেয়েও বেশি করেছেন। অস্ট্রেলিয়া আর শ্রীলঙ্কা তো দুই মেরুর দুই দেশ। রানাতুঙ্গাদের মাঠের প্রতিপক্ষের আগেই তো লড়তে হয়েছে ভয়াবহ এক শত্রু দারিদ্র্যের সঙ্গে। শ্রীলঙ্কার এই দলের মাত্র তিনজন রোশান মহানামা, অরবিন্দ ডি সিলভা আর অশাঙ্ক গুরুসিনহা কলম্বোর সচ্ছল পরিবার থেকে এসেছেন। বাকি সবাই কলম্বোর বাইরের এবং শ্রীলঙ্কায় কলম্বোর বাইরে শুধুই দারিদ্র্য। ‘অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আমাদের ক্রিকেটের সংগ্রামটা আলাদা। আমার বলতে মোটেও লজ্জা নেই যে এই দলের তিন-চারজন খেলোয়াড়ের থাকার মতো মোটামুটি একটা বাড়ি পর্যন্ত নেই’– রানাতুঙ্গা নামগুলোও বললেন। বিশ্বকাপ জয়ে এই অবস্থার নিশ্চিত পরিবর্তন ঘটবে। গত দেড়-দুই বছরের সাফল্যেই শ্রীলঙ্কার মানুষ ‘ক্রিকেটে খায়’ ‘ক্রিকেটে ঘুমায়’ বলার পর ‘এমনকি ক্রিকেটে টয়লেট করে’ বলে হেসে উঠলেন রানাতুঙ্গা।

শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ের পরমুহূর্তের ছবি। যে জয়ে রয়েছে লেখা আছে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার গল্প। ছবি: গেটি ইমেজেস

বাবার মতো রাজনীতিতে নামার ইচ্ছে নেই। থাকলে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদদের সর্বনাশ হয়ে যেত। বিশ্বকাপ জয়ের আগেই তিনি শ্রীলঙ্কায় জনপ্রিয়তম মানুষ। বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন যে তিনি প্রায় ঈশ্বরের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন, তা অনুমান করা যায় সহজেই। তবে রানাতুঙ্গা নিজেকে অমন উচ্চতায় তুলে রাখতে চান না বলেই ট্যাক্সি ড্রাইভার থেকে শুরু করে একবারে উঁচুতলার মানুষটি পর্যন্ত তাঁর এই জনপ্রিয়তা। সাধারণ মানুষদের বাড়িতে যান, তাঁরা যা খান, তা-ই খান। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে কলম্বোতে এক ট্যাক্সি ড্রাইভারকে রানাতুঙ্গার কথা বলতে না বলতে আবেগে চোখ টলমল করে ওঠার অভিজ্ঞতা তো নিজেরই আছে।

রানাতুঙ্গা নিজে যখন সেসব অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন, তাঁর কণ্ঠটা কেঁপে উঠছিল আবেগে, ‘আমি আজ যেখানে পৌঁছেছি, তার পেছনে সাধারণ মানুষের অবদানই সবচেয়ে বেশি। যাদের থাকার একটা ভালো বাড়ি নেই, ঠিকমতো খাওয়ার সংস্থান নেই, তারাই আমার দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি যখন কলম্বোর বাইরে যাই, আমার বাবার বয়সী, মায়ের বয়সী মানুষগুলো যেভাবে আমার সঙ্গে কথা বলে, যেভাবে আমাকে নিজের ছেলের মতো বুকে জড়িয়ে ধরে, তার তুল্য কোনো কিছু তো আমি টাকাপয়সা, প্রতিপত্তি, সম্মান কিংবা অন্য কিছুর মধ্যেই খুঁজে পাই না। এর মূল্য টাকার অঙ্কে লেখা সম্ভব নয়।’ শুনতে শুনতে মাঠের মধ্যে দেখা ওই ডাকাবুকো অধিনায়ককে একটু অচেনাই লাগছিল।

ওই যে অমূল্য ভালোবাসায় তাঁকে সিক্ত করেছে শ্রীলঙ্কার মানুষ, সেই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে একটা ছোট্ট জিনিস তাদের উপহার দিয়েছেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা।

বিশ্বকাপ!

 

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের 'মা'