ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাকিবই কি কলকাতার লাকি চার্ম?
কোয়ালিফায়ার ম্যাচটা জিতিয়ে নায়ক হওয়ার সুযোগ ছিল সাকিবের। পারেননি তিনি, উল্টো দলকে ফেলে গিয়েছিলেন কঠিন এক সমীকরণের সামনে। শেষমেশ ২ বলে ৬ রানের সমীকরণটা যে রাহুল ত্রিপাঠি মেলাতে পারলেন, তাতে বোধ হয় ওই `লাকি চার্ম` কথাটাই আরও সত্য হয়ে উঠেছে। কলকাতার জন্যে সাকিব তো `লাকি চার্ম`-ই।
'আমরা যে দুইবার শিরোপা জিতেছি দুইবারই সাকিব দলের অংশ ছিল। তাই সে আমাদের জন্য অনেকটাই লাকি চার্ম।' এবার মৌসুম শুরুর আগে কথাগুলো বলেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম মালিক জুহি চাওলার কন্যা জাহ্নবী।
আজকের ম্যাচের পরে কি জাহ্নবীর কথাটাই সত্যি বলে প্রমাণিত হলো? ম্যাচ শেষের চার ওভার আগেও যেখানে ভাবা হচ্ছিল কলকাতার সহজ জয়ের কথা, সেই ম্যাচটাই পরের ২৪ বলে কলকাতার হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল প্রায়। শেষমেশ রাহুল ত্রিপাঠির ছক্কায় ঠিকই জিতল কলকাতা, তবে সেখানে ভাগ্যেরও সহায়তা মিশে থাকল অনেকখানি। ওই ভাগ্যের ছোঁয়াটাই কি সাকিব নিয়ে এসেছেন সঙ্গে করে? এ মৌসুমের ফাইনালে ওঠা আর অতীত পরিসংখ্যান... দুটো একত্রে করলে তো তেমনটাই দাঁড়াচ্ছে।
২০১১-তে কলকাতার হয়ে সাকিবের অভিষেক। সেই থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কলকাতায় খেলেছিলেন সাকিব। ২০১২ ও ২০১৪ সালে দলকে জিতিয়েছেন শিরোপা। ২০১৭ সালে তাঁকে আর দলে রাখেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি, এরপর আর শিরোপার দেখা তো দূরে থাক, ফাইনালের মুখও দেখেনি কলকাতা।
সেই আক্ষেপ ঘুচানোর লক্ষেই কলকাতা এ মৌসুমে দলে ফিরিয়ে আনে সাকিবকে। কি অদ্ভুত! শিরোপা থেকে এখন মাত্র একটা সিঁড়ি দূরে তারা!তবে ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে শুধু 'লাকি চার্ম' হয়েই নয়! সুযোগ ছিল, ম্যাচের নায়ক হবার।
কারন ১৩৬ রানের জবাবে ৯৬ রানে প্রথম ব্যাটসমান হিসেবে আইয়ার আউট হলে ব্যক্তিগত ১৩ রানে নীতিশ রানাও ফিরে যান প্যাভিলিয়নে।
১৭ এবং ১৮ নম্বর ওভারে মাত্র তিন রানে দুই উইকেট হারায় কেকেআর। ৪৬ রান করে গিল প্যাভিলিয়নে ফেরার পর, শুন্য রানেই প্যাভিলিয়নে ফিরেন দীনেশ কার্তিকও। ২৪ বলে ১৩ রানের ম্যাচে সমীকরণটা হঠাৎ করেই দাঁড়ায় ১২ বলে ১০ রানে! আনরিখ নোর্খিয়ের করা ১৯তম ওভারে কেকেআর তুলতে পারে মোটে তিন রান; টানা দুই বল ডট করার পর শুন্য রানেই বোল্ড হন অধিনায়ক এউইন মরগানও।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ৭ রান। ওই ওভারেই ক্রিজে আসেন সাকিব। তবে রবীচন্দ্রন অশ্বিনের ২ বল খেলেও রানের খাতা তো তুলতে পারেনইনি, উল্টো এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে দলকে ফেলে গিয়েছিলেন আরও বিপদে। তাঁর পরপরই ফেরত আসেন সুনীল নারাইনও। কলকাতার হেরে যাওয়াটাই যখন সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ফল, তখনই ২ বলে ৬ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন ত্রিপাঠি। তাঁর ছয়েই ফাইনালে কলকাতা, পাশাপাশি রক্ষা পায় সাকিবের লাকি চার্ম তকমাও। যে তকমা নিজেই রক্ষা করতে পারতেন তিনি!
এর আগে ফাইনাল নিশ্চিতের লক্ষ্যে শারজায় হাই ভোল্টেজ ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান তোলে দিল্লি। গত আসরের ফাইনালিস্টরা ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও ব্যাটসমানরা বড় ইনিংস খেলতে না পারায় দিল্লি কাঙ্ক্ষিত পুঁজি পায়নি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন শিখর ধাওয়ান, ৩৯ বল মোকাবেলায়। এছাড়া শ্রেয়াস আয়ার ২৭ বলে অপরাজিত ৩০ ও পৃথ্বী শ ১২ বলে ১৮ রান করেন।
কলকাতার পক্ষে বরুণ চক্রবর্তী শিকার করেন দুটি উইকেট। সাকিব আল হাসান ও সুনীল নারাইন যথাক্রমে ২৮ ও ২৭ রান খরচ করেন ৪ ওভারের কোটা পূর্ণ করে, কেউই এদিন পাননি উইকেটের দেখা। বোলার সাকিবের পারফরম্যান্সকে অসাধারণ বলা না গেলেও পঞ্চম বোলার হিসেবে অধিনায়কের চাহিদা ঠিকই মিটিয়েছিলেন।
সাকিবকে ফাইনালে কলকাতা পাবে কি না, এ নিয়ে এখনো আছে অনিশ্চয়তা। ইতিহাস অবশ্য সাকিবকে রেখেই দিতে বলে। সাকিবকে ছাড়া কলকাতা কোনো ফাইনাল খেলেনি, আর হারেওনি!