• ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের এটি ১৬তম আসর। ৬১ বছর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসরটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে, ফ্রান্সে।

• ইউরোর ইতিহাসে মাত্র তিনবার টুর্নামেন্টের যৌথ আয়োজক ছিল ২টি দেশ। ২০০০ সালে বেলজিয়াম-হল্যান্ড, ২০০৮-এ অস্ট্রিয়া-সুইজারল্যান্ড এবং ২০১২-তে পোল্যান্ড ও ইউক্রেন। কিন্তু এবারই প্রথম টুর্নামেন্ট হচ্ছে ইউরোপের ১১টি দেশের ১১টি ভেন্যুতে।

১৯৯২ ইউরোতে ডেনমার্কের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়াটা যেন রূপকথার গল্প

• উড়ে এসে জুড়ে বসার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল ডেনমার্ক ১৯৯২ ইউরোয়। যুগোশ্লাভিয়া ‘ডিসকোয়ালিফাইড’ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টের দরজা খুলে গিয়েছিল ডেনমার্কের। সবাইকে চমকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নেয় হেনরিক লারসেনদের ডেনমার্কই।

• ইউরোয় সবচেয়ে দুর্ভাগা দল যুগোশ্লাভিয়া! শুধু ১৯৯২ টুর্নামেন্টে ‘ডিসকোয়ালিয়াইড’ হওয়ার জন্যই নয়, দলটিকে দুর্ভাগা বলার কারণ, দুবার ফাইনালে উঠেও একবারও শিরোপার দেখা না পাওয়া। দুটি ফাইনাল খেলে শিরোপাশূন্য থাকার দুর্ভাগ্য হয়নি আর কোনো দলের।

• একই গ্রুপের দুই দলের ফাইনালে ওঠাটা সচরাচর দেখা না গেলেও তা বিরল নয়। ১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোর ফাইনাল খেলেছিল একই গ্রুপের দুই দল। পরে তার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে ১৯৯৬, ২০০৪ ও ২০১২ সালেও। 

• এর মধ্যে ২০০৪ ইউরোতে ঘটেছিল অনন্য ঘটনা। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই দল পর্তুগাল ও গ্রিসের আবারও দেখা হয়েছিল ফাইনালে। দুবারই জিতেছিল গ্রিস। গ্রিসের সেই শিরোপাজয় ইউরোর সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত।

১৯৮৪ ইউরোতে এক টুর্নামেন্টেই ৯ গোল করেছিলেন ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি

• ৯টি গোল নিয়ে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি ও পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মজার ব্যাপার, ৯টি গোল করতে রোনালদোকে খেলতে হয়েছে যেখানে চারটি আসর (২০০৪, ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৬), সেখানে প্লাতিনি এক আসরেই (১৯৮৪) করেছিলেন ৯ গোল! তা-ও আবার মাত্র পাঁচ ম্যাচে।

• ইউরোর দুই আসরে কমপক্ষে ৩টি করে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাঁর এই ৩টি করে গোল ২০১২ ও ২০১৬ ইউরােতে। প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে দিই, ২০০৪ ইউরোতে ২ গোল করেছিলেন রোনালদো, ২০০৮ ইউরোতে ১টি।

• পানেনকা পেনাল্টি কিক-কথাটার সঙ্গে কমবেশি সব ফুটবলপ্রেমীই পরিচিত। ১৯৭৬ ইউরোর ফাইনালে চেকোশ্লোভাকিয়ার আন্তোনিন পানেনকা পেনাল্টি নিতে নিয়ে বুটের ডগা দিয়ে বল ওপরে তুলে জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন, যেটিতে নিশ্চিত হয় জার্মানির হার। এরপর থেকে এ ধরনের পেনাল্টির নামই হয়ে যায় 'পানেনকা'।

দুটি ফাইনালে গোল করেছেন একমাত্র স্পেনের ফার্নান্দো তোরেসই

• ইউরোর দুটি ফাইনালে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় ফার্নান্দো তোরেস। ২০০৮ ও ২০১২ ফাইনালে গোল করেছিলেন এই স্প্যানিয়ার্ড।

• খেলোয়াড় হিসেবে ইউরো জিতেছেন—এমন একজনই এবারের ইউরোতে আছেন কোচ হিসেবে। ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম।

• বিশ্বকাপ ও ইউরো কিংবা ইউরো ও বিশ্বকাপ—টানা দুটি টুর্নামেন্ট জয়ের কৃতিত্ব আছে তিন দলের, পশ্চিম জার্মানি (ইউরো ১৯৭২, বিশ্বকাপ ১৯৭৪), ফ্রান্স (বিশ্বকাপ ১৯৯৮ ও ইউরো ২০০০) এবং স্পেন ( ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০, ইউরো ২০১২)। এবার জিতলে স্পেনের পর টানা দুটি টুর্নামেন্ট জয়ের কীর্তি গড়বে ফ্রান্সও।