রাসেল এনডিন, অ্যান্ড্রু হিলডিচ, মহসিন খান, ডেসমন্ড হেইন্স, গ্রাহাম গুচ, স্টিভ ওয়াহ ও মাইকেল ভন। 

নামগুলো আবার পড়ে নিন। এবার বলুন, এঁদের মধ্যে কী মিল?

কিছু নাম তো আপনার খুবই চেনা। হেইন্স, গুচ ও স্টিভ ওয়াহ, ভন....মহসিন খানকেও হয়তো অনেকে মনে রেখেছেন। সুদর্শন পাকিস্তানি ওপেনার, বলিউডের নায়িকাকে বিয়ে করে নিজেও যিনি সিনেমায় নতুন ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রথম দুজনকে একটু অচেনা লাগতেই পারে। তাহলে কি তাঁদের পরিচয়টা দিতে নেব? রাসেল এনডিন পঞ্চাশের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার। আর অ্যান্ড্রু হিলডিচ সত্তরের দশকে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার।

টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড় শতাব্দীর ইতিহাসে ছোট্ট একটি জায়গা বরাদ্দ শুধু এই সাতজনের জন্যই। এরা সবাই আউট হয়েছেন বিচিত্র এক উপায়ে। হাত দিয়ে বল ধরার অপরাধে! ক্রিকেটীয় ভাষায় যে আউটের নাম, 'হ্যান্ডলড্ দ্য বল'। তালিকাটা চিরদিন এই সাতজনেরই থাকবে। কারণ ক্রিকেটে 'হ্যান্ডলড্ দ্য বল' আউটই বিলুপ্ত হয়ে গেছে ২০১৭ সালের নভেম্বরে। ক্রিকেটের আইন প্রণেতা এমসিসি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এরপর থেকে কেউ হাত দিয়ে বল ধরার অপরাধে আউট হতে পারেন, তবে তা আর স্বতন্ত্র কোনো ডিসমিসালের ঘরে যাবে না। সেটি বিবেচিত হবে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউট হিসেবে। টেস্ট ইতিহাসে যে আউট হয়েছেন শুধুই একজন।

হাত দিয়ে বল ধরার অপরাধে 'অপরাধী' ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কথা বলতে বলতেই এক সময় আমরা সেখানে আসব। শেষের জনকে দিয়েই কথা শুরু করা যাক। তালিকায় সর্বশেষ এবং একই সঙ্গে শেষ সংযোজন মাইকেল ভনের ঘটনা ২০০১ সালের ডিসেম্বরে। ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরু টেস্টে সুইপ করতে গিয়ে বল উঠে গিয়েছিল সোজা ওপরে। সেটি তাঁর হাত আর প্যাড হয়ে মাটিতে পড়ার পর তিনি তা তুলে শর্ট লেগ ফিল্ডারকে দিতে গিয়েছিলেন। ভারতীয়রা আপিল করায় আম্পায়ার আঙুল তুলতে বাধ্য হন। ভন অনুমিতভাবেই খুব অসন্তুষ্ট জন, পরে এটিকে 'খেলার চেতনাবিরোধী' বলেও দাবি করেন।

স্টিভ ওয়াহর ঘটনাটাও ওই একই বছরে। তর্কযোগ্যভাবে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সিরিজে। ভেংকট লক্ষ্মণের ২৮১-তে অমর হয়ে থাকা সেই ২০০১ ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। চেন্নাইয়ে সিরিজের শেষ টেস্টে স্টিভ ওয়াহর 'হ্যান্ডলড্ দ্য বল' আউট হওয়াতেই বদলে গিয়েছিল পুরো ম্যাচের গতিপথ। আসলে তো সিরিজেরই। চেন্নাই তো শুরু হয়েছিল ১-‌১ স্কোরলাইন নিয়ে। হরভজন সিংয়ের বল সুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ স্টিভ ওয়াহর প্যাডে বল লাগতেই সমস্বরে এলবিডব্লুর আবেদন করেছিলেন ভারতীয় ফিল্ডাররা।

স্টিভ ওয়াহ হ্যান্ডলড্ দ্য বল আউট হলেন বলে....। চেন্নাই, ২০০১

উদ্বিগ্ন দৃষ্টির পুরোটাই আম্পায়ারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নিবন্ধ থাকায় স্টিড ওয়াহ আর বলের দিকে খেয়াল করেননি, বল উইকেটের দিকে যাচ্ছে দেখে নন স্ট্রাইকার ম্যাথু হেইডেন চিৎকার করে সাবধান করেন তাঁকে। চমকে যাওয়া স্টিভ ওয়াহর হাত রিফ্লেক্স অ্যাকশনে এগিয়ে যায় বলের দিকে। নিয়মটা তাঁর জানা, কিন্তু তারপরও হাত সরিয়ে নেওয়ার আগেই সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে যায়। টেস্ট ক্রিকেটে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে হ্যান্ডলড্ দ্য বল আউটের শিকার হয়ে যান অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক।

টেস্ট ক্রিকেটের এত বছরের ইতিহাসে মাত্র সাতটি উদাহরণ। 'বিরল আউট' বোঝাতে আর কিছু বলারই প্রয়োজন পড়ছে না। বিরল ঠিক আছে, তবে বিরলতম বলা যাচ্ছে না। কারণ ক্রিকেটে ১০টি আউটের (এখন নয়টি) মধ্যে ‘টাইমড আউট' (ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে পরের ব্যাটসম্যানের নামতে না পারা) এবং 'হিট দ্য বল টুয়াইস’ (ব্যাট দিয়ে দুবার বল মারা) এখনো দেখেইনি টেস্ট ক্রিকেট ।

'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' (ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া) আউটটিও যে স্কোরকার্ডে মাত্র একবারই লেখা হয়েছে, তা তো আগেই বলেছি। । যাঁর নামের পাশে লেখা হয়েছে, তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ইংল্যান্ডের স্যার লেন হাটন। মজার ব্যাপার হলো, 'হ্যান্ডলড দ্য বল' আউট হওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান রাসেল এনডিনও জড়িয়ে আছেন 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউটের একমাত্র উদাহরণটির সঙ্গে। যে ওভালে ৩৬৪ রানের সে সময়কার বিশ্ব রেকর্ডটি গড়েছিলেন লেন হাটন, ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার অপরাধে আউটও হয়েছেন সেখানেই। ১৯৫১ সালের সেই ওভাল টেস্টেই অভিষেক রাসেল এনডিনের। হাটনের রান তখন ২৭, অফ স্পিনার অ্যাথল রোয়ানের বল তাঁর ব্যাটে লেগে উঠে যায় শূন্যে, কিন্তু হাটন ব্যাট দিয়ে বলটিকে সরিয়ে দেওয়ায় সেভাবে তা ধরার চেষ্টাই করতে পারেননি এনডিন। দক্ষিণ আফ্রিকান ফিল্ডারদের সমস্বরে আপিলের জবাবে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউটটি দিতে বাধ্য হন আম্পায়ার ডাই ডেভিস।

 উইকেটকিপারকে ক্যাচ ধরতে না দেওয়ার 'অপরাধে' আউট লেন হাটন। টেস্ট ক্রিকেটে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউটের একমাত্র ঘটনf। ওভাল, ১৯৫১

তখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে হাত দিয়ে বল ধরার অপরাধে আউট হননি কোনো ব্যাটসম্যান। ভাগ্যের কী পরিহাস, বছর ছয়েক পর প্রথম যা হলেন হাটনের হ্যান্ডলড দ্য বল আউট হওয়ার কারণ সেই রাসেল এনডিন! ১৯৫৬-৬৭ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৩৮৫ রান করতে পারলে সিরিজে সমতা আনতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা—এমন অবস্থায় চতুর্থ দিন শেষে স্বাগতিক দলের স্কোর ২ উইকেটে ৪১। এনডিন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানের একজন। শেষ দিন সকালে ৪০ মিনিট ব্যাট করেও আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে কিছু যোগ করতে পারলেন না। এরপরই টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার জিম লেকারের একটি বল প্যাড আপ করলেন। বল উঠে গেল শূন্যে। এনডিন হাত দিয়ে সরিয়ে না দিলে হয়তো তা স্টাম্পেই পড়ত।

বেশ কয়েক বছর পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনডিন যা বলেছিলেন, তা স্টিভ ওয়াহর ঘটনাই। তিনি যা করেছিলেন, তা রিফ্লেক্স অ্যাকশন থেকেই—এ কথা জানানোর পর এতে যে তাঁর হকি ব্যাকগ্রাউন্ডের কোনো ভূমিকা নেই, এটা জানানোও কর্তব্য মনে করেছিলেন। হকির কথা বলার কারণ ছিল, ক্রিকেটের মতো হকিতেও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন এনডিন। শুধু প্রতিনিধিত্বই করেননি, নেতৃত্বও দিয়েছেন দেশকে। তারপরও প্রশ্ন জাগে, ক্রিকেটে হ্যান্ডলড্ দ্য বল আউট হওয়ার সঙ্গে হকির কী সম্পর্ক? সম্পর্ক হলো, ওই সময়ে হকিতে বল হাতে ধরে তা পায়ের কাছে নিশ্চল করে রাখা আইনসিদ্ধ ছিল!

স্যার লেন হাটন যেমন 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউট হওয়ার পর আর কোনো সঙ্গীই পাননি, এনডিনও তেমনি নিঃসঙ্গ ছিলেন প্রায় ৩২ বছর। ৩২ বছর পর যে সঙ্গী পেলেন, সেজন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার সরফরাজ নেওয়াজের অখেলোয়াড়োচিত আচরণের। 'হ্যান্ডলড্ দ্য বল' আউট হওয়া সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে বাকি ছয়জনই বলে হাত লাগিয়েছেন আউট হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে (মাইকেল ভনের যদিও অন্য দাবি)। কিন্তু বেচারা হিলডিচকে তাঁর সৌজন্যের জবাবে পেতে হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড। যে কারণে অন্যরা যেখানে 'এটা কী করলাম' ভেবে হতচকিত হয়ে মাঠ ছেড়েছেন, অ্যান্ড্রু হিলডিচ তা ছেড়েছেন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে।

ছবিটা সম্ভবত টিভি থেকে নেওয়া। তবে এটুকু অন্তত বোঝা যাচ্ছে, অ্যান্ড্রু হিলডিচ ভদ্রতা করেই বলটা তুলে দিতে চেয়েছিলেন বোলার সরফরাজের হাতে। মেলবোর্ন, ১৯৮১

পার্থে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান সেই টেস্টের আগেই দুদলের সম্পর্কে এমন দাঁড়িয়েছিল যে, টেনেটুনেও সেটিকে মোটামুটি বলা যাচ্ছিল না। জয়ের জন্য ২৩৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে রিক ডার্লিংয়ের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ৮৭ রান তুলে ফেলার পর হিলডিচ শিকার ওই কলঙ্কজনক ঘটনার। ডার্লিংয়ের খেলা সরফরাজ নেওয়াজের একটি বল সোজা সিকান্দার বখতের হাতে চলে যেতে দেখে রান নিতে গিয়েও নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে ফিরে আসেন হিলডিচ। স্টাম্পে থ্রো করতে গিয়ে রান আউটের সম্ভাবনা নেই দেখে সিকান্দার বখতও আর ঝুঁকি নেননি, বোলারের দিকে ফিরিয়ে দেন বল। সামনে দিয়ে গড়িয়ে যাওয়া সেই বল তুলে সরফরাজকে দিতে গিয়েছিলেন হিলডিচ, কিন্তু বল হাতে না নিয়ে তারস্বরে আপিল করতে শুরু করেন সরফরাজ। পাকিস্তান অধিনায়ক মুশতাক মোহাম্মদ এই আপিল প্রত্যাহার করে নেবেন—সম্ভবত এটা আশা করেই বেশ কিছুক্ষণ নিশ্চল ছিলেন আম্পায়ার টনি ক্রাফটার । কিন্তু মুশতাকও তার বোলারের অভব্য আচরণের প্রতি মৌন সমর্থন জানালে বাধ্য হয়েই তর্জনী তুলে দিতে হয় তাঁকে।

‘হ্যান্ডলড্ দ্য বল'-এর আউট হওয়ার পরের ঘটনাটিও এই দুই দেশের খেলাতেই এবং সেবারও মাঠের পরিস্থিতি ছিল রীতিমতো উত্তপ্ত । অস্ট্রেলিয়ার ২৮৪ রানের প্রথম ইনিংসের জবাব দিতে নামা পাকিস্তানের ওপেনার মহসিন খানের বিপক্ষে একটি কট বিহাইন্ডের আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর অসন্তোষটা ভালোমতোই প্রকাশ করেছিলেন ফাস্ট বোলার জিওফ লসন। তাঁর সেই প্রতিক্রিয়া দেখে করাচির কলহপ্রবণ দর্শকরা প্রবল উৎসাহিত হলো, মাঠে অস্ট্রেলীয় ফিল্ডারদের প্রতি ইট আর পাথরবৃষ্টি চলল কিছুক্ষণ। টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ বলটিতে ব্যতিক্রমী প্রতিশোধ নিলেন লসন। তাঁরই একটি বল রক্ষণাত্মকভাবে খেলে, উইকেটমুখী যাত্রা থেকে সেটিকে সরিয়ে দিতে গ্লাভস ব্যবহার করলেন মহসিন খান। পরে বলিউডে হিরো হিসেবে আবির্ভূত মহসিন খানকে ফিরতে হলো 'ট্র্যাজিক হিরো’র চেহারা নিয়ে।

এনডিন ‘হ্যান্ডলড্ দ্য বল'-এর প্রথম শিকার হওয়ার সময় আম্পায়ারকে হয়তো আইনটি বুঝিয়ে বলতে হয়েছিল। এরপর থেকে স্বাভাবিকভাবেই আর তা প্রয়োজন হওয়ার কথা নয় । আইনটি তো খেলোয়াড়দের জানা-ই! বিস্ময়কর হলো, নিজে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত ডেসমন্ড হেইন্স তা জানতেন না! '৮৩-এর বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের বদলা নিতে আসা ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ শক্ত চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছিল মুম্বাইতে, প্রথমে ব্যাটিং করে ভারত করে ফেলেছিল ৪৬৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবশ্য তাতেও খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ধাক্কাটা খেল তাঁরা শুরুতেই। কপিল দেবের বলে ফরোয়ার্ড খেলার পর সে বল যখন শূন্য পথে স্টাম্পমুখী যাত্রা শুরু করেছে, নিচু হয়ে হাত দিয়ে তা সরিয়ে দেন হেইন্স।

সুনীল গাভাস্কারের 'রানস ইন রুইনস ‘বইয়ে এই ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে আছে হেইন্সের আশ্চর্য প্রতিক্রিয়ার কথাও। তাঁকে আউট দেওয়ার পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেন হেইন্স। কারণ তিনি মনে করেছিলেন, আম্পায়ার তাঁকে এলবিডব্লু আউট দিয়েছেন। যে কারণে বলটি যে তিনি খেলেছেন মানে বল তাঁর ব্যাটে লেগেছে, তা প্রমাণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পর গাভাস্কারের এক লাইনের মন্তব্য, 'এমনকি টেস্ট খেলোয়াড়রাও যে সব সময় নিয়ম জানে না, এটিই তার প্রমাণ।'

গ্রাহাম গুচের হ্যান্ডলড্ দ্য বল আউট হওয়ার সেই দৃশ্য। বোলার মার্ভ হিউজও আছেন ছবিতে। ওল্ড ট্রাফোর্ড, ১৯৯৩

৩২ বছর বিরতির পর পাঁচ বছরের মধ্যে তিন-তিনটি ‘হ্যান্ডলড দ্য বল' আউট দেখে ফেলেছিল টেস্ট ক্রিকেট। এরপর আবার এক দশকের বিরতি। এক দশক পর গ্রাহাম গুচও নাম লেখালেন এই দলে। ১৯৯৩ অ্যাশেজ সিরিজে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ইংল্যান্ডের ম্যাচ বাঁচানোর আশা হয়ে উইকেটে ঔজ্জ্বল্য ছড়াচ্ছিল গ্রাহাম গুচের ব্যাট। ব্যাটে অনেকদিনের রান-খরা কাটিয়ে প্রথম ইনিংসে ৬৫, এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ২২৩ রানের মধ্যে তার নিজের অবদান যখন ১৩৩. তখনই সর্বনাশ। গল্পটা বাকি আউটগুলোর মতোই। মার্ভ হিউজের বল রক্ষণাত্মকভাবে খেলার পর সেটি লাফিয়ে উঠল তাঁর পেছনে। বল স্টাম্পের দিকে যাচ্ছে দেখে ডান হাত দিয়ে তা সরিয়ে দিলেন গুচ। অস্ট্রেলীয়দের আপিলে আঙুল তুলে দিতে হলো আম্পায়ার ডিকি বার্ডকে ।

গুচের ঘটনার আট বছর পর কয়েক মাসের ব্যবধানে স্টিভ ওয়াহ ও মাইকেল ভনও এই দলে যোগ দেওয়ার পর একটি প্রশ্ন কিন্তু মনে জাগতেই পারে। রাসেল এনডিনকে বাদ দিলে হাত দিয়ে বল ধরার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাকি ছয়জনই স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান, সেটাও যেন-তেন ব্যাটসম্যান নন। অথচ স্বাভাবিক বিবেচনায় যে টেল এন্ডারদের এভাবে বেশি আউট হওয়ার কথা, বিস্ময়করভাবে তাদের কেউই নেই এই তালিকায়।

লেখার শুরুতে ‘হ্যান্ডলড্ দ্য বল' প্রসঙ্গে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউটটির কথা এসেছিল। তখন থেকেই মনে হচ্ছে মহিন্দর অমরনাথের নামটা উল্লেখ না করলে লেখাটা অসম্পূর্ণ থাকবে। লেখাটা টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে, নইলে এই দুটি আউট সংক্রান্ত আলোচনায় প্রথমেই তো আসা উচিত জিমি অমরনাথের নাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষকে ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া এবং হাত দিয়ে বল ধরা—দুভাবেই আউট হওয়ার কীর্তি (!) তো একমাত্র তাঁরই। তবে জিমির এই 'ডাবল'টি টেস্টে নয়, একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে!