ওপরের ছবিটা তুলেছিলাম ১২ ডিসেম্বর ২০২০, আজ থেকে পাঁচ মাস আগে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এক রোগীকে দেখার পর।

দুটি চেম্বার, হাসপাতাল, মেডিকেল ক্যাম্পে যে কত শত রোগী দেখেছি, তবে এই ছেলেটা আলাদা বলে তার সাথে ছবি তুলে ওই মুহূর্তটাকে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। ছেলেটা আমার রুমে এসেছিল মা-বাবা, রিলেটিভসহ খুবই সিরিয়াস রোগী হিসেবে; বের হওয়ার সময় তার এই হাসি পেশাগত জীবনে আরও অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করতে এখনো উৎসাহ জুগিয়ে যায়। সেই গল্পটাই শুরু করা যাক—

সিলেটের মাউন্ট এডোরা হসপিটালের জরুরি বিভাগের সব জরুরি কাজ শেষ করে রাত শেষ হওয়ার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ওয়ার্ড বয় এসে বলল, ‘স্যার, খুবই সিরিয়াস পেশেন্ট।’

আমি আইসিউ, সিসিইউ আর এইচডিউ মাথায় রেখে রোগীর জন্য নড়েচড়ে বসলাম। ভেতরে প্রবেশ করল ১৮ বছরের তীব্র মায়াভরা মুখের একটি ছেলে, বুকে হাত রেখে কাঁপতে কাঁপতে বসল আমার সামনে। নাম জিজ্ঞেস করায় বলল, রাফাতুল বাশার রাফি। বয়স ১৮।

কী কষ্ট হচ্ছে জানতে চাওয়ায় বলল, ‘আমার Breath নিতে কষ্ট হচ্ছে; আর বুকে খুব চাপ, শুয়ে থাকতে গেলে চাপটা আরও বেড়ে যায় আর আমার হার্টবিট খুব বেশি।’

তার সমস্যা গুলো লিখতে লিখতে চিন্তা করতে থাকলাম এগুলোর কারণ নিয়ে। ১৮ বছরের সদ্য কৈশোর পেরোনো একটা ছেলের হৃদপিন্ড, ফুসফুসে এমন জটিল কোনো রোগ হওয়া স্বাভাবিক  ব্যাপার নয়। তাছাড়া রাত ৩টায় যে রোগী এরকম সমস্যা নিয়ে এসেছে, তার হৃদপিন্ডে সমস্যা না থাকলেও হৃদয় নামের গভীর জঙ্গল ঘন কালো কোনো রোগ বয়ে বেড়াচ্ছে, সেটাও তো চিকিৎসা শাস্ত্র অস্বীকার করে না।

আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান সামনে নিয়ে এগুচ্ছি; এক্সরে, ইসিজি পেপার পড়ার পাশাপাশি মনের অব্যক্ত কোনো কথা থাকলে তা-ও পড়ার চেষ্টা করছি। এর মধ্যে ছেলেটার শরীরে হাত দিয়ে দেখলাম হৃদয়ের স্পন্দন সেখানে সীমা ছাড়াচ্ছে। বাইরে মা-বাবা হাসপাতালে ভর্তির পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপ্রস্তুত সময় কাটাচ্ছে। বয়স কম বলে আমার ওপর যেন বিশ্বাসটা ঠিক রাখতে পারছেন না। পুরো পরীক্ষার পর শরীরের আর কোনো অসামঞ্জস্যতা না পাওয়ায় ছেলেটার মনের রোগ ধরতে একটা জাল ফেলার চেষ্টা করলাম। ওয়ার্ড বয়কে দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার আনতে বললাম; ছেলেটির শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ ঠিক থাকার পরও পাঁচ মিনিট অক্সিজেন লাগানোর অর্ডার দিলাম। এই পাঁচ মিনিটে তার মা-বাবাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম। ইদানীং কালের পরিবর্তন, মানসিক অবস্থা, আচরণ, খাবার-দাবার, সামাজিকতা, অস্বাভাবিকতা, ফ্যামিলি হিস্ট্রি দেখে এবং বন্ধু-বান্ধব সম্পর্কে জেনে যে তথ্য পেলাম, তাতে অনেকটাই নিশ্চিত হলাম, হৃদয়ের অতিরিক্ত স্পন্দন ছেলেটা হৃদয়ের গভীরেই লুকিয়ে রেখেছে। সেটা বের করাই হবে তার মূল ঔষধ।

পাঁচ মিনিট পরে তাকে আমার রুমে ডেকে এনে শুরু করলাম সেই রহস্য ভেদের খেলা। সে খেলায় জানতে পারলাম, মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছেলেটার আসলে তেমন কোনো খেলার সঙ্গীই নেই। সেই খেলা থেকে এক সময় এল ক্রিকেটের প্রসঙ্গ। আমার পরিচিত অনেকেই জানেন, ক্রিকেট নিয়ে আমার ফ্যাশিনেশনের গল্প। আমিও তখন চিন্তা করলাম, ক্রিকেট দিয়ে তার ভেতরে ঢুকব, আর  কাট শটে পয়েন্ট আর গালির ফিল্ডারকে ফাঁকি দেওয়ার মতো তার ভিতরের স্পন্দনকে সীমানা ছাড়া করব।

শুরু হলো দেড় ঘণ্টার টেস্ট সেশন, যার এক ঘণ্টা-ই আমরা ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করলাম। বাকি ৩০ মিনিট ক্রিকেটের বাইরের ছেলেটিকে নিয়ে, রাত ৩টায় যার বুকের চাপ বেড়ে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকের ব্যাথায় সে নেতিয়ে পড়ে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সেই এক ঘণ্টার চুম্বক অংশ লিখতে বাধ্য হচ্ছি, যদিও ক্রিকেটের গল্প তার সাথে সহজ হওয়ার জন্যই শুরু করেছিলাম। তবে তার ক্রিকেটের জন্য ভালো লাগাটা আমাকে এক ঘণ্ট। পর্যন্ত গল্পটা টানতে বাধ্য করেছিল।

রাফির ক্রিকেট প্রেমের শুরু ২০১৪ সালে। তার ছোট মামা, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকেন, তাঁর মাধ্যমে ক্রিকেটের প্রেমে পড়া; দেশের ক্রিকেটে সে মুশফিককেই সেরা মনে করে। তার চোখে দেশের ক্রিকেটে মুশফিকের সমকক্ষ কোনো ক্রিকেটার এখনও জন্মই নেয়নি | এই জায়গায় এসে তাকে প্রশ্ন করলাম, টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার কে?

সে বলল, মুশফিক।

জিজ্ঞেস করলাম, কত রান?

—২১৯*।

কার রেকর্ড ভেঙ্গে এই রেকর্ড করেছেন?

—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবের ২১৭ রানের রেকর্ড ভেঙে।

তখন ক্যাপ্টেন কে ছিল?

—মাহমুদউল্লাহ।

মুশফিক যখন অপরাজিত ২১৯, তখন কেন ডিক্লেয়ার করলেন মাহমুদুল্লাহ?

—ম্যাচ জিততে হবে, এজন্য ডিক্লেয়ার করেছে।

তখনই পাল্টা প্রশ্ন করলাম, তাহলে মুশফিক ২০০ করার পরই তো ডিক্লেয়ার করতে পারত। সাকিবের রেকর্ড পার করার জন্যই অপেক্ষা করা কেমন লাগল তোমার কাছে?

—মাহাত্ম্য চিন্তা করলে সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরি বেশি গুরুত্ব বহন করে, কারণ নিউজিল্যান্ড ভালো দল, ভালো ছিল কিউই প্রতিপক্ষ বোলাররা। তবে বোলার সাকিবকে আমি বেশি পছন্দ করি, কিন্তু এই বিশ্বকাপে সাকিবের ব্যাটিং খুব ভালো লেগেছে। 

ক্রিকেট নিয়ে গল্প করতে করতে যখন ছেলেটা সহজ হয়ে যাচ্ছে, তখন তার পছন্দের পাঁচজন ব্যাটসম্যানের নাম জানতে চাইলাম।

—বিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামসন, মুশফিকুর রহিম, বাবর আজম ও স্টিভেন স্মিথ।

মুশফিককে এই লিস্টে দেখে আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করলাম, এই লিস্টে মুশফিক কেমনে?

অপরাজিত ২১৯ রান করার পথে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর পর মুশফিকুর রহিম। ছবি: ফিরোজ আলম

রাফির উত্তরটা খুবই পছন্দ হলো। সে বলল, বিশ্ব ক্রিকেটের অনেকেই হয়তো মুশফিককে রাখবে না। জো রুট কিংবা রোহিত শর্মাকে নিয়ে ভাববে, তবে আমার কাছে মুশফিকই বিশ্বের তৃতীয় সেরা ব্যাটসম্যান।

কোহলির মতো শক্ত মেন্টালিটির ক্রিকেটারের ভক্ত যে, তার হৃদয় এত সহজে ঘাবড়ে যায় কীভাবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কোহলি কিংবা উইলিয়ামসনের কোন ইনিংসটি তার কাছে আলাদা?

১৮ বছরের ছেলের উত্তর আমাকে হকচকিয়ে দিল, ‘২০১৪ সালে জনসনের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোহলির ১৪১, আর উইলিয়ামসনের গত বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ইনিংসটা।’

মনে মনে ভাবলাম, যে ছেলে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল বিনা হৃদ্কম্পনে দেখতে পেরেছে, তার মনে হঠাৎ কিসের এত চাপ, বুকে ব্যথা! 

বিশ্বকাপ ফাইনাল প্রসঙ্গ উঠতে বলল, নিউজিল্যান্ডের হার সে কোনো কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি, যেমন মেনে নিতে পারেনি ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হার। তাছাড়া গত বিশ্বকাপের ফাইনালের বাউন্ডারির সেই নিয়মও সে মানতে পারেনি।

টেস্ট, টি-২০ আর ওডিআই-এর মধ্যে তার কোন ফরম্যাট সবচেয়ে প্রিয় জানতে চাইলে বলে—ওডিআই।

তার মতে টি-২০ খেলার মতো পাওয়ার ক্রিকেটার এই দেশে নেই আর বাংলাদেশ টেস্ট খেলা জানেই না। ওডিআই একমাত্র ফরম্যাট, যেটাকে তার সবচেয়ে ভালো লাগে। কারণ এই ফরম্যাটে ভালো করে বাংলাদেশ।
টি-২০ তে পাওয়ার ক্রিকেটার ব্যবহার করায় সেই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে ইচ্ছা হলো। বললাম, ‘বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে কাকে আলাদাভাবে নজর রাখতেছ?’ উত্তরে বলল, মাহমুদুল হাসান জয়।

নান্দনিক ব্যাটিং আর লিটন দাস সম্পর্কে জানতে চাইলে বলল, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত লিটন দাসের নাম বলিনি বলে।'

মুশফিকের পর এই একটা ক্রিকেটার যতক্ষণ ব্যাটিং করে, আমি টিভি থেকে চোখ ফিরাই না।’

জানতে চাইলাম, সিলেটে লিটন দাসের ১৭৬ হয়েছিল যে ম্যাচে, সেই ম্যাচে সে মাঠে ছিল কি না? সেই ম্যাচে আমি মাঠে ছিলাম। রাফি জানাল, সে ম্যাচের টিকিট সে মাঠে গিয়েও পায়নি। তবে মাঠে গিয়ে সে তামিমের ১৫৮ রানের ইনিংসটি উপভোগ করেছে।

তামিমের প্রসঙ্গ আসতেই জিজ্ঞেস করলাম, ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম কেমন?

রাফি বলল, তামিম বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হতে পারে, তবে সে টি-২০ আর ওডিআইয়ে বিরক্তিকর ব্যাটিং করে। মর্ডার্ন ক্রিকেটের সাথে তাঁর ব্যাটিং মানানসই নয়। শুনতে খারাপ লাগলেও তাঁর উচিত, ওডিআই বিশেষ করে টেস্টে আরও মনোযোগী হওয়া। টি-২০ তামিমের ক্রিকেট না।

১৮ বছরের রাফি বলল, 'তামিম ইকবালের উচিত ওডিআই বিশেষ করে টেস্টে আরও মনোযোগী হওয়া। টি-২০ তামিমের ক্রিকেট না।' ছবি: মো. মানিক

তামিম সম্পর্কে এই মন্তব্যে আমি জোরে হেসে উঠলাম। তামিম প্রসঙ্গ থেকে ফাস্ট বোলিংয়ে চলে গেলাম। জানতে চাইলাম, তার দেখা সেরা পাঁচ জন পেসার কে? ততক্ষণে সে আমার সাথে নিতান্ত স্বাভাবিক মানুষের মতো গল্প করে যাচ্ছে। কেউ দেখলে বলবেই না, এই ছেলে আধা ঘন্টা আগে বুকে চাপ নিয়ে ভর্তি হতে এসেছিল। ইতিমধ্যে ওয়ার্ড বয়, ব্রাদার আর ছেলেটির মা-বাবা বার বার উঁকি দিচ্ছেন আর ছেলের আচরণে আকাশ থেকে পড়ছেন।

সেরা পেসার বেছে নিতে ছেলেটা পাঁচ সেকেন্ড সময় নিল। তারপর বলল, ট্রেন্ট বোল্ট, শাহীন শাহ আফ্রিদি, মিচেল স্টার্ক, মোহাম্মদ শামি ও জফরা আর্চার/লিয়াম প্লাংকেট।

ক্রিকেটের অনেক টুকিটাকি গল্প শেষ হলো সামনে ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে। আমি ইচ্ছা করেই এ সফর নিয়ে কথা বলতে  চাচ্ছিলাম। জানতে চাইলাম, এই টেস্ট সিরিজে কোন দল প্রেসার কন্ট্রোল করতে পারবে?

রাফি বলল, ভারত প্রেসার হ্যান্ডেল করতে পারবে না। তাছাড়া তারা বিরাটকে পাবে না। অস্ট্রেলিয়া সহজে সিরিজ জিতে যাবে। ঠিক তখনই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম—‘ক্রিকেটের প্রেসার ভারত না হয় না-ই নিতে পারল, জীবনের কোন প্রেসার সে বয়ে বেড়াতে পারছে না, যার জন্য তার এই সীমাহীন হৃদ্স্পন্দন?’

প্রশ্ন করেই বুঝলাম, লেফট আর্ম অর্থোডক্স বোলারকে ব্যাক ফুটে গিয়ে কাট করে পয়েন্ট গালি দিয়ে প্লেস করে দিয়েছি। বল বাউন্ডারি আপনা-আপনি পার হবে।

হলোও তাই। পরের ২৫ মিনিট আর কোনো ক্রিকেট আসেনি। ১৮ বছরের এক ছেলে নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ভয়াবহ এক গল্প বলে গেল। বলে গেল, নিজের ভেতরের হৃদ্পিন্ডে যে লৌহপিন্ড সে একাই বয়ে নিয়ে চলেছে।। যে গল্প কেউ জানত না। যে গল্প তার মা-বাবা ঘুণাক্ষরেও চিন্তা করতে পারেনি। এত দিন সে-ই ছিল সেই গল্পের একমাত্র রচয়িতা এবং শ্রোতা। তবে আজকে নতুন একজনকে জানাতে পেরে সে তৃপ্ত, বড় একটা কোনো বোঝা নামাতে পেরে সে এখন পরিশ্রান্ত।

গল্পের শেষে আমি উঠে গিয়ে ছেলেটার হাত ধরলাম; যে হৃদ্পিন্ড সীমাহীন বেগে চলছিল, তা চলে এসেছে নিয়মের মধ্যে। ছেলেটি তখন হাসছিল। ডাক্তার হিসেবে সেটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম সোনালি মুহূর্ত। সেই মুহূর্ত ধরে রাখার লোভ আমি সামলাতে পারিনি।

প্রেসক্রিপশনে মাত্র ৩টা ওষুধ দিয়েছি আর দিয়েছি জীবনের অন্যতম সুন্দর তিন ঘণ্টা। যেগুলো সুখস্মৃতি হয়ে ফিরে আসবে। এই দেশে ডাক্তারি করতে করতে সামনে কত কসাই, কমিশনখোর ট্যাগ লাগবে; কত রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের হাত উঠবে অনায়াসে; কত শত ব্রেকিং নিউজের নিচে চাপা পড়ব, কত হাজারবার হাতে হাতকড়া পড়ে চক্কর দেব আদালত প্রাঙ্গনে, তবুও এই পেশার প্রতি মায়া জন্মাবেই। কারন রাফি না-বলা গল্প শুনিয়েছিল আমাদের। বুকে ভর দিয়ে আসা ছেলেটার মুখে হাসি দেখেছিলাম চলে যাওয়ার সময়।

রাফি অনেক সময় নিজের জন্য গুগল করে করে ওষুধ খেত; যাওয়ার সময় নিজের কার্ড আর নাম্বারটা দিয়ে বললাম, আবার গুগলের প্রয়োজন হলে যেন আমাকে নক দেয়। ক্রিকেট নিয়ে না হয় আরেকটা সেশন পার করব; ২২ গজের খেলাটা না হয় আবার হয়ে উঠবে ‘জেনারালাইজড এনক্সাইটি ডিসঅর্ডারের’ ড্রাগ অব চয়েজ।

রাফি এই পাঁচ মাসে আমাকে আর ফোন দেয়নি। আশা করি, ক্রিকেট নামের যে মনস্তাত্ত্বিক খেলাকে সে বুঝতে পেরে ভালোবাসতে পেরেছে, নিজের মনের গহীন অন্ধকারও এত দিনে দূর করে ভালো আছে। রাফি ভালো থাকুক আর আমরা ডাক্তাররা রাফিদের এই নির্মল হাসি দেখে ভালো থাকার চেষ্টা করে যাই।