সৌম্য সরকার: হ্যাঁ, আমি আগ্রাসী সৌম্যকে (স্ট্রাইক রেট ৯৭+) টানা দুই বছরের জন্য খেলার লাইসেন্স দিতে চাই। গত ৬-৭ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে তাঁর পথচলা। ৬১ ম্যাচে ৩২.১৫ গড়ে ১৭৬৮ রান। আমরা ইতোমধ্যেই জানি, সৌম্য তাঁর দিনে কতটা ভয়ঙ্কর। তাছাড়া ২০১৫ এবং ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতাটাও তাঁর পক্ষে কাজ করবে। সৌম্য, একই সাথে লিটনের ওপর ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আস্থা রাখা উচিত। সেখানেও যদি ব্যর্থ হন, তবে তাঁদের জন্য চিরকালের মতো জাতীয় দলের দুয়ার বন্ধ করে দিয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়া উচিত। বেশি বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সাইবার বুলিং এর ফলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকছে।

★ তামিম ইকবাল: আমাদের কী প্লেয়ার। সব ফরম্যাট মিলিয়ে আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান। তাঁর অবস্থান সব সময়ের জন্যই পাক্কা। তামিমই আমাদের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ানডেতে ১০,০০০ রান উপহার দেবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তবে অধিনায়ক তামিম এখনো অপরিণত। যদি সে লিড দিতে চায়, তবে এই বিষয় নিয়ে যথেষ্ট স্টাডি করা উচিত।

ওপেনিংয়ে লেখকের আস্থা তামিম-সৌম্যেই। ছবি: গেটি ইমেজেস

সাকিব আল হাসান: ২০১৯ বিশ্বকাপের সেরা পারফর্মার। ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং ১১ উইকেট। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন তিন নম্বরে ধারাবাহিক কন্ট্রিবিউশন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মহীন হলেও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে তাঁর সাবলীল খেলার সুযোগ দিতে হবে।

মুশফিকুর রহিম: আমাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। মুশফিক ৪ নম্বর পজিশন থেকে দলের জন্য তাঁর সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন। তাঁর অধ্যবসায় আমাদের জন্য বিরাট প্রাপ্তি। মুশফিক আর তামিমই মূলত আমাদের ব্যাটিং স্তম্ভ। ভালো ফলাফলের জন্য দুজনের একজনকে অবশ্যই ৪০ ওভার পর্যন্ত থাকতেই হবে।

লিটন দাস: অসাধারণ ক্ল্যাসিক্যাল একজন খেলোয়াড়। তাঁর স্কিল এবং সহজাত স্ট্রোক খেলার সামর্থ্য নিয়ে কারও কোন সন্দেহ নেই। টপ অর্ডারে সাম্প্রতিক রানখরায় তাঁকে অনেকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছেন। তবে আমি লিটনের পক্ষে। নতুন বলের সুইং খেলতে লিটনের সামান্য সমস্যা হয়, এ রকম মনে হলেও পরবর্তীতে তিনি দারুণ খেলেন। সে জন্য লিটনকে যদি ৫ নম্বরে নামানো যায়, তাহলে তিনি তাঁর ন্যাচারাল খেলাটা খেলতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। তাছাড়া লিটনের স্ট্রাইক রেট ৯০+, আর ২০১৯ বিশ্বকাপে ৫ নম্বরে নেমে ৬৯ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে অসাধারণ জয় এনে দিয়েছিলেন। আমার বিশ্বাস, তিনি ৫ নম্বর পজিশনে খেললে বাংলাদেশ টিমের শক্তিমত্তা অনেক গুণ বাড়বে।

লিটন খেলবেন পাঁচে, সাকিব গত বিশ্বকাপের মতোই তিনে। ছবি: টুইটার

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: যদিও ২০২৩ বিশ্বকাপের সময় রিয়াদের বয়স ৩৭ ছাড়িয়ে যাবে, তবুও তাঁর যে অভিজ্ঞতা, মিডল অর্ডার সামলাতে তাঁর চেয়ে ভালো আর কাউকে দেখি না। রিয়াদের সবচেয়ে ভালো গুণ হলো, যেকোনো সময় ছয় মারার ক্ষমতা। ফিনিশিং অ্যাবিলিটি আগের চেয়ে কমে গেলেও তাঁর অভিজ্ঞতা এখনো বাংলাদেশের জন্য খুব প্রয়োজন।

আফিফ হোসেন/মোসাদ্দেক হোসেন: দুজনের খেলার ধরন প্রায় একই রকম। স্পিনিং অলরাউন্ডার, তাই দুজনের মধ্যে একজনকে একাদশে রাখার পক্ষে। এই পজিশনে তাঁদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য পরম কাঙ্ক্ষিত। আমার কাছে মনে হয়, মোসাদ্দেকের তুলনায় আফিফ একটু আগ্রাসী, তবে আফিফের ফিনিশিং অ্যাবিলিটি বাড়াতে হবে। যিনিই সুযোগ পান, যেন ধারাবাহিকভাবে টানা কয়েকটা সিরিজে সুযোগ পান।

মাহমুদউল্লাহ-আফিফকে ভাবা হচ্ছে ফিনিশারের ভূমিকায়। ছবি: প্রথম আলো

মেহেদী হাসান মিরাজ: এই মুহূর্তে র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বসেরা স্পিনার। যদিও র‍্যাঙ্কিং প্রকৃত মান বোঝায় না, তবুও মিরাজ দারুণ ইকোনমিক্যাল বোলার, ইদানীং উইকেটও নিচ্ছেন বেশ। সাথে টুকটাক ব্যাটিং সামর্থ্যও আছে। তাই মিরাজের জন্য ৮ নম্বর পজিশন ফিক্সড।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: পেস বোলিং অলরাউন্ডার। বিশ্ব ক্রিকেটে পেস বোলিং অলরাউন্ডার যেকোনো দলের জন্যই দারুণ প্রাপ্তি। ২০১৯ বিশ্বকাপটাও দারুণ কেটেছিল সাইফের। ৭ ম্যাচে ১৪ উইকেটের পাশাপাশি ১ টি ফিফটিসহ করেছিলেন ৮৭ রান। সাইফের কাছে আগামী দুই বছরে আমার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা, তিনি যেন এসেই ছয় মারতে পারেন, এমন স্কিল রপ্ত করেন। রিয়াদ-আফিফদের সাথে ফিনিশারের ভূমিকাটা কিন্তু সাইফকেও পালন করতে হবে।

পেস অ্যাটাকের দায়িত্ব থাকবে এই দুজনের কাঁধেই। ছবি: প্রথম আলো

তাসকিন আহমেদ: শুরু থেকেই ছিলেন দারুণ সম্ভবনাময় গতিশীল বোলার। মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেললেও সম্প্রতি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনই ঘটেছে তাঁর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর গতি, লাইন, লেন্থ--সব কিছু দেখে মনে হয়েছে, তাসকিন আমাদের জন্য এই মুহূর্তে আগ্রাসনের অন্য নাম।

মোস্তাফিজুর রহমান: আমাদের বিশ্ব সেরা আইকনিক বোলার। কাটার, স্লোয়ার আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপে নিয়েছিলেন ২০ উইকেট। আমার বিশ্বাস টাইগারদের বল হাতে সামনে থেকে লিড দেবেন 'দ্য ফিজ'।

সব মিলিয়ে একাদশটা দাঁড়াচ্ছে এমন: তামিম, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, লিটন, রিয়াদ, আফিফ/মোসাদ্দেক, মিরাজ, সাইফউদ্দিন, তাসকিন, মোস্তাফিজ।

শুভ কামনা টিম টাইগার্স।