২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার বলে চার উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে 'ডাবল হ্যাটট্রিক' কথাটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা। চার বলে চার উইকেট ‘ডাবল হাটট্রিক' হয় কীভাবে?

ব্যাখ্যাটা হলো, প্রথম তিন বলে তিন উইকেটে একটি হ্যাটট্রিক। দ্বিতীয় বল থেকে ধরলে আবার তিন বলে তিন-আরেকটি হ্যাটট্রিক! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই প্রথম ডাবল হ্যাটট্রিক বলাতে পরিষ্কার, টেস্ট ক্রিকেটে কারও এই কীর্তি নেই। তবে পাঁচ বলে চার উইকেট আছে তিনজনের। ইংল্যান্ডের মরিস অ্যালম ও ক্রিস ওল্ড এবং পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরামের।

অ্যালমের কীর্তি টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিষেকের দিনটিতেই, সেটি (১৯২৯-৩০ মৌসুমের ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট) ছিল আবার নিউজিল্যান্ডের অভিষেক টেস্টও। অ্যালমের মেডেন অষ্টম ওভারের শেষ পাঁচ বলে চার উইকেট, দ্বিতীয় বলটি ছিল ‘ডট'। পাঁচ বলে চার উইকেট নেওয়া তিন কীর্তিমানের মধ্যে হ্যাটট্রিক হয়েছিল শুধু অ্যালমেরই। ওল্ডের সুযোগটা নষ্ট করেছিলেন তিনি নিজেই, ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে উইকেট নেওয়ার পর একটি 'নো' বল করে ফেলে। পরের দুই বলে আবার উইকেট (১৯৭৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টনে)।

এজবাস্টনে ৭-৫০ বোলিং ফিগারের পথে ক্রিস ওল্ড, ওই ইনিংসেই নিয়েছিলেন পাঁচ বলে চার উইকেট। ছবি: আইসিসি

ওয়াসিম আকরামের পাঁচ বলে চার উইকেট নেওয়ার কীর্তি ১৯৯০-৯১ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাহোর টেস্টে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছিল তাঁর এই তাণ্ডবেই। ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ডুজন ও অ্যামব্রোসকে আউট করার পর হ্যাটট্রিকও প্রায় হয়েই গিয়েছিল। চতুর্থ বলটি ইয়ান বিশপের ব্যাটের কানায় লেগে উঠে গিয়েছিল শূন্যে। সে টেস্টেই অভিষিক্ত ব্রায়ান লারার আত্মজীবনী 'বিটিং দ্য ফিল্ড'-এ লেখা হয়েছে, মিড অনে ইমরান খান ক্যাচটি 'ড্রপ' করেন। তবে উইজডেন অ্যালমানাকের রিপোর্ট বলছে, 'বিশপ এজড্ দ্য বল জাস্ট ওয়াইড অব ইমরান।'

যেটিই সত্যি হোক, বিশপ ১ রান নিয়ে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। পরের দুই বলে মার্শালকে বোল্ড ও ওয়ালশকে এলবিডব্লু করে ইনিংস শেষ করে দেন ওয়াসিম আকরাম। ওল্ড আর টেস্ট হ্যাটট্রিকের দেখা না পেলেও ওয়াসিম আকরাম সেই দুঃখ ভুলেছেন ওয়ানডের পর টেস্টেও দুটি হ্যাটট্রিক করে। টেস্টে একবার চার বলে তিন উইকেটও আছে এই বাঁহাতি পেসারের (১৯৯২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে)।