শিল্প, ব্যবসা কিংবা রাজনীতি যেমন, ফুটবল খেলাটাও তেমনি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। এখনকার ফুটবলের ধরনটা যেমন স্পেন, ইতালি আর পর্তুগালের তিন কোচের দর্শনে পুরোপুরি প্রভাবিত। যার আরেকটি নিদর্শন দেখা যাবে আজকের ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে।

ফুটবলের সবচেয়ে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের কৃতিত্বটা পাবেন আরিগো সাকি। তাঁর মাথা থেকে বেরোনো সিস্টেমটাকে কার্যকরী মানা হয় এখনো। বলা যায়, ফুটবলের 'মাইক্রোসফট' ওই সিস্টেমটাই। বল পায়ে থাকুক আর না-ই থাকুক, পুরো মাঠের প্রতিটি গজ আয়ত্তে রাখার যে সিস্টেম তিনি শিখিয়েছিলেন, ওটা না মানলে ফুটবল আর ফুটবল থাকবে না। এই ছন্দময় ফুটবল খেলিয়েই ফ্রাঙ্কো বারেসি, পাওলো মালদিনি, রুদ খুলিত, রবার্তো ডোনাডোনির মতো অনন্যসাধারণ ফুটবলাদের নিয়ে গড়া মিলানকে বিশ্বসেরা দলের রূপ দিয়েছিলেন তিনি, যে দলটা সাফল্যের শিখরে চড়েছিল ১৯৮৯ সালে।

আরিগো সাকির সেই মিলান। ছবি: শাটারস্টক

সেবারের ইউরোপিয়ান কাপের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল তারা। ফাইনালে হারায় ১৯৮৬ সালের চ্যাম্পিয়ন স্টুয়া বুখারেস্টকে, পরবর্তীকালে বিশ্বমঞ্চে তারকা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া গিওর্গি হ্যাজি তখন যে দলে খেলতেন। কিন্তু তাঁকে নিয়েও পাত্তা পায়নি স্টুয়া, সেমিফাইনালের চেয়ে গোল একটি কম করলেও মিলান নিজেদের জালে বল ঢুকতে দেয়নি ফাইনালেও।

সাকির মিলানের সঙ্গে বুখারেস্টের পার্থক্য ছিল প্রতিটা পদক্ষেপে, প্রতিটা মুভে। গোছানো ফুটবলে বুখারেস্টের খেলোয়াড়দের বারবার পজেশন হারাতে বাধ্য করছিল মিলান। মধ্যমাঠ পেরোতেই বেগ পেতে হচ্ছিল রোমানিয়ার দলটার, গোল তাই অবধারিতভাবেই হজম করতে হয়, আর ফাইনালের নিয়তি নির্ধারিত হয়ে যায় ৩০ মিনিট না পেরোতেই। আত্মসম্মানবোধের ছিটেফোঁটা আছে, এমন যেকোনো কোচের জন্যেই সেদিন ৯০ মিনিট মাঠে টিকে থাকাটা হতো চূড়ান্ত অপমানজনক।

ইতালিতেই সাকির প্রথম সাফল্য। ইতালির 'মিস্টার'রাও (পোশাকে-আশাকে বেশ ফিটফাট বলে ইতালিয়ান কোচদের ডাকা হয় মিস্টার নামেই) চলতে শুরু করেন তাঁর দেখানো পথে। সবার আগে বলতে হবে ফ্যাবিও ক্যাপেলোর নাম। ১৯৯৪ সালের ফাইনালে ৪-০ ব্যবধানে ক্রুইফের বার্সেলোনাকে বিধ্বস্ত করেছিল যে মিলান, সে দলটার দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। বলতে হবে জুভেন্টাসকে পরপর তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ (১৯৯৬-১৯৯৮) ফাইনালে নিয়ে যাওয়া মার্সেলো লিপ্পির কথাও। আলোচনায় আসবেন তিনবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী কোচ কার্লো আনচেলত্তিও, খেলোয়াড়িজীবনে সাকির কাছ থেকেই তো দীক্ষা পেয়েছিলেন তিনি।

সিলভিও বারলুসকনি আর অ্যাঞ্জেলো মোরাত্তিদের মতো ধনকুবেররা তখন পৃষ্ঠপোষকতা করতেন বলে ইতালির ফুটবল তখন সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করছিল। তাঁদের টাকার 'গাছ' ইতালিতে টেনে নিয়ে যেত বিশ্বসেরা ফুটবলারদের। ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাই, ১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে পাঁচবারই ইউরোপিয়ান কাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে সিরি 'এ'র দল। উয়েফা কাপ এবং কাপ উইনার্স কাপকে হিসেবে আনলে বোধ হয় তাদের আধিপত্য আরও ভালো বোঝা যাবে। ওই সময়কালে এই দুটি টুর্নামেন্টের ২৬ শিরোপার ১১টিই ইতালির কোনো না কোনো ক্লাবের ঘরে গেছে। সে সময়টায় পার্মা, সাম্পদোরিয়া, নাপোলি, লাৎসিওসহ ইতালির সাতটি ভিন্ন ক্লাব জেতে ইউরোপিয়ান ট্রফি, যা পুনরাবৃত্তি করার সাধ্য খুব সম্ভবত অন্য কোনো লিগের ক্লাবগুলোর হবে না।

লোথার ম্যাথাউসের নেতৃত্বে ১৯৯০ বিশ্বকাপ জিতেছিল পশ্চিম জার্মানি। ছবি: গেটি ইমেজেস

ইতালির এই উচ্চমানের ফুটবল আশীর্বাদ হয়ে আসে জার্মানির জন্যেও। ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ জেতে পশ্চিম জার্মানি, লোথার ম্যাথাউসের নেতৃত্বে খেলা দলটার প্রায় অর্ধেক ফুটবলারই তখন সিরি 'এ'-তে খেলেন, এই তথ্য জানা থাকলেই কেন আশীর্বাদ বলছি, তা বোঝা যাবে পরিষ্কার। ১৯৯৫ সালে ফুটবলের এই আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটে বায়ার্ন মিউনিখের যুব দলেও। বল-অরিয়েন্টেড স্পেস কাভারিং, ফোর-ম্যান ব্যাকলাইন--জার্মানিতে এগুলো তখন বৈপ্লবিক বদল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছিল। আমি নিজেই এই পদ্ধতিতে খেলে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন হই। তা-ও একবার নয়, দু'বার; ২০০১ আর ২০০২ সালে। এমন সাফল্যের দেখা বায়ার্ন এর আগে পায়নি।

আমাদের সাকি হয়ে আবির্ভূত হয়েছিল বিয়র্ন অ্যান্ডারসন, যিনি বায়ার্নের হয়ে গত শতাব্দীর '৭০-এর দশকে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিলেন। আমাদের ঠিক মিলিটারি মেজাজ করায়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা ছিল না তাঁর, বরং স্ক্যান্ডিনেভীয় শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আমার প্রজন্মকে নতুন ধারার এক নেতৃত্ব শিখিয়েছিলেন এই সুইডিশ। ফ্ল্যাট হায়ারার্কি, আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া--এই গুণগুলো তাঁর থেকেই শিখেছিলাম আমি।

সব সময়ই আপনাকে এমন কারও খোঁজ করতে হবে, যিনি আরেকজনের আইডিয়ার সঙ্গে নিজের ভাবনার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে দারুণ কিছু একটা বের করে ফেলবেন। আর কোনো উদ্ভাবন তো কখনো চাপা থাকে না। সাকির অপারেটিং সিস্টেম অনুসরণ করতে শুরু করেছিলেন অন্য কোচরাও, আর এর সঙ্গে নিজেদের প্রোগ্রামিং ভাষা, ধ্যান-ধারণা যুক্ত করে গড়ে তুললেন দুর্দান্ত সব দল। ইতালির কর্তৃত্বও কমতে শুরু করল একটু একটু করে। ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে স্থিতি দিয়ে গেলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তাঁর সময়ের ইউনাইটেডকে দেখলে মনে হতো, কেউ আক্রমণের মেশিন চালিয়ে দিয়েছে যেন। খেলায় তাঁর নিজস্বতার ছাপ রেখে ইউনাইটেডকে চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, জিতিয়েওছিলেন ১৯৯৯ আর ২০০৮ সালে।

আয়াক্সকে নিয়ে ১৯৯৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন লুই ফন গাল, মাইনর লিগের এই দলটা ঐতিহাসিকভাবেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। ওটমার হিজফেল্ড, কথা-বার্তা শুনলে যাঁকে মানব ব্যস্থাপনার শিক্ষক বলেই মনে হয়, ডর্টমুন্ড (১৯৯৭) আর বায়ার্নকে (২০০১) নিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন তিনিও। রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে ২০০০ আর ২০০২ সালে শিরোপা উৎসব করেছিলেন ভিনসেন্ট দেল বস্ক। আর বার্সেলোনাকে দ্বিতীয়বারের মতো (২০০৬) চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছিলেন ফ্র‍্যাঙ্ক রাইকার্ড, যিনি সাকির সরাসরি ছাত্র ছিলেন।

কাতেনাচ্চিওর আধুনিক সংস্করণ দেখা গিয়েছিল মরিনহোর মাধ্যমে৷ ছবি: গেটি ইমেজেস

এরপর মঞ্চে আবির্ভাব ঘটেছিল জোসে মরিনিওর। কাতেনাচ্চিওর আধুনিক সংস্করণ উদ্ভাবন করে ফুটবল থেকে আক্রমণের বিষ শুষে নিয়েছিলেন এই পর্তুগিজ। পোর্তোর মতো আন্ডারডগ টিম নিয়ে ২০০৩ সালে উয়েফা কাপ জিতেছিলেন তিনি, পরের বছর জিতে নিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগও। ২০০৪ সালের সেমিফাইনাল আর ফাইনালে তো প্রতিপক্ষ গোলই করতে পারেনি তাঁর দলের বিরুদ্ধে। সে সময়টায় 'প্লেয়িং অ্যাগেইনস্ট দ্য বল' সিস্টেম নিয়ে উচ্চবাচ্য হচ্ছিল খুব, মরিনিও নজর দিয়েছিলেন গোল না খাওয়ার দিকে। উচ্চমাত্রার শারীরিক সক্ষমতা আর অর্গানাইজেশনের প্রয়োগ ঘটিয়ে রক্ষণকে দুর্ভেদ্য বানিয়ে তুলেছিলেন তিনি। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছিলাম বার্সেলোনার বিপক্ষে ২০১০ সালের সেমিফাইনালে। ইন্টার মিলানের রক্ষণভাগকে দিয়ে পেনাল্টি এরিয়ার সামনে রীতিমতো মানবদেয়াল গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিপক্ষ বল হারাবে, এই আশায় বসে থাকত তাঁর দল, আর বল হারালেই সৃষ্টি হওয়া সামান্য ফাঁক-ফোকরকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ কিছু মুভে গোল বের করার সুযোগ খুঁজত। ওই ২০১০ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেই তাঁর দলের কাছে ভূমিধস পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল আমাদের।

দিয়েগো সিমিওনেকে বলা চলে মরিনহোরই উত্তরসূরি। ১১ জনই রক্ষণ সামলায়, এমন একটা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ দলকে দশ বছর ধরে নিপুণ দক্ষতায় সামলাচ্ছেন তিনি। এই সময়ে তিনি ইউরোপা লিগ জিতেছেন দুবার, সম্প্রতি লা লিগার শিরোপাও বাগিয়েছেন দ্বিতীয়বারের মতো। আর দুবার তো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও উঠেছিলেন তিনি, অবশ্য ২০১৪ আর ২০১৬--দুবারই সামান্য ব্যবধানে হেরে গিয়ে তাঁকে থাকতে হয়েছে পরাজিতর কাতারে।

ফুটবল রোমান্টিকরা দেখতে চান পেপ গার্দিওলার ফুটবলই। ছবি: এপি

ওই সময়টাতেই পেপ গার্দিওলার মাধ্যমে বলের দখল রেখে খেলা ফুটবলের পুনর্জন্ম ঘটেছিল। সাকির দর্শনটাকেই একটু আক্রমণাত্মক বানিয়ে মরিনহোর কৌশলের প্রত্যুত্তর এনেছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে যে টোটাল ফুটবলের জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন ক্রুইফ, গার্দিওলা পুনরায় বুনেছিলেন সেই রোমান্টিক ফুটবলের বীজ। খেলার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জনের চেষ্টা ছিল তাঁর, প্রতিপক্ষ ডি-বক্সের আশেপাশেই প্রতিপক্ষকে বাক্সবন্দি করে রাখা, আর বল হারালে সঙ্গে সঙ্গে তার দখল নেওয়ার চেষ্টা করা--এই ছিল গার্দিওলার দর্শন। এ কারণেই প্রতিপক্ষ ব্যর্থ হতো খেলা গড়তে, আর গার্দিওলার দল ম্যাচের পুরোটা সময় জুড়েই আক্রমণ গড়ে যেত একের পর এক। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গার্দিওলার বার্সেলোনা আমাদের হারিয়েছিল ৪-০ ব্যবধানে। আর ২০০৯ আর ২০১১ সালের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তো বলের নাগালই পায়নি বলতে গেলে। স্পেন দলটাও তখন গার্দিওলার দর্শনটাকেই আলিঙ্গন করে নিয়েছিল। বার্সা আর স্পেন, নতুন একটা যুগেরই শুরু করেছিল ওরা।

গ্রেট কোচদের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, পালাবদলের এই সময়টায় মধ্যবর্তী একটা সমাধান খুঁজে নেন তাঁরা। দশের দশকের মাঝের সময়টায় চ্যাম্পিয়নস লিগে তাই ছড়ি ঘুরিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৮--এই তিন বছর ট্রফিও জিতেছে। আর সেরা দলগুলোতে খেলার তাড়না সেরা ফুটবলারদের থাকেই। নইলে টনি ক্রুস, লুকা মডরিচ, সার্জিও রামোস, করিম বেনজেমা, রোনালদোর মতো খেলোয়াড় সমৃদ্ধ একটা দল গড়তে দীর্ঘ অপেক্ষাই করতে হয়।

আর ফুটবলে যে স্ট্র‍্যাটেজিই সব নয়, এর সাম্প্রতিকতম প্রমাণ মিলেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের সৌজন্যে। আবেগ, শারীরিক সক্ষমতা, বিশ্বাস, পাগলামি, দ্রুতগতির প্রতিআক্রমণ-- এসব গুণের সম্মিলনে তিনি গার্দিওলাকে জবাব দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মানসিক নৈকট্য অর্জনের উপায়গুলোও তাঁর জানা। ২০১৩ সালে তাঁর বিদায়ী ম্যাচেও ডর্টমুন্ডের পারফরম্যান্সে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার ছাপ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। ডর্টমুন্ড থেকে গিয়েছেন লিভারপুলে, তাঁর চরিত্রের সঙ্গে যে শহরটা খাপে খাপ মিলে যায়। এরই মধ্যে লিভারপুলকে নিয়ে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছেন, ২০১৯ সালে জিতেওছেন।

লড়াইটা ডাগআউটেও। ছবি: গেটি ইমেজেস

ট্যাকটিক্স নিয়ে এত দীর্ঘ আলাপের কারণ, সাকির বল-অরিয়েন্টেড অপারেটিং সিস্টেম, গার্দিওলার টোটাল অ্যাটাকিং কিংবা মরিনিওর কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল--পোর্তোয় এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তিন দর্শনের ফুটবলের প্রদর্শনীই দেখা যাবে। কোনো দলেরই সাকির মিলানের মতো বা গার্দিওলার বার্সার মতো সেই দাপট নেই আর, এখন তাই সবগুলো বড় দলের, এমনকি এবারের দুই ফাইনালিস্টের খেলাতেও তিন ধরনের দর্শনেরই একটা মিশ্রণ দেখা যায়। ম্যানচেস্টার সিটি এবং চেলসি, দু'দলই প্রতিপক্ষকে তাদের ডি-বক্সের মধ্যে আটকে রাখতে চেষ্টা করে, গেগেনপ্রেসিংয়ের প্রয়োগে তাদের চাপের মধ্যে রাখতে চায়। তবে সময়ে সময়ে বলের দখল ছেড়ে তারা পিছিয়েও আসে, প্রতিপক্ষও এই সময়টায় আক্রমণ গড়ার সুযোগ পায়।

দু'দলের ডাগআউটেই আছেন দুজন ক্যারিশমাটিক কোচ। গার্দিওলা এখনো তাঁর স্টাইলই অনুসরণ করেন, তবে তাঁর দলটা রিয়াল বা বার্সার মতো রাজকীয় নয় বলে মরিনহোর কাছ থেকে রক্ষণের কিছু কলাকৌশল ধার করেছেন। আর চেলসিকে নিয়ে ফাইনালে উঠেই তো ইতিহাস হয়ে গেছেন টমাস টুখেল, দুটি ভিন্ন ক্লাব নিয়ে পরপর দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠা প্রথম কোচ তিনিই। লড়াইটা তাই সেয়ানে-সেয়ানেই হবে।

উপভোগ্য একটা ফাইনালের আশা করতেই পারি, কি বলেন!

(দ্য গার্ডিয়ানে লেখা ফিলিপ লামের কলাম থেকে ভাষান্তর করেছেন রিজওয়ান রেহমান সাদিদ)।

 

আরও পড়ুন: প্রথম অল-ইংল্যান্ড ফাইনালে আমিও ছিলাম

                     টুখেল বনাম গার্দিওলা, আব্রামোভিচ বনাম আল নাহিয়ানও