★ এবারের ‘নবাগত’ ম্যানচেস্টার সিটিকে নিয়ে টানা তিন মৌসুমে তিনটি নতুন দলকে ফাইনালে দেখল চ্যাম্পিয়নস লিগ। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলে প্যারিস সেন্ট জার্মেই, তার আগের মৌসুমে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে টটেনহাম।

★ অষ্টমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে একই দেশের দুই দল। আর এবারেরটি তৃতীয় অল ইংলিশ ফাইনাল। ২০০৮ সালে চেলসি-ইউনাইটেড ও ২০১৯ সালে লিভারপুল-টটেনহামের পর এবার চেলসি-সিটি।

★ এবারেরটি ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলা দলের সংখ্যা ৪২টি। যার ৯টিই ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬টি করে ফাইনাল খেলা দল ইতালি ও জার্মানির।

★ ফাইনালে ওঠার পথে মাত্র ৪টি করে গোল হজম করেছে সিটি ও চেলসি। ২০০৬ সালের দুই ফাইনালিস্ট বার্সেলোনা ও আর্সেনালের পর এবারই দুই ফাইনালিস্ট দল এত কম গোল হজম করেছে। সেবার ফাইনালের পথে বার্সা ৪ গোল খেলেও আর্সেনাল মাত্র ২বার বল ঢুকতে দিয়েছিল নিজেদের জালে!

★ ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে এর আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল চেলসি-সিটি। ১৯৭০-৭১ মৌসুমের কাপ উইনার্স কাপের সেমিফাইনালের দুই লেগেই চেলসি হারিয়েছিল সিটিকে।

★ কোচ টমাস টুখেল চেলসির দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁর কাছে কখনোই হারেননি পেপ গার্দিওলা। মেইঞ্জ ও ডর্টমুন্ডের দায়িত্বে থাকার সময় পেপ গার্দিওলার বায়ার্নের বিপক্ষে টুখেলের রেকর্ড ছিল দুই ড্র, তিন হার। সিটির সমর্থকদের জন্য তথ্যটা সুখকরই। তবে পরিসংখ্যানই আশা দেখাচ্ছে স্টামফোর্ড ব্রিজের দলটিকেও, এই মৌসুমে সর্বশেষ দুই সাক্ষাতে গার্দিওলার বর্তমান দল সিটির বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জিতেছে টুখেলের চেলসি।

গার্দিওলার সিটির প্রথম, নাকি টুখেলেরই প্রথম? ছবি: গেটি ইমেজেস

★ আজ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি জিতলে তার পেছনে বড় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে কেভিন ডি ব্রুইনাকে। অথচ এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডার একদা ছিলেন চেলসিতেও। বেলজিয়ান ক্লাব জেঙ্ক থেকে চেলসিতে এলেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৯টি ম্যাচ। প্রথমে ধারে ভের্ডার ব্রেমেনে ও পরে চুক্তি করে ডি ব্রুইনা চলে যান ভলফসবুর্গে। ২০১৫ সালে জার্মানি থেকে সিটিতে আসার পরই ‘নতুন’ ডি ব্রুইনার আবির্ভাব! ডি ব্রুইনার মতো সিটির নাথান আকেও এক সময় ছিলেন চেলসিতে। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক উইলি কাবায়েরোর ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। চেলসিতে যোগ দেওয়ার আগে তিন মৌসুম কাবায়েরো কাটিয়েছেন সিটিতে।

★ রূপকথার জন্ম দিয়ে ২০১৫-১৬ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাজয়ী লেস্টার সিটিতে সতীর্থ ছিলেন রিয়াদ মাহরেজ ও এনগোলে কান্তে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আজ তাঁরাই পরস্পরের মুখোমুখি।

★ আজ সিটি জিতলে একাধিক দলের হয়ে ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী কোচদের ছোট্ট দলে নাম লিখিয়ে ফেলবেন পেপ গার্দিওলা। যে দল এখন আছেন মাত্র পাঁচজন--আর্নস্ট হ্যাপেল (ফেইনুর্দ ১৯৭০, হামবুর্গ ১৯৮৩), ওটমার হিজফেল্ড (ডর্টমুন্ড ১৯৯৭, বায়ার্ন ২০০১), জোসে মরিনিও (পোর্তো ২০০৪, ইন্টার মিলান ২০১০), ইয়ুপ হেইঙ্কস (রিয়াল ১৯৯৮, বায়ার্ন ২০১৩) ও কার্লো আনচেলত্তি (মিলান, ২০০৩, ২০০৭; রিয়াল ২০২৪)।

* চেলসিকে ফাইনালে তুলেই অনন্য এক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন টুখেল। আগের মৌসুমে ফাইনালে তুলেছিলেন পিএসজিকে। ভিন্ন দুটি দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা দুটি ফাইনালে তোলার কৃতিত্ব নেই আর কোনো কোচের।

আরও পড়ুন:
টুখেল বনাম গার্দিওলা, আব্রামোভিচ বনাম আল নাহিয়ানও