বাঙালি নারী কুড়িতে বুড়ি। প্রচলিত এ প্রবচনটি তাঁর সময়েও যথেষ্ট তাৎপর্যময় ছিল। তার গুরুত্ব ছিল সামাজিকভাবেও। এর অন্তর্নিহিত অর্থ ছিল, কুড়ির পর নারীর আর কোনো সাধ-আহ্লাদ, ইচ্ছে-অনিচ্ছে, ভালো লাগা-মন্দ লাগা, চাওয়া-পাওয়া থাকবে না। অর্থাৎ নারীকে নির্দিষ্ট বয়সের পরে বেড়ি পরিয়ে রাখার একটা অভিসন্ধি হিসেবে এমন প্রবচন প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু রাণী হামিদ তার তোয়াক্কা করেননি। অবশ্য তিনি যে সামাজিক পরিবেশে বসবাস করেন, সেখানে বয়স নিয়ে হীনম্মন্যতা হয়তো নেই। তবে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিটা রক্ষণশীলতা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ঘরের বাইরে গিয়ে কিছু করাকে উদারভাবে দেখা হতো না। তেমন প্রতিকূলতা তাঁর সামনেও ছিল। কিন্তু জীবনসঙ্গীর সহযোগিতার কারণে তিনি ঠিকই ধাওয়া করতে পেরেছেন স্বপ্নকে।

ত্রিশ পেরিয়ে শুরু করেন তাঁর ‘দ্বিতীয় জীবন’। তখন তিনি চার সন্তানের জননী। সুখী গৃহকোণ। অবসর সময়টাকে ভরিয়ে তুলতে শতরঞ্জ খেলায় আকৃষ্ট হন। বাবার বাড়িতেও অবশ্য দাবার চর্চা ছিল। কিশোরী বয়সে কখনো-সখনো টুকটাক খেলতেন মনের আনন্দে। সে সময় দাবা খেলার নিয়ম-কানুন তেমনভাবে জানা ছিল না। এছাড়াও ছোটবেলা অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, টেনিস খেলেছেন। সে তো কত আগের কথা। তখন তিনি ছিলেন সৈয়দা জসিমুন নেছা খাতুন। সামরিক কর্মকর্তা এম এ হামিদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার প্রায় দেড় যুগ পরে নতুনভাবে তিনি দাবা খেলার প্রতি অনুরক্ত হন। আর এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন প্রতিবেশী জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়ন ড. মির্জা আকমল হোসেন। ধীরে ধীরে তাঁকে আসক্ত করে ১৬ ঘুঁটির এই রণকৌশল। যে কারণে সংসারের ফাঁকে ফাঁকে গভীরভাবে মনোযোগী হন রাজা-মন্ত্রী-নৌকা-ঘোড়া-গজ-বোড়ের চেকমেটের খেলায়। বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে হয়ে ওঠেন 'শতরঞ্জ কে খিলাড়ি'। 

তরুণী রাণী হামিদ, যখন দাবাকে ঘিরে তাঁর স্বপ্নে মাত্র রং লাগতে শুরু করেছে। ছবি: উইকিমিডিয়াএকটা সময় বুৎপত্তি অর্জন করার পর প্রতিযোগিতামূলক দাবায় নিজেকে ঝালিয়ে দেখার ইচ্ছে হয় তাঁর। ১৯৭৫ সাল প্রথম অংশ নেন ‘মহসিন স্মৃতি দাবা টুর্নামেন্ট'-এ। এরপর প্রায় বছর দুয়েক বিরতি দিয়ে ১৯৭৭ সালে ‘নবদিগন্ত সংসদ’-এর উদ্যোগে দেশে প্রথমবার আয়োজিত মহিলাদের দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে হয়ে যান চ্যাম্পিয়ন। তখন থেকে পরিচিতি পান রাণী হামিদ নামে। দাবা খেলা পরিণত হয় তাঁর নেশায়। ১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় মহিলা দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি দারুণভাবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তারপর থেকে শুরু হয় তাঁর জয়যাত্রা।  

১৯৮০ সালে ঢাকায় প্রথম কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা দিয়ে শুরু হয় বিদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁর মোলাকাত। এই প্রতিযোগিতায় খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও সঞ্চয় হয় অভিজ্ঞতা। বছরখানেকের মধ্যেই উজ্জ্বল করেন দেশের মুখ। ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের হায়দরাবাদের প্রথম এশীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। কোনো রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এমনকি টেকনিক্যাল বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। এ কারণে সহযোগী খেলোয়াড়দের কাছে পরিহাস সইতে হয়েছে। তারপরও প্রথমবার বিদেশে খেলতে গিয়ে এই চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি যুগ্মভাবে তৃতীয় হন। তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশে নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে উল্লেখযোগ্য একটি কৃতিত্ব। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো নারী ক্রীড়াবিদের এটিই ছিল সেরা সাফল্য। এই সাফল্যের কারণে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক রেটিং লাভ করেন।

চৌষট্টি খুপরি আর সাদা-কালোর রানি, রাণী হামিদ

নিজেকে পরিপূর্ণ করে তোলার জন্য দেশে ফিরে দাবা সংক্রান্ত পুঁথিগত বিদ্যা চর্চায়ও মনোনিবেশ করেন। একই বছর অক্টোবরে শারজায় বিশ্ব দাবা প্রতিযোগিতার নয় নম্বর জোনের বাছাইয়ে মহিলা বিভাগে তৃতীয় হন। তখন থেকেই আলাদাভাবে সমাদার পেতে থাকেন তিনি। ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক রেটিং দাবায় পাকিস্তানের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন শাহজাদ মির্জাকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন। এরপর শুরু হয় নিজেকে আরও এগিয়ে যাওয়ার পালা। 

১৯৮২ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাইটনে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের নারী বিভাগে অংশ নিয়ে রাণী হামিদ পঞ্চম হলে বেশ সাড়া পড়ে যায়। তখন এই সাফল্যই অনেক বড় কিছু বলে বিবেচিত হয়। অথচ পরের বছর সাউথপোর্টে ৭০তম এই প্রতিযোগিতায় তিনি স্কটল্যান্ডের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হেলেন মিলিগানের সঙ্গে যুগ্মভাবে শিরোপা জয় করেন। তৃতীয় রাউন্ডে নয় ঘণ্টা লড়াই করে ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক মাস্টার রোয়েনা মেরি ব্রুসকে হারিয়ে দেন। সপ্তম ও শেষ রাউন্ডে হারান মিলিগ্যানকে। ইংল্যান্ড তথা ইউরোপের মাটিতে এই সাফল্য ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক বড় ঘটনা। এখনও ব্রিটিশদের পরাজিত করতে পারলে ঔপনিবেশিক শক্তিকে পর্যুদস্ত করার এক ধরনের বিমল আনন্দ পায় উপমহাদেশের মানুষ। তাই মহারানির দেশে তাঁর দাবার রানি হয়ে ওঠা অন্য বাড়তি তাৎপর্য নিয়ে দেখা দেয়। তাঁর এ বিজয়ে দাবার অঙ্গন ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তাঁর আগে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের আর কোনো ক্রীড়াবিদ এমনভাবে সাড়া জাগাতে পারেননি। এই সাফল্য উপমহাদেশের দাবাঙ্গনেও কম আলোচিত ছিল না। 

রাণী হামিদের বিলেত জয়

১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ-ভারতের মিস ফাতিমার পর এশিয়ার দ্বিতীয় নারী হিসেবে তিনি এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তবে পাঞ্জাবের আশ্চর্য সেই নারী ফাতিমাকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হলে রাণী হামিদই প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। ব্রিটিশদের কাছেও এটা ছিল অভাবিত। কাঁটায় কাঁটায় ঠিক ৫০ বছরের মাথায় চ্যাম্পিয়নশিপের কাপ উপমহাদেশে যাবে, এর জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। ব্রিটিশদের অহমিকায় এটা বোধ করি আঘাত করে। যে কারণে কাপ দিতে আয়োজকেরা গড়িমসি করতে থাকে। রাণী হামিদ তাঁর সঙ্গে কাপ আনতে পারেননি। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রায় দুই লাখ টাকার গ্যারান্টি প্রদান করলে কাপটি ঢাকায় নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। পরের ফ্লাইটে কাপটি দেশে পাঠানো হয়। 

ব্রিটিশ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ রাণী হামিদের কাছে হয়ে ওঠে পয়মন্ত। এই টুর্নামেন্ট সাধারণত তাঁকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়নি। ১৯৮৫ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় ৭২তম এবং ১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডের প্লাইমাউথে ৭৬তম আসরেরও শিরোপা জেতেন। অবশ্য ৭২তম আসরেই প্রথমবার ব্রিটেন এবং কমনওয়েলথভুক্ত দেশের বাইরের দেশগুলোকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অংশ নিলেও তাঁদের খেতাব দেওয়ার বিধান ছিল না। এ কারণে তৃতীয় হয়েও কমনওয়েলথ দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বেশি পয়েন্ট পাওয়ায় শিরোপা লাভ করেন রাণী হামিদ৷ এই নিয়মের কথা তাঁর জানা ছিল না। যখন শিরোপার ট্রফি নেওয়ার জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়, তিনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। ভারতের খেলোয়াড় ভাগ্যশ্রী শেঠি তাঁকে বলেন, 'এই রাণী, কাপ নিতে যাচ্ছ না কেন?' তখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে খানিকটা বিলম্বে মঞ্চে যাওয়ার পর প্রধান অতিথি এডিনবরার লর্ড মেয়র হেসে হেসে তাঁকে বলেন, 'ইয়াং লেডি, এত সুন্দর একটা কাপ তুমি দেশে নিয়ে যেতে চাও না!'

ব্রিটিশ দাবায় তাঁর তিনবার শিরোপা জয় করাটা নিঃসন্দেহে গৌরবময় এক ইতিহাস। এমন দৃষ্টান্ত উপমহাদেশের আর কোনো নারী দাবাড়ুর নেই। পুরুষদের মধ্যে এমন কৃতিত্ব আছে শুধু একজনেরই। ১৯২৯, ১৯৩২ ও ১৯৩৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ব্রিটিশ-ভারতের অতীন্দ্রিয় এক দাবা প্রতিভা মীর সুলতান খান। রাণী হামিদ এই টুর্নামেন্টে ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে যুগ্মভাবে তৃতীয় এবং ১৯৯২ সালে রানারআপ হন।

এখনো দাবার নেশায় মজে আছেন রাণী হামিদ। ছবি: শা. হ. টেংকু

আশির দশকে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন রাণী হামিদ। ১৯৮৩ সালে লন্ডনের লয়েড ব্যাংক মাস্টার্স দাবায় অর্জন করেন আন্তর্জাতিক উইমেন মাস্টার খেতাবের প্রথম নর্ম। একই বছর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে দ্বিতীয় এশীয় মহিলা দাবায় রানারআপ হন। পরের বছর লন্ডনের লয়েড ব্যাংক মাস্টার্স দাবায় আন্তর্জাতিক উইমেন মাস্টার খেতাবের দ্বিতীয় নর্ম পূর্ণ করেন। একই বছর গ্রিসে বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে পুরুষদের গ্রুপে খেলাটা ছিল সাহসিকতার পরিচায়ক। তাঁর আগে যে সাহস দেখিয়েছেন বিশ্বের মাত্র চারজন নারী দাবাড়ু। এরপর থেকে বাংলাদেশের হয়ে অলিম্পিয়াডে তিনি নিয়মিত অংশ নেন। ১৯৮৫ সালে দুবাইয়ে বিশ্ব দাবা প্রতিযোগিতার ১০ম জোনের বাছাইয়ে মহিলা বিভাগে তৃতীয় হন। একই বছর পঞ্চম কাজী মোতাহার হোসেন মাস্টার্স দাবায় দেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ঢাকায় তৃতীয় এশীয় মহিলা দাবায় তৃতীয় হন। 

রাণী হামিদের শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন ভারতের তিন বোন জয়শ্রী, বাসন্তী ও রোহিনী খাদিলকার। ভারতের মহিলা দাবার পথপ্রদর্শক এই ত্রয়ী 'উইমেন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার'-এর কারণে একাধিকবার কাছাকাছি গিয়েও তাঁর শিরোপার নাগাল পাওয়া হয়নি। ১৯৮৬ সালে লন্ডনে চতুর্থ কমনওয়েলথ উইমেন চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁকে রানারআপ হতে হয়। শেষ রাউন্ডের পর রাণী হামিদ ও জয়শ্রী খাদিলকার, দুজনেরই পয়েন্ট দাঁড়ায় সাড়ে চার। দু’জনের মধ্যে টাইব্রেকারে জয়শ্রী চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৭ সালে দোহায় বিশ্ব মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের দশম বাছাই জোন এবং ইংল্যান্ডে লয়েডস ব্যাংক মাস্টার্স দাবায় মহিলা বিভাগে তৃতীয় হন। তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্যবার আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তাতেও রয়েছে সাফল্য-ব্যর্থতার সংমিশ্রণ। ভরা সংসার রেখে বিভিন্ন দেশে খেলতে যাওয়াটা তাঁর জন্য কম চ্যালেঞ্জিং ছিল না। এ কারণে কখনো কখনো খেলায় তাঁর মনোযোগ কিছুটা হলেও ব্যাহত তো হয়েছেই। 

র‍্যাপিড চেজ টুর্নামেন্টে চার বছর বয়সী প্রতিযোগীর সঙ্গে রাণী হামিদ। ছবি: শা. হ. টেংকু

জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত ২০ বার শিরোপা জিতেছেন রাণী হামিদ। বয়স যেন তাঁকে মোটেও কাবু করতে পারছে না। তাঁর কাছে খেলাটা হয়ে ওঠেছে্ আরও আনন্দের, আরও উপভোগের। এখনো প্রথম জীবনের মতো সমান উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে খেলেন। দাবার বোর্ডের সামনে বসলে তিনি যেন হয়ে ওঠেন চনমনে এক তরুণী। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, নিজের সর্বশেষ শিরোপা জিতেছেন ৭৬ বছর বয়সে এবং এখনো তিনি খেলে যাচ্ছেন। স্বীকৃতিও কম পাননি। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি, ১৯৮৯ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং ১৯৯৬ সালে পেয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার।

‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’- এ প্রবচনটি রাণী হামিদের বেলায় পুরোপুরিভাবে মিলে যায়। দাবায় নিমগ্ন থাকলেও সংসারের প্রতি তিনি কখনও বেখেয়ালি ছিলেন না। তাঁর পরিবারকে ক্রীড়া পরিবার বললে অত্যুক্তি হবে না। স্বামী লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ ছিলেন বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দুই ছেলে কায়সার হামিদ ও ববি হামিদ ফুটবলে এবং আরেক ছেলে সোহেল হামিদ স্কোয়াশের পরিচিত নাম। একই পরিবার থেকে তিনজনের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়ার ঘটনাও খুবই বিরল। তিনি ছাড়াও ছেলে কায়সার হামিদ ফুটবলার হিসেবে ২০০৩ সালে এবং স্বামী এম এ হামিদ সংগঠক হিসেবে ২০০৬ সালে এই গৌরব অর্জন করেন।     

সাংসারিক জীবনের সাজানো ছক ভেঙে ঘরের বাইরে এসে সাফল্য পেয়েছেন রাণী হামিদ। তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশের দাবাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। তাঁকে দাবায় নারী জাগরণের অগ্রদূত বলাই যেতে পারে। কত কত নারীর অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেছেন তিনি। অসংখ্য মেয়ের ভাবনায় স্থান করে নিয়েছে ঠাণ্ডা মাথায় কৌশলী চাল দিয়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার ছক। একজন গৃহবধূ হয়েও তাঁর এমন কৃতিত্বে সামগ্রিকভাবে নারীদের উদ্বেলিত, উজ্জীবিত ও উৎসাহিত করে চলেছে। খেলার মাঠে তো বটেই, মাঠের বাইরেও তাঁদের সংখ্যা আরও বেশি। দাবার চালে কিস্তিমাত করার পাশাপাশি জীবনযুদ্ধে অনেক নারীকে এগিয়ে নেওয়ার দিশারি হয়ে ওঠেছেন ‘দাবার রানি’ রাণী হামিদ।