তামিম ইকবাল 

    ৮/১০
   ৯৩.৩৩ গড়ে ২৮০ রান

এই সিরিজে তামিম যে সেঞ্চুরি পাননি, এটিকে বলতে হবে তাঁর প্রতি ক্রিকেটের চরম অবিচার। চার ইনিংসে ৯৩.৩৩ গড়ে ২৮০ রানে দীর্ঘশ্বাস ওই একটাই। দারুণ ব্যাটিং করেছেন, শুধু রানসংখ্যায় যেটির তাৎপর্য সীমাবদ্ধ নয়। প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনে তামিমের ব্যাটিংই সুর বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশের বড় ইনিংসের। নিজের দোষে আউটও ওই একটা ইনিংসেই। দ্বিতীয় টেস্টেও নব্বইয়ের দীর্ঘশ্বাস, তবে এবার কৃতিত্ব দিতে হবে বোলারকে। টানা হাফ সেঞ্চুরির ধারাটাকে চারে থামিয়ে দেওয়া দ্বিতীয় ইনিংসেও তা-ই। চারটি ইনিংসেই আউট হওয়ার আগে কোনো বোলারকেই বোলার মনে করেননি, প্রথম ইনিংসের আউটটা ছাড়া বলতে গেলে ভুল শটও খেলেননি একবারও।

সাইফ হাসান  

   ৩/১০
   ১৫.০০ গড়ে ৬০ রান

সাদমান ইসলামকে বসিয়ে রেখে তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নটাকে আরও বড় করে তুলেছেন। খেলানোই যখন হয়েছে, প্রথম টেস্টে ০ ও ১ রানের পরও অন্তত আরেকটা সুযোগ তাঁর প্রাপ্য ছিল। তা পেয়েছেনও, যদিও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি। তবে খেলার ধরন নিয়ে যে ভেবেছেন, তা ঠিকই চোখে পড়েছে। রক্ষণাত্মক খোলস থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল যদিও ২৫ আর ৩৪ রানের বেশি দিতে পারেনি। সাইফ নিশ্চয়ই বুঝেছেন, রক্ষণ আর আক্রমণের সমন্বয়টা যেমন শেখার আছে, তেমনি সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করাটাও।

নাজমুল হোসেন শান্ত  

   ৫/১০
   ৪৭.২৫ গড়ে ১৮৯ রান

চার ইনিংসের দুটি শূন্য, আরেকটি ২৬; তবে তাতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিটা ভুলে গেলে অন্যায় হবে। জীবনের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটাকে ১৬৩ রানে রূপ দিয়েছেন। দলে তাঁর জায়গা নিয়ে হাজারো প্রশ্নের উত্তরও লুকিয়ে ছিল তাতে। সেই ফর্মটাকে টেনে নিতে না পারার দুঃখ প্রবলই হওয়ার কথা। তাঁর ফেলে দেওয়া ক্যাচের এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা তো আরও। ছোট্ট এই ট্যুরেই এত কিছুর মধ্য দিয়ে গেছেন যে, শান্তর জন্য তা সত্যিকার অর্থেই টেস্ট ক্রিকেট বিষয়ক এক ‘শিক্ষা সফর’।

মুমিনুল হক  

   ৬/১০
   ৭৭.০০ গড়ে ২৩১ রান

অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে এই বাড়তি দায়িত্ব যে তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দেশের বাইরে প্রথম সেঞ্চুরি পিঠ থেকে নিশ্চিত একটা বোঝা নামিয়ে দিয়েছে। আট বছর আগে যে দেশে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি, সেই শ্রীলঙ্কাতেই অস্বস্তিকর এক রেকর্ড থেকে মুক্তিও মিলেছে যাতে।  ৭৭ ব্যাটিং গড়ও তৃপ্তি দেওয়ার মতোই। তবে দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসেই সেট হয়ে তাঁর আউট হয়ে যাওয়াটাই হয়তো লিখে দিয়েছে সিরিজের ভাগ্য।

মুশফিকুর রহিম  

   ৫/১০
   ৭৪.০০ গড়ে ১৪৮ রান

একবার সেট হয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলার সুনামটায় কালি পড়েছে শেষ টেস্টের দুই ইনিংসেই। প্রথম টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ৬৮ রানে নট আউট থাকায় গড়টা ৭৪ দেখাচ্ছে বটে, কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসেই ৪০ রানে আউট হয়ে যাওয়াটা বাংলাদেশের পরাজয়ের অনেকগুলো কারণের মধ্যে অবশ্যই একটি। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে আউটটার জন্য ভাগ্যকে দুষতে পারেন, তবে ভাগ্যই তো তাঁকে ৪০ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

লিটন দাস  

   ৫/১০
   ২৫.০০ গড়ে ৭৫ রান, ৬টি ক্যাচ, ১টি স্টাম্পিং

একটা ফিফটি আর ৮ ও ১৭ রানের দুটি ইনিংসে নম্বরটা একটু বেশিই মনে হতে পারে কারও। বিশেষ করে দ্বিতীয় টেস্টে আউট হওয়ার ধরন যোগ করলে আরও বেশি। তবে ব্যাটসম্যান লিটনের নাম্বারের সঙ্গে তো উইকেটকিপার লিটনের নাম্বারও  যোগ করতে হবে। যে কারণে মনে হচ্ছে, প্রায় নিখুঁত কিপিংয়ের (ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা বাদ দিয়ে) পরও ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সামর্থ্যের রূপায়ণ করতে না দেখার হতাশাই হয়তো নাম্বার একটু কমিয়ে দিচ্ছে।

মেহেদী হাসান মিরাজ  

   ৪/১০
   ৮৬.২৫ গড়ে ৪ উইকেট ও ১৯.৩৩ গড়ে ৫৮ রান   

প্রথম টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ১৬১ রানে ১ উইকেটে হয়তো তাঁর বোলিংয়ের প্রতিফলন ঘটেনি, তবে দ্বিতীয় টেস্টে একেবারেই নির্বিষ মনে হয়েছে। শ্রীলঙ্কান স্পিনাররা দুর্দান্ত বোলিং করায় আরও যা আরও বেশি চোখে পড়েছে। রমেশ মেন্ডিসকে তাঁর প্রতিপক্ষ ধরলেই পার্থক্য আরও পরিষ্কার হয়েছে। তা শুধু উইকেটের সংখ্যায় নয়, মনে রাখার মতো বলের বিচারেও। আগের টেস্ট সিরিজেই সেঞ্চুরি করাতেই ৩ ইনিংসে ৫৮ রানটাকেও খুব কম বলে মনে হচ্ছে।

তাইজুল ইসলাম  

   ৬/১০
    ৩৯.৭৫ গড়ে ৮ উইকেট ও ৪.৩৩ গড়ে ১৩ রান

দ্বিতীয় টেস্টে আনকোড়া প্রাভিন জয়াবিক্রমা এত বেশি উজ্জ্বল ছিলেন বলেই আরও বেশি দীনহীন মনে হয়েছে তাঁকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন সত্যি, তবে তাতে বাংলাদেশের জন্য টার্গেট সেট করতে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের নির্বিচার চালানোরও বেশ বড় ভূমিকা। প্রথম টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ৪৫ ওভারে ১৬৩ রানে ২ উইকেটই বরং এই সিরিজে বাংলাদেশের এক নম্বর টেস্ট স্পিনারের জন্য প্রতীকি রূপ। তারপরও ইনিংসে ৫ উইকেট যেহেতু ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির সমতুল্য, একটু গ্রেস মার্ক তাঁর প্রাপ্য।

তাসকিন আহমেদ  

  ৮/১০
   ৩৩.১২ গড়ে ৮ উইকেট ও ৬.৫০ গড়ে ১৩ রান

দুই দল মিলিয়েই সিরিজের সেরা ফাস্ট বোলারের স্বীকৃতি দিতে হবে তাঁকে। গতিময় একজন টেস্ট পেসারের জন্য হাহাকারের কথা মনে রাখলে এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাপ্তিও তাসকিন আহমেদই। ফিল্ডারদের চরম অসহযোগিতার পরও এ ধরনের উইকেটে ৩৩.১২ গড়ে ৮ উইকেট টেস্ট বোলার হিসেবে তাঁর নতুন অধ্যায় শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী হতে বলে।

আবু জায়েদ রাহী 

   ২/১০
   ০/১৪৫ ও ০ রান

এই সিরিজে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার নাম। বাংলাদেশের সেরা টেস্ট পেসার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন বলে হতাশার মাত্রাটা আরও বেশি। এই সিরিজের আগের হিসাব বলে, অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশের পেসারদের নেওয়া  উইকেটের প্রায় ৫৯ শতাংশই তাঁর। অথচ এই সিরিজে তিনি উইকেটশূন্য এবং এটিকে অবিচারও বলা যাচ্ছে না। মূল শক্তি সুইংয়ের দেখাই সেভাবে মেলেনি, লাইন-লেংথও ছিল এলোমেলো। পুরো ফিট ছিলেন কি না, বোলিং দেখে এ নিয়েও সংশয় জাগার কারণ ছিল। তাসকিনের চেয়ে ২৭ ওভারেরও বেশি কম করাও সংশয়টা আরও বাড়িয়ে দেয়।  

এবাদত হোসেন  

   ৩/১০
   ৯৯.০০ গড়ে ১ উইকেট

ফাস্ট বোলারসুলভ এনার্জির প্রমাণ আবারও রেখেছেন, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রূপ দিতে ব্যর্থতারও। ধারাবাহিকতার অভাবটাও খুব চোখে পড়েছে। তা শুধু স্পেল থেকে স্পেলেই না, এক ওভারের ছয় বলেও। প্রথম টেস্টের দল থেকে শুধু তাঁরই বাদ পড়ায় তাই অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। মাত্র একটি উইকেট পাওয়ার চেয়েও তার কারণ লুকিয়ে সম্ভবত ওভারপ্রতি ৪.৭১ দিয়ে ফেলায়।

শরিফুল ইসলাম  

   ৪/১০
   ৯৯.০০ গড়ে ১ উইকেট ও ০ রান

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে সরাসরি টেস্ট ক্রিকেটে লাফ দেওয়াটা সহজ কাজ নয়। তা শরিফুল লাফটা মোটামুটি ভালোই দিয়েছেন। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র এক ওভারের জন্য বল পাওয়ায় বলতে গেলে একটা ইনিংসেই বোলিং করেছেন। উইকেট একটাই। তবে প্রতিশ্রুতির ছাপটা রাখতে পেরেছেন ঠিকই।