কী শিরোনাম করা যাবে? বাংলাদেশের স্বপ্নের দিন! হঠাৎ করে স্কোরকার্ডে তাকিয়ে ৪৬৯-৬ লেখা দেখলে কথাটা হয়তো রসিকতাই শোনাবে। কিন্তু আগের দিনের ওই ২৯১-১ স্কোরকার্ডের পাশে আজকের এই স্কোরকার্ড রাখলে? তখন হয়তো এটাকে একেবারে রসিকতা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

এই স্বপ্নের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছেন যিনি, সেই তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশ দলের সাদারঙা জার্সিটা গায়ে তুলেছেন প্রায় চার বছর পর। আর প্রত্যাবর্তনেই এমন বোলিং করছেন যে, সবাই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযুক্ত হলেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন উৎপলশুভ্রডটকম-এর ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়ে নিয়মিত আয়োজন শুভ্র.আলাপকে।

মাঝের সময়টা তাসকিন যে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে গেছেন, এখন তিনি তারই প্রতিদান পাচ্ছেন বলে মনে করছেন দুর্জয়। কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় তিনি আরও বলছেন, প্রত্যাবর্তনের জন্য যে একটু বাড়তি শ্রম, একটু অসাধারণ কিছু করার দরকার পড়ে; করোনা মহামারীর শুরুর সময় থেকে তাসকিন তা করেছেন। অল্প বয়সে পেয়ে যাওয়া খ্যাতি আর গ্ল্যামারাস লাইফের মোহ ভুলে তাসকিন এখন আবারও সুপথে ফিরেছেন বলেও ধারণা তাঁর। এর একটা বড় তাৎপর্যও দেখছেন দুর্জয়। এই পরিশ্রম করার মানসিকতা ধরে রেখে তাসকিন এভাবেই এগিয়ে গেলে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নে বিভোর মানুষদের জন্যে তিনি হতে পারেন এক অনুপ্রেরণার নাম।

টেস্ট ম্যাচে সর্বশেষ বাংলাদেশের কোনো ফাস্ট বোলারকে এমন তেড়েফুঁড়ে বোলিং করতে দেখার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে উৎপল শুভ্রর মনে পড়ল শাহাদাত হোসেনকে। শরীরী ভাষা, বলের গতি, আক্রমণাত্মক মানসিকতা সব মিলিয়ে এমন ফাস্ট বোলার বাংলাদেশে এসেছেই তো হাতেগোণা কয়েকজন।

উৎপল শুভ্রর কথা শুনে যাঁদের একজনের কথা মনে পড়ে গেল দুর্জয়ের। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের মাশরাফি। কোথায় মিল বোঝাতে মাশরাফির অভিষেক টেস্টে ফেরত গেলেন তিনি, 'জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে, পাইলট কিপিং করছিল, আমরা স্লিপে। একটু মেঘলাই ছিল আকাশটা। পাইলট (মাশরাফির) প্রথম বলটা যখন ধরল, ওর অবাক দৃষ্টিটা এখনো মনে পড়ে আমার। এত জোরে বল ও কখনো ধরেনি। তো (মাশরাফির) ওই অ্যাগ্রেশন, কিংবা শাহাদাত, কিংবা ক্যারিয়ারের শুরুর তাসকিনের যে অ্যাগ্রেশন আমরা দেখেছি; এগুলো টেস্ট ক্রিকেটের জন্য খুব জরুরি।'

সিরিজ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলা যেতে পারে তাসকিনের অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনকেই। ছবি: এসএলসি

মাশরাফির সেই অভিষেক টেস্টে মাশরাফির সেই চমকে দেওয়ার কথা উৎপল শুভ্ররও মনে আছে। তিনি যে শাহাদাতের কথাই শুধু বলেছেন, তা তাসকিনের আগে সর্বশেষ বোলারকে বোঝাতেই।দুর্জয়ের কথার সূত্র ধরেই মাশরাফির অভিষেক টেস্টেরই আরেকটি গল্পও বললেন তিনি। তাঁর তখনকার সহকর্মী মোস্তফা মামুনের একটা স্টোরি করার কথা ছিল মাশরাফিকে নিয়ে। তো মাশরাফিকে নিয়ে যখন ক্রিকেটার ফারুক আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে গেছেন, মাঠ থেকে চোখ না সরিয়ে ফারুক বলেছিলন, 'আরে মিয়া, রাখো, আগে বোলিং দেখতে দাও। বাংলাদেশের একটা বোলার জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের ব্যাকফুটে নিয়ে যাচ্ছে, এটাই তো জীবনে দেখি নাই!'

তাসকিনে আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন, নতুবা বাংলাদেশের বাকি বোলাররাও বেশ ভালোই বল করেছেন আজ। আগের দিন উৎপল শুভ্রর সমালোচনা শুনেই বোধ হয়, দ্বিতীয় দিনে এসে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন তাইজুল ইসলামও! আজ দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে তাসকিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট যেখানে শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং করেছেন, সেটির অকুণ্ঠ প্রশংসা করলেন উৎপল শুভ্র। উইকেট বিবেচনায় দুর্জয়ও কৃতিত্ব দিচ্ছেন বোলারদের।

প্রথম দিনশেষের শুভ্র আলাপেই উইকেটের চরিত্র দেখে এই টেস্টের ভাগ্যে ড্র লেখা আছে বলে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন নাফিস ইকবাল। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে দুর্জয়ের কথাতেও অনেকটা সেই সুরই। যদিও শুকনো উইকেট বলে স্পিনাররা শেষদিকে কিছুটা সুবিধা পাবেন, আজ দিনের শেষভাগে বৃষ্টি হয়েছে বলে উইকেটে জমে থাকা আর্দ্রতার সুবিধা কাল সকালভাগে পাবেন পেসাররাও; তখন কোনো নাটকীয় কিছু দেখার লোভ থাকছে দুর্জয়ের মনেও।

নতুবা আরও একটু বিরক্তি-জাগানিয়া টেস্টের দেখাই মিলবে পাল্লেকেলেতে। যেমন মিলেছিল সিরিজের প্রথম টেস্টে, কিংবা সনাৎ জয়াসুরিয়া-রোশান মহানামার ব্যাটে '৯৭-য়ের কলম্বোতে!