উৎপল শুভ্র: উইকেটকিপিং বিশ্বরেকর্ডটা আবারও নিজের করে নেওয়ায় মার্ক বাউচার, আপনাকে অভিনন্দন। গিলক্রিস্ট থাকলে রেকর্ডটা নিয়ে আপনাদের দুজনের খেলাটা খুব জমত!

মার্ক বাউচার: হ্যাঁ, আমিও তা উপভোগই করতাম। তবে গিলক্রিস্টের সঙ্গে আমার একটা পার্থক্য দেখবেন। শুধু গিলক্রিস্টই কেন, প্রতিটি কিপারই দেখবেন, নির্দিষ্ট একজন বোলারের বলেই তাঁর বেশি ডিসমিসাল। গিলক্রিস্ট-ওয়ার্ন, সাঙ্গাকারা-মুরালিধরন এমন সব কম্বিনেশন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের এমন কোনো স্পিনার নেই, যার সঙ্গে আমার এমন কম্বিনেশন হতে পারে। তবে গত কিছুদিন ডেল স্টেইনের বলে আমি বেশ কিছু ক্যাচ নিয়েছি। আশা করি, ভবিষ্যতে ওর সঙ্গে আমার ভালো একটা কম্বিনেশন হবে।

শুভ্র: উইকেটকিপিং তো ক্রিকেটের সবচেয়ে আনগ্ল্যামারাস কাজ, ভুল করলেই শুধু সবার নজরে আসে।

বাউচার: উইকেটকিপার হওয়ার এটাই জ্বালা। আপনি যেমন বললেন, সারা দিন সব ক্যাচ ধরেও শেষে গিয়ে একটা ক্যাচ ফেললেই সবাই বলবে, ওর একটা বাজে দিন গেল। উইকেটকিপারদের এটা মেনে নিয়েই খেলতে হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে লাইমলাইট খুব একটা পছন্দ করি না, উইকেটকিপার হওয়ার জন্য একেবারে ঠিক চরিত্র। উইকেটকিপারদের মানসিকভাবে খুব শক্ত হতে হয়।

শুভ্র: এখন তো ভালো ব্যাটসম্যানও হতে হয়! ইদানীং উইকেটকিপারদের ব্যাটিংয়ের ব্যাপারে এই যে বাড়তি গুরুত্ব, এতে কি উইকেটকিপিংয়ের মান নেমে গেছে?

বাউচার: আমি তা মনে করি না। এটা সত্যি যে অতীতে অনেক উইকেটকিপার শুধু কিপিংয়ের দিকেই মনোযোগ দিত, ব্যাটিং নিয়ে তেমন ভাবতই না। অলরাউন্ড ক্রিকেটার হিসেবে উইকেটকিপাররা আগের চেয়ে বরং ভালো হয়েছে। প্রথম কাজটা এখনো অবশ্যই সবগুলো ক্যাচ ধরা বা ডিসমিসালের সুযোগকে কাজে লাগানো; তবে খেলাটা যেখানে এসেছে তাতে ব্যাটিংয়ে রান করাটাও এখন উইকেটকিপারদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বর্তমান ক্রিকেটে অলরাউন্ডাররা খুব গুরুত্বপূর্ণ, উইকেটকিপাররাও এখন অলরাউন্ডার। কিপিং অবশ্যই প্রথম কাজ, তবে একই সঙ্গে ক্ষমতা থাকতে হবে ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলারও।

শুভ্র: এ কথা শুনলে যে কারও চোখে এখন অ্যাডাম গিলক্রিস্টের চেহারাটা চোখে ভাসবে। গিলক্রিস্টের মতো কেউ কি আর কখনো আসবে?

বাউচার: এটা মানতেই হবে, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সাম্প্রতিক ক্রিকেটে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের মানদণ্ডটা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। তবে কে জানে, আরেকজন কেউ এসে এটিকে আরও উচ্চতর মানদণ্ড ঠিক করে দেবে কি না। খেলাটা নিয়ত সামনের দিকে যাচ্ছে, বদলাচ্ছে, টোয়েন্টি-টোয়েন্টি এসেছে, হয়তো আরও কিছু আসবে। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট উইকেটকিপার সম্পর্কে ধারণাটাই বদলে দিয়েছে। তবে কে বলতে পারে, হয়তো কোথাও কোনো তরুণ বেড়ে উঠছে, যে এটিকে আবারও বদলে দেবে।

শুভ্র: উইকেটকিপারদের মধ্যে ‘আইডল’ ছিল কেউ?

বাউচার: ইয়ান হিলিকে দেখতে খুব পছন্দ করতাম। ব্যাট হাতে গিলক্রিস্টের মতো বিধ্বংসী ছিলেন না, তবে উইকেটকিপার হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। 

শুভ্র: টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল আপনার। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় ডিসমিসালটি বেছে নেওয়া কঠিনই হওয়ার কথা।

বাউচার: বেশ কটাই আছে। তবে পাকিস্তানে যে স্টাম্পিংটি করে আমি ইয়ান হিলির রেকর্ড ভেঙেছি, সেটি সব সময়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর বাইরেও অনেক ক্যাচ আছে, যা ম্যাচের ওই সময়ে হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসলে প্রতিটি ক্যাচই আমার কাছে আনন্দের, আরেকটি ক্যাচ মানেই তো আরেকজন ব্যাটসম্যান কমল!

উইকেটকিপার হিসাবে একের পর এক শৃঙ্গ ছুঁয়েছেন মার্ক বাউচারশুভ্র: এবারের প্রশ্নটা মার্ক বাউচার ও জ্যাক ক্যালিস দুজনকেই। কারণ প্রশ্নটা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট নিয়ে। বর্ণবাদ, ম্যাচ পাতানো, কোটা...দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে এত বিতর্ক কেন?

বাউচার: বিতর্কের কথা বলছেন...অন্য অনেক দল নিয়েও অনেক বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু লোকে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার কথাই বলে। ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির ব্যাপারেও একই কথা, হানসি ক্রনিয়ের দুর্ভাগ্য যে ও ধরা পড়েছিল। অন্য দেশের আরও অনেক ক্রিকেটার এতে জড়িত ছিল, যারা ধরা পড়েনি। দুর্ভাগ্যজনক হলো, ম্যাচ পাতানোর প্রসঙ্গে মানুষ সব সময় দক্ষিণ আফ্রিকার কথা বলে। অথচ অন্য অনেক দলও মোটেই ধোয়া তুলসী পাতা ছিল না। অনেক ক্রিকেটারও জড়িত ছিল, যাদের বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জ্যাক ক্যালিস: মার্কই সব বলে দিয়েছে। আমারও ওই একই কথা, অন্য অনেক দেশের অনেক খেলোয়াড়ই এতে জড়িত ছিল, যা নিয়ে সেভাবে কথা হয় না।

শুভ্র: শুধু ম্যাচ পাতানোর কথাই হচ্ছে না, দল নির্বাচন, কোটা পদ্ধতি এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত কারণেও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট নিয়মিতই সংবাদ শিরোনাম হয়ে যাচ্ছে। এই সফরের আগেই যেমন হলো। আপনাদেরও তো এগুলো ভালো লাগার কথা নয়।

ক্যালিস: তা তো ঠিকই। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কাজ হলো মাঠে নেমে শতভাগ ঢেলে দেওয়া। নির্বাচকদের কাজ হলো দল নির্বাচন করা। কেউ যদি তাতে নাক গলায়, সেটি খুব দুর্ভাগ্যজনক। এই সফরের আগেই যেমন আমাদের বোর্ড সভাপতি নাক গলালেন, যেটি তাঁর উচিত হয়নি। এসবে আসল কাজ থেকে আমাদের ফোকাস সরে যায়।

শুভ্র: হানসি ক্রনিয়ে আপনাদের কাছে এখনো বড় একটা আবেগের জায়গা বলে মনে হচ্ছে।

ক্যালিস: আমি যাদের অধিনায়কত্বে খেলেছি, তাদের মধ্যে ক্রনিয়েই সেরা। ও ম্যাচ পাতানোতে জড়িত ছিল, এটা আমি এখনো বিশ্বাস করি না। ওর দেওয়া উচিত হয়নি, এমন কিছু তথ্য হয়তো ও অন্যদের দিয়েছে। ক্রনিয়ের যা হয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে আরও অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই সতর্কবাণী হয়ে এসেছে। অথচ ওকেই সব কিছুর বলি হতে হলো। হানসি যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছে, আমাদের কাছে সেটাই ওর রেখে যাওয়া চিরন্তন স্মৃতি। আজ আমরা যেখানে আছি, এতেও ওর অবদান আছে। ওর অধিনায়কত্বে খেলেছে, এমন খেলোয়াড়দের জিজ্ঞেস করলে শতকরা ৯৯ দশমিক ৯৯ জনই আপনাকে বলবে, ওরা যাদের নেতৃত্বে খেলেছে তাদের মধ্যে হানসি ক্রনিয়েই সেরা।

বাউচার: আমারও ওই একই কথা, পুরো ব্যাপারটায় হানসিকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। এটা যেমন অন্যায়, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট দলকেই এর সমার্থক বানিয়ে ফেলাটাও তা-ই। আমরা এমন আরও অনেক খেলোয়াড়ের কথাই জানি, যারা এমন অপকর্ম করেও দিব্যি আছে। কেন, প্রশ্নটা আমরা এখনো করে যাচ্ছি। সব তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য হানসি ছিল এক প্রেরণা। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ম্যাচ পাতানোর পুরো ঝড়টাই গেছে হানসির ওপর দিয়ে। তবে আমারও বিশ্বাস, ও ম্যাচ পাতায়নি, তথ্য দিয়েছে। ওর সঙ্গে আমরা যারা খেলেছি, তারা সবাই এ নিয়ে হতাশ-ক্ষুব্ধ।

শুভ্র: ওই ঘটনার পরও কি ক্রনিয়ের সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ ছিল? 

বাউচার: অবশ্যই। এত বছর কারও সঙ্গে খেললে সে শুধু টিমমেটই থাকে না, ভাইয়ের মতো হয়ে যায়। আমাদের কাছে হানসি ছিল একই সঙ্গে ভাই ও অধিনায়ক। অত কিছু হয়ে যাওয়ার পরও ওর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। ও যা করেছে, তা ছিল অন্যায়। তবে আপনার খুব কাছের কেউ বড় কোনো অন্যায় করলেও আপনি কি তাকে ছুড়ে ফেলবেন নাকি? হানসি ধরা পড়ার পরও আমরা একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। একসঙ্গে খেলা দেখেছি, মজা করেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের যোগাযোগ ছিল।

শুভ্র: জ্যাক, হানসি ক্রনিয়ের কথা বললে প্রথমেই আপনার কী মনে পড়ে?

ক্যালিস: ও ছিল খুব টাফ। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ওর প্রত্যাশাটা ছিল খুব উঁচু তারে বাঁধা। তবে তার চরিত্রের অন্য একটা দিকও ছিল। মাঠের বাইরে ও ছিল খুব মজার মানুষ। মজা করত, এর-ওর পেছনে লাগত।

শুভ্র: ম্যাচ পাতানো প্রসঙ্গ থাক। এই প্রশ্নটা ক্যালিসকে—অলরাউন্ডারদের বিচার করার সবচেয়ে স্বীকৃত উপায় ব্যাটিং ও বোলিং-গড়ের পার্থক্য। সেই বিচারে ক্রিকেট ইতিহাসের অনেক বড় বড় অলরাউন্ডারও আপনার পেছনে পড়ে যায়। অথচ আপনি প্রাপ্য স্বীকৃতিটা পেয়েছেন বলে মনে হয় না।কারণটা কী?

ক্যালিস: একটা কারণ হতে পারে, আমার চরিত্র। আমি কখনোই লাইমলাইটটা খুব উপভোগ করি না। আর কে আমাকে স্বীকৃতি দিল না দিল, সত্যি বলছি তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। ক্রিকেটটা আমি কখনোই নাম কামানোর জন্য খেলিনি। আমি ক্রিকেট খেলি খেলাটা উপভোগ করি বলে। এটাও জানি যে, গত বছর দুয়েক আমি আমার জীবনের সেরা ক্রিকেট খেলছি।

শুভ্র: আপনি যখন বেড়ে উঠছেন, তখন তো ইমরান-বোথাম-কপিল-হ্যাডলির মতো অলরাউন্ডাররা বিশ্ব ক্রিকেট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে কাউকে কি আদর্শ মানতেন?

ক্যালিস: নট রিয়েলি। আমি যখন খেলা শুরু করি, দক্ষিণ আফ্রিকা তো তখন নিষিদ্ধ। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের তেমন যোগাযোগই ছিল না। বিশ্বের অন্য দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের বড় একটা পার্থক্যও ছিল। টেস্ট নয়, আমাদের স্বপ্ন ছিল প্রাদেশিক দলে স্থান পাওয়া।

শুভ্র: ওই সময়টায় দক্ষিণ আফ্রিকান টেলিভিশনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কি একদমই ছিল না?

ক্যালিস: বলতে গেলে একদমই না। কালেভদ্রে হয়তো কোনো টেস্টের একটু-আধটু হাইলাইটস।

শুভ্র: টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পরই পাকিস্তান সিরিজে আপনি যেভাবে জ্বলে উঠলেন, নির্বাচকদের দেখিয়ে দেওয়াটা নিশ্চয়ই তাতে বাড়তি প্রেরণা ছিল?

ক্যালিস: না, না, আমি কখনোই সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করার জন্য ক্রিকেট খেলিনি। আমাকে টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে অজানা কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কারণটা অজানাও নয়, তবে আমি এখনই তা বলতে চাই না। চুক্তির বাধ্যবাধকতা আছে। খেলা ছাড়ার পর হয়তো সব বলব।

শুভ্র: আপনি এখনই কারণটা বলে আমাকে বিখ্যাত করে দিতে পারেন!

ক্যালিস: (হাসি) তা পারি। কিন্তু এখনই বলাটা ঠিক হবে না।

ক্ল্যাসিকাল ব্যাটিংয়ের এক প্রতিচ্ছবি ছিলেন জ্যাক ক্যালিস। সঙ্গে বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে অবিশ্বাস্য এক প্যাকেজশুভ্র: বাউচার, আপনাকে জিজ্ঞেস করি। আপনি তো ক্যালিসের বাদ পড়াটা একদমই মানতে পারেননি। প্রতিবাদ করে জরিমানাও দিয়েছিলেন।

বাউচার: আমার মাথায় তো এখনো ঢোকে না, বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারকে কীভাবে আপনি দল থেকে বাদ দেন, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে। আমি নির্দিষ্ট কারও নাম বলিনি। বলেছিলাম, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ওকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেটাই হয়তো বড় সমস্যা হয়েছে। কারণ অনেকেই জানত, ওকে অন্য কোনো উদ্দেশ্যেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই আমাকে শাস্তি পেতে হয়েছে। তবে এ নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই। দলের ক্ষতি হবে এমন কিছু দেখলে চুপ করে থাকার লোক আমি নই। টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে জ্যাকের দলে থাকা উচিত ছিল। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমি আবার একই কথা বলব। শাস্তি হলে হবে। আমি অমন ক্রিকেটার হতে চাই না, যে নিজের বিবেককে বিসর্জন দিয়ে ক্রিকেট খেলবে। 

শুভ্র: জ্যাক ক্যালিসকে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার বললেন। আপনিই বলুন, ক্যালিস এত আন্ডাররেটেড কেন? 

বাউচার: আমি জানি না, কেন ওর নামটা আসে না। আমার কাছে এটা একটা রহস্য। তবে স্বীকৃতিতে কী আসে যায়, রেকর্ড তো ঠিকই ওর পক্ষে কথা বলবে। এই মুহূর্তে র‍্যাঙ্কিংয়ে ও কোথায়, জানি না। তবে যদি গত আট-নয়-দশ বছরের দিকে তাকান, ও সব সময়ই বিশ্বের সেরা পাঁচজনের মধ্যে ছিল। আমার চোখে ও-ই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটার। এই মুহূর্তে এমন কোনো অধিনায়ক নেই, যে তাঁর পছন্দের একাদশ নির্বাচন করতে গিয়ে প্রথমেই জ্যাক ক্যালিসের নাম লিখবে না। কখনো হয়তো ও রান করে না, কিন্তু তখন বোলিংয়ে জ্বলে ওঠে। আমরা তো মাঝেমধ্যেই মজা করে বলি, জ্যাক রান না পেলে উইকেট পাবে, উইকেট না পেলে ক্যাচ ধরবে। আমার চোখে, ও-ই বিশ্বের এক নম্বর ক্রিকেটার। কারণ শচীন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং অথবা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে ও দলকে বেশি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। দলের যখন প্রয়োজন, ও তখন বোলিংয়ে ৫ উইকেট তুলে নিতে পারে। টেন্ডুলকার-পন্টিংদের এই ক্ষমতা নেই। 

শুভ্র: প্রশ্নটা দুজনকেই। খেলা ছাড়ার আগে নির্দিষ্ট কোনো অর্জনের লক্ষ্য আছে?

ক্যালিস: আমার স্বপ্ন অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হারানো। ইংল্যান্ডকেও ইংল্যান্ডে। এই দুটি অর্জন এখনো আমার অধরাই রয়ে গেছে। আমি অবশ্যই টেস্ট সিরিজের কথা বলছি। ওয়ানডের চেয়ে টেস্টের কথাই মানুষ বেশি মনে রাখে। অস্ট্রেলিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটা টেস্ট সিরিজ জেতাটাকেই আমি মনে করি বর্তমান ক্রিকেটের চূড়ান্ত অর্জন। 

বাউচার: আমারও একই কথা।