থিসারা পেরেরাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তো রোহিত শর্মা? শুধুই ধন্যবাদ! কী বলেন, রোহিত শর্মার উচিত শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডারকে দামি কোনো উপহার -টুপহার দেওয়া। তাতেও কি তাঁকে দেওয়া থিসারা পেরেরার ‘উপহার’-এর প্রতিদান হয়! হয় না। সেটি যে অমূল্য!

ইরাঙ্গার বলে থার্ডম্যানে থিসারা পেরেরা ক্যাচ না ফেললে তো মাত্র ৪ রানেই শেষ হয়ে যায় রোহিত শর্মার ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের শেষ বলে যখন তা শেষ হলো, রোহিতের নামের পাশে ২৬৪! সংখ্যাটা এমনই বিস্ময়-জাগানিয়া যে, চোখ কচলে আবার দেখতে হয়। ওয়ানডেতে কোনো দলের ২৬৪ রানকেই যেখানে ‘লড়াই করার মতো স্কোর’ বলে মানা হয়, সেখানে একজন ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকেই ২৬৪! অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য!!

অবিশ্বাস্য এই কীর্তির সাক্ষী কলকাতার ইডেন গার্ডেন। কাল যে মাঠে ভারত-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে ম্যাচের উপলক্ষ ছিল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের দেড় শ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন। তা উদ্‌যাপনের পুরো দায়িত্বই যেন নিজের কাঁধে তুলে নিলেন রোহিত শর্মা। বীরেন্দর শেবাগের ২১৯-কে অনেক পেছনে ফেলে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ডটিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন যে, সেটি অবিনশ্বর হয়ে যায় কি না, এই আলোচনা একেবারেই অবান্তর বলে মনে হচ্ছে না।

প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি দেখতে এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৯৬২তম ম্যাচ পর্যন্ত। সময়ের হিসাবে প্রায় ৩৯ বছর। আপাত-অসম্ভবকে একবার কেউ সম্ভব প্রমাণ করে ফেললে সেটি আর কোনো ব্যাপার থাকে না। ১০০ মিটার দৌড়ে ১০ সেকেন্ড বা এক মাইল দৌড়ে চার মিনিটের ব্যারিয়ার ভাঙার পর যেমন থাকেনি, ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরিও তা-ই। শচীন টেন্ডুলকার এটিকে সম্ভব বলে প্রমাণ করার পৌনে পাঁচ বছরের মধ্যেই আরও তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। আগের তিনটির মধ্যে একটি ছিল এই রোহিত শর্মারই। রেকর্ড হিসাবে ২৬৪ রান, না দুটি ডাবল সেঞ্চুরি—কোনটির বেশি মর্যাদা পাওয়া উচিত, তর্ক হতেই পারে।

অতিমানবীয় সেই ইনিংসের সময় একটু তৃপ্তির অবকাশ খুঁজে নিলেন রোহিত শর্মা। ছবি: বিসিসিআই

সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে খেলেননি। গত আগস্টে ইংল্যান্ডে হাতের আঙুলে চোট পাওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে। শুরুতে সেই জড়তা ফুটেও বেরোচ্ছিল ব্যাটে। প্রলয়ের কোনো পূর্বাভাসই তাই মেলেনি। প্রথম ২১ বল খেলে রান মাত্র ৬। ২২তম বলে প্রথম চার। হাফ সেঞ্চুরি ৭২ বলে। সেখান থেকে ১০০ বলে সেঞ্চুরি যথেষ্টই চমকপ্রদ।

সেই ‘চমকপ্রদ’ শব্দটি বাতাসে উড়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্রমশ বিস্ময়ে রূপান্তরিত। ১০০ থেকে ১৫০ হতে মাত্র ২৫ বল। ২৬ বলে ১৫০ থেকে ২০০। দুটি ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়ে ফেলার পর মাত্র ১৫ বলে পঞ্চম ফিফটি যেন সেটির উদ্‌যাপন! ২০১ রানে অবশ্য আবারও পেয়েছেন ভাগ্যের ছোঁয়া, এবার ক্যাচ ফেললেন সেকুগে প্রসন্ন। পরের ২০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছয় নিশ্চয়ই প্রসন্নর বুকে শেল হয়ে বিঁধেছে। সব মিলিয়ে ১৭৩ বলের ইনিংসে ৩৩টি চার ও ৯টি ছয়। ওয়ানডেতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি চারের রেকর্ডটিও এখন রোহিত শর্মার।

আরেকটি রেকর্ড হলো না মাত্র এক বলের জন্য। ওয়ানডেতে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডটি সুনীল গাভাস্কারেরই থাকল। এটি ওয়ানডের সেই আদ্যিকালে, ১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপে। ১৭৪ বল খেলে গাভাস্কার কত করেছিলেন, জানেন?

অপরাজিত ৩৬!