ক্রিকেটে আগ্রহ আছে? শুধু বর্তমান নয়, ক্রিকেটের অতীত নিয়েও মোটামুটি জানাশোনা আছে বলে গর্বও? তাহলে আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, আবদুল কাদিরকে চেনেন?

খুব মাইন্ড করেছেন বুঝতে পারছি। করাটাই স্বাভাবিক। সত্যিই তো, আপনার ক্রেডেনশিয়ালস সম্পর্কে এত খোঁজখবর নেওয়ার পর এ কেমন ধারার প্রশ্ন! ক্রিকেটে মোটামুটি আগ্রহ আছে, এমন কে না আবদুল কাদিরকে চেনে! তিনি তো কিংবদন্তি। পরে শেন ওয়ার্ন লেগ স্পিন বোলিংকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সত্যি, কিন্তু মৃতপ্রায় এই শিল্পের পুনরুজ্জীবন তো এই পাকিস্তানি লেগ স্পিনারের হাতেই, আরও নির্দিষ্ট করে বললে, কব্জিতে। কে জানে, ক্যারিয়ার রেকর্ডটাও আপনার মুখস্থ থাকতে পারে। ৬৭ টেস্টে ২৩৬ উইকেট, ১০৪ ওয়ানডেতে ১৩২।

কিন্তু আমি যে দেখছি, আবদুল কাদির টেস্ট খেলেছেন ৪টি। তাতে ৩৪ গড়ে ২৭২ রান। ২টি হাফ সেঞ্চুরি, এর মধ্যে বড়টি ৯৫। আচ্ছা, আচ্ছা, একটা স্টাম্পিংও তো দেখছি নামের পাশে। তার মানে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। কী, ধন্দে পড়ে গেলেন তো? একটু কি বিরক্তও! আজ এপ্রিল মাসের প্রথম দিন হলেও না হয় এই রসিকতার একটা অর্থ খুঁজে পাওয়া যেত।

আসলে রসিকতা নয়। আমি আবদুল কাদিরের কথাই বলছি। আরেক আবদুল কাদির। কিংবদন্তি 'মিতা'র আলোয় যে আবদুল কাদির রীতিমতো অদৃশ্যই হয়ে গেছেন। এমনই যে, নামের আদ্যক্ষরে পার্থক্য (লেগ স্পিনার কাদিরের 'Q', এই কাদিরের 'K') থাকার পরও গুগলে Abdul Kadir লিখে সার্চ দিলে সেটি স্বপ্রণোদিত হয়ে Abdul Qadir বানিয়ে দেয়। আবদুল কাদির বলতে গুগলও দেখছি একজনকেই চেনে!

কিন্তু আবদুল কাদির নাম্বার টু-র ক্যারিয়ারেও কি মনে রাখার মতো কিছু নেই? নাম্বার টু! নাম্বার টু কেন? পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রথম আবদুল কাদির তো তিনিই। যখন তাঁর টেস্ট অভিষেক, লেগ স্পিনার আবদুল কাদির তখন নয় বছরের বালক। ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে শুরু ক্যারিয়ার অবশ্য ১৯৬৫ সালের জানুয়ারিতেই শেষ। দিন-ক্ষণ ধরে হিসাব করলে স্থায়িত্ব তিন মাস নয় দিন। ২১ বছর বয়সেই শেষ টেস্ট ক্যারিয়ার, যে বয়সে বেশির ভাগ ক্রিকেটার কোনো একদিন টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখে।

এই ছোট্ট ক্যারিয়ারেই কিন্তু গল্প করার অনেক উপাদান। ২০০২ সালে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন বলে আবদুল কাদিরের নিজের তা করার উপায় নেই। সেই দায়িত্ব না হয় আমিই নিই। ৫৬ বছর আগে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ান-অফ টেস্টে অভিষেক। যে টেস্টে পাকিস্তানের ব্লেজার পরে প্রথম টস করতে নেমেছিলেন হানিফ মোহাম্মদ। অভিষেক হয়েছিল কাদির ছাড়াও আরও পাঁচজনের। যাঁদের মধ্যে দুজন পরে পাকিস্তানের অধিনায়ক হয়েছেন। আসিফ ইকবাল ও মাজিদ খান।

কাদির প্রসঙ্গে হানিফ মোহাম্মদকে টেনে আনার কারণ আছে। বিস্মৃতপ্রায় এই আবদুল কাদিরের গল্প বলতে যে হানিফের সাহায্য লাগবে। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হলেও ব্যাটিংটা ভালোই পারতেন। এতটাই ভালো যে, আবদুল কাদির ছিলেন ওপেনার। টেস্ট অভিষেকেও ওপেনই করেছেন। সঙ্গী আরেক ডেবুট্যান্ট বিলি ইবাদুল্লা, যাঁর জন্য এটি ছিল এক যুগের অপেক্ষার অবসান। ১৯৫২ সালে ভারতে পাকিস্তানের প্রথম সফরের দলেও ছিলেন ইবাদুল্লা, কিন্তু কোনো টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। মাঝের বছরগুলোয় ইংলিশ কাউন্টি ওয়ারউইকশায়ারে দুর্দান্ত খেলে আবারও বাধ্য করেছেন তাঁকে দলে ডাকতে।

দুই ডেবুট্যান্ট মিলে পরাক্রান্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৪৯ রানের জুটি। যেকোনো উইকেটেই তখন যা পাকিস্তানের সর্বোচ্চ। উদ্বোধনী জুটিতে পাকিস্তানের রেকর্ড হিসাবে এটি অমলিন ছিল প্রায় ৩৪ বছর। অভিষিক্ত দুই ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড হয়ে আছে এখনো।

আবদুল কাদির ও খালিদ 'বিলি' ইবাদুল্লা: অভিষেকেই রেকর্ড গড়া দুই ওপেনার। দুজনের তোলা ২৪৯ রান দুই অভিষিক্তের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড হয়ে আছে এখনো। ছবি: সংগৃহীত

ওই জুটি ২৪৯-এ থেমে যাওয়াও তো চরম দুর্ভাগ্যে। সেই দুর্ভাগ্যের শিকারও আবদুল কাদির। উইকেট থেকে অনেকটা বেরিয়ে এসে অফ স্পিনার টম ভিভার্সকে মিড অফে ড্রাইভ করেছিলেন। বিল লরি বল ধরে রিফ্লেক্স অ্যাকশনে উইকেটকিপার ওয়ালি গ্রাউটের দিকে থ্রো করেন। ক্রিজে ফিরতে গিয়ে পিছলে পড়ে গিয়ে রান আউট হয়ে যান কাদির। সেঞ্চুরি থেকে তখন তিনি মাত্র ৫ রান দূরে। আসন্ন সেঞ্চুরিকে বরণ করে নিতে গ্যালারিতে কাদিরের পরিবারের সদস্যরা ফুলের মালা নিয়ে অপেক্ষমান।

কাদিরের গল্প বলতে হানিফ মোহাম্মদের সাহায্য লাগবে বলেছিলাম। ৯৫ রানে কাদিরের রান আউটের বিস্তারিত জানা এবং জানানো সম্ভব হলো তো হানিফের আত্মজীবনী 'প্লেয়িং ফর পাকিস্তান' বইটা হাতের কাছে ছিল বলেই। ইন্টারনেটে অনেক ঘেঁটেও কাদির সম্পর্কে কিছু না পেয়ে 'দেখি, হানিফ কিছু লিখেছেন কি না' আশা নিয়ে যে বইটার শরণাপন্ন হয়েছি। যাতে কাদিরের আউটটি নিয়ে সমবেদনাও আছে। শুদ্ধ একটা ক্রিকেটিং শট খেলে এবং কোনো রান নেওয়ার চেষ্টা না করেও এমন আউট যে কতটা দুর্ভাগ্যজনক, তা নিয়ে আফসোসও।

কাদির সেঞ্চুরি না পেলেও ইবাদুল্লা তা ঠিকই পেয়েছিলেন। সেটিও বড় সেঞ্চুরি---১৬৬। কাদির ওই দুর্ভাগ্যের শিকার না হলে এক ইনিংসে দুই ডেবুট্যান্টের সেঞ্চুরি দেখতে টেস্ট ক্রিকেটকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না (ঘটনাচক্রে তা করেছেন দুই পাকিস্তানিই, আলী নাকভি ও আজহার মেহমুদ)।

দ্বিতীয় ইনিংসেও কাদির স্বাভাবিক আউট হননি। এবার হিট উইকেট। হিট উইকেট যখন, সেটি কোনো ফাস্ট বোলারের বলেই হবে অনুমান করা মোটেই কঠিন কিছু নয়। সেই অনুমান একেবারেই ভুল। কাদির হিট উইকেট হয়েছিলেন এক অফ স্পিনারের বলে। প্রথম ইনিংসে যাঁর বলে অফ ড্রাইভ করে রান আউট হয়েছিলেন, সেই টম ভিভার্স!

মাসখানেক পর পাকিস্তানের প্রথম অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট, আবদুল কাদিরের গল্পে যেখানে আরও প্রত্যক্ষভাবে আসবেন হানিফ মোহাম্মদ। আগের দিন নেটে বল সাঁই সাঁই করে উড়তে দেখে যে ভয় পেয়েছিলেন হানিফ, পরদিন সেটিই সত্যি হলো। গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জির প্রথম ওভারের তৃতীয় বলই ছোবল দিল কাদিরের গ্লাভসে। ডান হাতের বুড়ো আঙুল তো ভাঙলই, আউটও হয়ে গেলেন। বল ক্যাচ হয়ে উড়ে গেল স্লিপে, যেটি ধরে টেস্ট ক্রিকেটের পাতায় প্রথম নিজের নাম লিখলেন সে টেস্টেই অভিষিক্ত ইয়ান চ্যাপেল।

চোট পাওয়া আঙুল নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিলেন ৭ নম্বরে। উইকেটে সঙ্গী পেলেন অধিনায়ক হানিফকে। ১৪০ মিনিট লড়াই করে ১২৫ বল খেলে করেছিলেন মাত্র ৩৫ রান। হানিফের তুলনায় এটিকেই বলতে হবে 'হ্যারিকেন ইনিংস'! ৪৬ রানের জুটিতে ৩৫-ই তো কাদিরের! জুটিটাও ভেঙেছে হানিফের আউটে। যেটি আসলে আউট ছিল না।

প্রথম ইনিংসে ৯৫ রানে রান আউট হয়েছেন ক্রিজে ফিরতে গিয়ে পিছলে পড়ে যাওয়ায়। দ্বিতীয় ইনিংসে হয়েছেন হিট উইকেট। টেস্ট অভিষেকে পার্টনারশিপ রেকর্ড গড়েও তাই তা উদযাপন করা হয়নি আবদুল কাদিরের। এভাবেই শুরু তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার, শুরু তাঁর দুর্ভাগ্যের গল্পেরও। 

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন, দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবাস পাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির। আঙুলের চোটে কাতর কাদিরকে স্ট্রাইক থেকে সরাতে নন স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে একটু ঝুঁকিপূর্ণ একটা রানের জন্য দৌড় দিয়েছিলেন হানিফ। অন্য প্রান্তের ক্রিজের কাছাকাছি গিয়ে কীভাবে যেন বাঁ পায়ের প্যাডে তাঁর ব্যাট আটকে যায়। সেখান থেকেই হানিফ দেখেন, ফিল্ডারের থ্রো গ্লাভসে নিতে না পারা উইকেটকিপার ব্যারি জারম্যানের উরু আর প্যাডের মাঝখানে বল আটকে আছে। উইকেটকিপারদের সহজাত রিফ্লেক্স অ্যাকশনে জারম্যান গ্লাভসে বল ছাড়াই উইকেট ভেঙে দেন। তাঁর আপিলে কোরাস তোলেন অন্য ফিল্ডাররাও। জারম্যানের হাতে বল ছিল না দেখে হানিফ ততক্ষণে ক্রিজে ব্যাট নামিয়ে দিয়েছেন। অন্যায় আপিল করার জন্য জারম্যান তাঁর কাছে ক্ষমাও চান, তারপরই আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে বলেন, 'স্যরি, হি হ্যাজ গিভেন ইউ আউট।' এই বিস্তারিত বর্ণনাও হানিফের বই থেকেই নেওয়া।

এখানে হানিফ এসেছেন পার্শ্ব চরিত্র হিসাবে। কাদিরের গল্পে তাঁর প্রবল উপস্থিতি দুই ইনিংসের মাঝখানে। আঙুলে চোট কাদিরকে কিপিং করতে দিচ্ছে না। তাহলে কিপিং করবেন কে? কেন, অধিনায়ক নিজেই তো আছেন। জানেন কি না, হানিফ মোহাম্মদের ক্যারিয়ার শুরু উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসাবে। ১৯৫২ সালের ভারত সফরে পাকিস্তানের প্রথম তিন টেস্টেই তো কিপিং করেছেন। কিন্তু বছর দুয়েক আগে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের কারণে হানিফের ওঠ-বস করতে তখনো একটু সমস্যা হয়। নিজে গ্লাভস না পরে প্রথমে তাই সেটি দিয়েছিলেন মোহাম্মদ ইলিয়াসকে। ইলিয়াসের কিপিং সুবিধার নয় দেখে শেষ পর্যন্ত হানিফই উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে বাধ্য হন এবং দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন ৫টি ক্যাচ (৪+১)। মজার ব্যাপার হলো, ক্রিকইনফোতে এই টেস্টের স্কোরকার্ডে উইকেটকিপার হিসাবে কিন্তু চিহ্নিত করা আছে আবদুল কাদিরকেই।

যিনি এই টেস্টে কিপিং গ্লাভস হাতেই তোলেননি। এটাকেও এক রকম মজাই বলতে পারেন যে, টেস্টে কাদিরের কোনো ক্যাচ নেই। একমাত্র ডিসমিসালটি স্টাম্পিং, যেটিতে আউট হয়েছেন টম ভিভার্স। মনে আছে তো নামটা? ওই যে যাঁর বলে কাদির হিট উইকেট হয়েছিলেন!

১৯৬৪-৬৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সফরের পাকিস্তান দল। মাঝের সারিতে ডান থেকে দ্বিতীয় আবদুল কাদির। ছবি: এমসিসি

অস্ট্রেলিয়ায় একমাত্র টেস্টটি খেলে সেখান থেকেই তাসমান সাগরের ওপারে পাকিস্তানের প্রথম সফর। আমরা যে আবদুল কাদিরকে নিয়ে কথা বলছি, টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর গল্পের শেষও সেখানেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজের প্রথম দুটিতে খেলেছেন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসাবে। আঙুলের চোটই কিপিং থেকে সরে যাওয়ার কারণ কি না, এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কোথাও খুঁজে পেলাম না। প্রথমটিতে ৬ নম্বরে ব্যাটিং করে ৪৬ ও ০। পরের টেস্টে আবার ওপেনারের ভূমিকায় ফিরে ১২ ও ৫৮। মজার ব্যাপার, ওপেনিংয়ে কাদিরের সঙ্গী ছিলেন উইকেটকিপার হিসাবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত নওশাদ আলী।

কাদিরের বাবা ছিলেন মসজিদের পেশ ইমাম। ইমাম সাহেবের তিন ছেলে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন। তিনজনই ছিলেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান এবং কখনো না কখনো তিনজনকেই এক ড্রেসিংরুমে পেয়েছেন হানিফ মোহাম্মদ।

আবদুল কাদিরের ওই ৫৮ সেই টেস্টে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ। তারপরও ১১ দিন পর শুরু সিরিজের শেষ টেস্টে কেন বাদ পড়লেন, তা একটা রহস্য বটে। হানিফের বইয়েও এর উত্তর নেই।
তবে আবদুল কাদির সম্পর্কে বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং তথ্য জানা যাচ্ছে ওই বই থেকে। কাদিরের বাবা ছিলেন মসজিদের পেশ ইমাম। ইমাম সাহেবের তিন ছেলে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন। তিনজনই ছিলেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান এবং কখনো না কখনো তিনজনকেই এক ড্রেসিংরুমে পেয়েছেন হানিফ। ৩৫ বছর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড হয়ে থাকা হানিফ মোহাম্মদের ৪৯৯ রানের ম্যাচে ছিলেন ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবদুল আজিজ। শুধু ছিলেনই না, হানিফ ৪৯৯ রানে রান আউট হওয়ার সময় আজিজই ছিলেন তাঁর পার্টনার। ওই রান আউটে অবশ্য আজিজের কোনো দায় নেই। হানিফের ৫০০ রানের শৃঙ্গে ওঠার ব্যগ্রতাতেই সর্বনাশটা হয়েছিল।

ওই ম্যাচের পরের সপ্তাহেই করাচিতে কায়েদ-ই আজম ট্রফির ফাইনালে আবদুল আজিজের মর্মান্তিক মৃত্যু। ব্যাটিংয়ের সময় আচমকা লাফিয়ে ওঠা বল লেগেছিল বুকে। তাৎক্ষণিকভাবে যেটির ভয়াবহতা বোঝা যায়নি। পরের বলটি খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎই মাঠে লুটিয়ে পড়েন আবদুল আজিজ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই সব শেষ। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই সম্ভাবনাময় একটা জীবনের কী করুণ সমাপ্তি! ভেবে অবাকই লাগে, আজিজের বুকে যে বলটি লেগেছিল, সেটি কোনো ফাস্ট বোলারের হাত থেকেও বেরোয়নি। সেটি করেছিলেন দিলদার আওয়ান নামে এক অফ স্পিনার। ব্যাখ্যা হতে পারে একটাই, আজিজের হৃদযন্ত্রে আগে থেকেই হয়তো অচিহ্নিত কোনো সমস্যা ছিল।

আজিজের এমন করুণ মৃত্যুও অন্য দুই ভাইকে ক্রিকেট বিমুখ করে তুলতে পারেনি। আবদুল কাদিরের আরেক ভাই আবদুর রশিদ পিআইএ দলে খেলেছেন হানিফ মোহাম্মদের সঙ্গে।

পেশ ইমামের ছেলের খুব ধার্মিক হওয়াটাই স্বাভাবিক। আবদুল কাদিরও খুব ধার্মিক ছিলেন। তবে ধর্মীয় গোঁড়ামির উর্ধ্বে উঠে তিনি মজে ছিলেন সুফীবাদে। পেশায় ছিলেন ব্যাংকার। ২০০২ সালে ৫৮তম জন্মদিনের মাস দুয়েক আগে দিনদুনিয়ার হিসাব চুকিয়ে চলে যান ওপারে। এর অনেক আগেই জেনে গেছেন,পাকিস্তান ক্রিকেটে আবদুল কাদির বললে সবাই একজনকেই চেনে আর সেটি তিনি নন।

তবে আপনি তো এখন দুজনকেই চিনলেন। এরপর ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে বলতে কেউ যদি প্রশ্ন করেন, 'আবদুল কাদিরকে কি চেনেন?'

আপনি চোখেমুখে পাল্টা প্রশ্ন ফুটিয়ে বলবেন, 'আপনি কোন আবদুল কাদিরের কথা বলছেন?'