টেস্ট অভিষেকে ‘পেয়ার’ এক বিন্দুতে মিলিয়ে দিয়েছে তাঁদের তিনজনকে। গ্রাহাম গুচ, সাঈদ আনোয়ার ও মারভান আতাপাত্তু। দুঃস্বপ্নের ওই শুরুর পর টেস্ট ক্যারিয়ারটা বলার মতো না হলে অবশ্যই সেই মিলটা এমন বড় হয়ে উঠত না। ‘পেয়ার’ দিয়ে আরও কতজনেরই তো টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বললে আরও ৪১ জনের। এর প্রায় এক চতুর্থাংশের অবশ্য শুরুতেই শেষ। অভিষেকেই ‘চশমা’ পরার পর আর কোনোদিন টেস্ট খেলারই সুযোগ পাননি দশ জন ক্রিকেটার। সবার ক্ষেত্রে দায়টা অবশ্যই ওই ‘পেয়ার’-এর নয়। এই দলে যাঁরা বোলার, তাঁদের ‘ওয়ান টেস্ট ওয়ান্ডার’ হওয়ায় অনুমিতভাবেই বোলিং ব্যর্থতাই বেশি দায়ী। আসল কাজটা ঠিকমতো করতে পারলে ব্যাটিংয়ে জোড়া শূন্য কোনো ব্যাপারই হতো না।

সবচেয়ে বড় প্রমাণ অ্যালান ডোনাল্ড। টেস্ট অভিষেকে ‘পেয়ার’ পাওয়ার পরও খেলেছেন আরও ৭১টি টেস্ট। ১৯৯২ সালে ব্রিজটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তন–টেস্টে বল হাতে যে নিজেকে ঠিকই চিনিয়েছিলেন ‘হোয়াইট লাইটনিং’। প্রথম ইনিংসে ২ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে এর দ্বিগুণ উইকেট নিয়ে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন জয়ের মঞ্চও। সেই মঞ্চে ব্যাটসম্যানরা নিজেদের চরিত্রে ঠিকঠাক ‘অভিনয়’ করতে না পারায় টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় হতে হতেও হয়নি। এ জন্য ডোনাল্ডের ‘পেয়ার’কে দায়ী করা নিতান্তই অন্যায় হবে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ নম্বরে নেমে কার্টলি অ্যামব্রোসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গেছেন সত্যি, তবে ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের সম্ভাবনা অ্যামব্রোস-ওয়ালশের বোলিং তাণ্ডবে কর্পূরের মতো উড়ে গেছে । জয়ের জন্য তখনো আরও ৫৩ রান লাগে, অন্য প্রান্তেও কোনো ব্যাটসম্যান নেই। ডোনাল্ড হয়তো তাই ভাবলেন, খামোকা ঝামেলা করে কি লাভ! নইলে ‘পেয়ার’-এর প্রথম অর্ধেক অর্থাৎ প্রথম ইনিংসের শূন্যটাতে তো লড়াই ছিল। ১০ নম্বরে নেমে ২৩ মিনিট টিকে ছিলেন, জিমি অ্যাডামসের বাঁহাতি স্পিনে স্টাম্পড হওয়ার আগে নির্বিঘ্নে পার করে দিয়েছিলেন ২১টি বল।

অভিষেক টেস্টে ‘‌পেয়ার’ পাওয়ার পর অ্যালান ডোনাল্ডের চেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন শুধু দুজন---গ্রাহাম গুচ (১১৮) ও মারভান আতাপাত্তু (৯০)। সাঈদ আনোয়ার খেলেছেন ৫৫টি। আনোয়ারের চেয়ে একটি টেস্ট বেশি খেলার পরও কেন রাদারফোর্ড কেন এই আলোচনায় আসবেন না, এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। রাদারফোর্ড নিজেও বলতে পারেন, ’কী ব্যাপার, আমি কই? অভিষেকে “পেয়ার” তো আমিও পেয়েছি।‘

শুধু পানইনি, এমনভাবে পেয়েছেন, যা আর কেউ পায়নি। প্রথম ইনিংসে অন্তহীন মনে হওয়া ২১ মিনিট টিকে থেকে অষ্টম বলে আউট হয়েছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো বল খেলার আগেই রান আউট! টেস্ট অভিষেকে কোনো বল না খেলেই রান আউট হওয়ার ঘটনা আছে আর মাত্র দুটি। তাঁদের কেউই অবশ্য ব্যাটসম্যান নন, দুজনই পেস বোলার। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে করাচি টেস্টের প্রথম ইনিংসে এই দুর্ভাগ্যে পুড়েছিলেন পাকিস্তানি পেসার উমর গুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করারই সুযোগ না পাওয়ায় গুল অভিষেকেই ‘পেয়ার’ থেকে বঞ্চিত হন অথবা বেঁচে যান। সেই ‘শূন্য’টি তিনি করেন পেশোয়ারে পরের টেস্টের প্রথম ইনিংসে! নুয়ান প্রদীপের ঘটনা ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে। তাঁরও পরের ইনিংসটা শূন্য!

রাদারফোর্ডের দুর্গতি অবশ্য ওই ‘পেয়ারে’ই শেষ নয়। টেস্ট ক্রিকেটে কোনো ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে ভয়াবহ সূচনার দিক থেকে আতাপাত্তুর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন একমাত্র তিনিই। পার্থক্য হলো, আতাপাত্তুর দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের আগে বিরতি পড়েছিল। রাদারফোর্ড একটু হাঁফ ছাড়ারও সুযোগ পাননি। টানা চারটি টেস্ট খেলতে হওয়ায় তাঁর জন্য এ যেন ছিল অন্তহীন এক দুঃস্বপ্ন-যাত্রা। ‘পেয়ার’ দিয়ে শুরুর পর দ্বিতীয় টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ৪। পরের টেস্টে ০ ও ২, এর পর ১ ও ৫। ৭ ইনিংসে রান ১২, গড় ১.৭১।

শর্ট বলে জর্জরিত দুঃস্বপ্নের মতো সেই আভিষেক সিরিজে কেন রাদারফোর্ড

রাদারফোর্ডের বয়স তখন মাত্র ১৯। আর শুরুতেই পেয়েছেন সে সময়ের প্রমত্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বোলারদের নামগুলো নামীদামি ব্যাটসম্যানের শিরদাঁড়ায়ও শীতল স্রোত বইয়ে দেয়----গার্নার-মার্শাল-হোল্ডিং। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলারদের খেলা ছিল সে সময়কার ক্রিকেটে অগ্নিপরীক্ষার আরেক নাম। সেই ‌’অগ্নি’-ও দাউদাউ আগুন। যে আগুনে পোড়ার ভয়ে আগেই কুঁকড়ে ছিলেন রাদারফোর্ড। টেস্ট দলে প্রথম ডাক পেয়ে অনেক ক্রিকেটারই কাঁদেন। তবে সেটি হয় আনন্দাশ্রু। রাদারফোর্ড কেঁদেছিলেন ভয়ে-দু:শ্চিন্তায়।

খেলোয়াড়ি জীবনে বেশ কবার কথা হয়েছে, রাদারফোর্ডের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা ২০১৯ সালের মার্চে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরের সময়। এখন থাকেন জোহানেসবার্গে। হর্স রেসিং মানে বেটিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন টেলিভিশন কমেন্ট্রি করতে। ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে দাঁড়িয়ে আড্ডায় আবারও ফিরে গেলেন সেই দিনটিতে। এই বেসিন রিজার্ভেই নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের এক ম্যাচে দিনের খেলা শেষে সতীর্থদের সঙ্গে টিভির সামনে বসেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের নিউজিল্যান্ড দল ঘোষণা করা হবে এখনই। নিজের নাম শুনতে পেয়ে খুশি হওয়ার বদলে মাথায় যেন বাজ পড়ল রাদারফোর্ডের। ড্রেসিংরুমের ব্যালকনির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, ‘টিমমেটরা আমাকে হই হই করে অভিনন্দন জানাচ্ছে আর আমি মেকি হাসি হাসছি। ওদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে ওই ব্যালকনিতে গিয়ে আমি কাঁদতে শুরু করি।‘ সেই কান্নার কথা বলার সময় রাদারফোর্ডের মুখে হাসি!

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডে ১৯-২০ বছরের তরুণকেও যেখানে ‘কিড’ বলা হয়, সেখানে ১৯ বছরের রাদারফোর্ডকে টেস্টে নামিয়ে দেওয়াই ‘প্রডিজি’ হিসাবে চিনিয়ে দেয় তাঁকে। কাল হয়েছিল ওটাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তখনো তিনি প্রস্তত নন, গার্নার-মার্শাল-হোল্ডিংয়ের জন্য তো নয়ই। তাঁর ক্ষেত্রে যেটি হয়েছিল, সেটিকে বলা যায়, ‘আনরেডি, আনস্টেডি...গো!’ এটাকে প্রতীকিই মনে হয়, যেদিন তিনি নিউজিল্যান্ড দলে ডাক পাওয়ার খবর পেলেন, সেদিনই এর কিছুক্ষণ আগে প্রথম বলে গোল্লা মেরেছেন। যে ‘গোল্লা’ তাঁকে ক্যারিয়ার জুড়েই তাড়িয়ে বেরিয়েছে। প্র্রথম চার ইনিংসেই ৩টি, প্রথম ১৩ ইনিংসে ৬টি, ৫৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৬ বার ফিরতে হয়েছে কোনো রান না করেই। শুরুর ওই দুঃস্বপ্নই হয়তো অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশের পথে। যেটির প্রকাশ হয়েছিল ১৯৮৬ সালে নিউজিল্যান্ডের ইংল্যান্ড সফরে। স্কারবোরো ফেস্টিভ্যাল ম্যাচে ব্রায়ান ক্লোজ একাদশের বিপক্ষে ৪৫টি চার ও ৮টি ছক্কায় করেছিলেন ৩১৭ রান। ইংলিশ মৌসুমের সমাপ্তিসূচক এই বাৎসরিক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

রাদারফোর্ড এই রান করেছিলেন এক দিনেই। মধ্যাহ্ন আর চা বিরতির মাঝে এক সেশনেই ১৯৯ রান। এটা সত্যি, ফার্স্ট ক্লাস মর্যাদা পেলেও এই ম্যাচটি একটু উৎসবের মেজাজেই হয়ে থাকে। স্বাগতিক ইয়র্কশায়ার দলে বিগত যৌবন কিছু ক্রিকেটারও থাকেন। তবে এসব বলে রাদারফোর্ডের ওই ইনিংসের মহিমা কমানোর চেষ্টা করলে সেটি অন্যায় হবে। ১৮৭৬ সাল থেকে শুরু এই আয়োজনে ক্রিকেট ইতিহাসের বিখ্যাত কত ব্যাটসম্যানই তো খেলেছেন, আর কেউই তো ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারেননি। মজাটা হলো, যে সফরে রাদারফোর্ড এমন স্বমহিমায় প্রকাশিত, সেখানেও টেস্ট সিরিজে বলার মতো কিছু করতে পারেননি। লর্ডসে তিন টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে ০ ও অপরাজিত ২৪ রানের পর পরের দুই টেস্টে আর সুযোগই পাননি।

টেস্ট অভিষেকে ‘পেয়ার’ পেয়েও কীর্তিমান ব্যাটসম্যানদের আলোচনায় গুচ-আনোয়ার-আতাপাত্তুর নামটা যেভাবে আসে, রাদারফোর্ডের নামটা সেভাবে নয়। এর বড় কারণ তো অবশ্যই, প্রথম তিনজন ওই শুরুটাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে প্রমাণ করতে পেরেছেন। রাদারফোর্ডও এক অর্থে কম করেননি। ৫৬টি টেস্ট খেলেছেন, প্রায় তিন বছর অধিনায়কত্ব করেছেন নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু এতে কি অন্য একটা প্রশ্নও জাগে না! মাত্র ৩টি সেঞ্চুরি আর ২৭.০৮ গড়ের ব্যাটসম্যান এতগুলো টেস্ট খেললেন কীভাবে? এমনও তো নয় যে, অন্য অনেক ব্যাটসম্যানের মতো শেষ দিকে খারাপ খেলতে থাকায় ব্যাটিং গড়টা এত খারাপ হয়ে গেছে! শেষ দিকে বরং একটু ভালো হয়েছে সেটি। ব্যাটিং গড় ২০ ছুঁয়েছে তো ৩২তম টেস্টের পর।  

নাকের জন্যও বিখ্যাত রাদারফোর্ড। এমনই যে, তা নিয়ে কবিতাও লেখা হয়েছে

শেষ পর্যন্ত তাই যতটা না রান আর সেঞ্চুরির জন্য, তার চেয়ে বেশি ‘নাক’-এর জন্যই বিখ্যাত হয়ে আছেন কেন রাদারফোর্ড। ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে ‘বিখ্যাত নাক’-এর স্বীকৃতি পেতে রাদারফোর্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন একমাত্র সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক এবং ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় আরও বেশি বিখ্যাত বিল লরি। রাদারফোর্ডের নাক নিয়ে অনেক রসিকতাও চালু আছে। কে যেন লিখেছিলেন, বৃষ্টি হলে সুনীল গাভাস্কার ও শচীন টেন্ডুলকারের মতো দুজন নিশ্চিন্তে রাদারফোর্ডের নাকের নিচে আশ্রয় নিতে পারবেন।

রসিকতা হিসাবে ভালো হলেও এটি অবাস্তব কল্পনা। বাস্তব ঘটনাও আছে। এক ম্যাচে ফিল্ডাররা ভুলভাল আপিল করতে থাকায় রাদারফোর্ড রেগে গিয়ে বললেন, ‘এত মিথ্যা কথা বললে তোদের নাক পিনোকিওর মতো লম্বা হয়ে যাবে।‘ যা শুনে এক ফিল্ডার ফিচকে হাসি দিয়ে বলেন, ‘এত দিনে বুঝলাম, তোর নাক কীভাবে এত লম্বা হয়েছে!’

এমনই আলোচিত নাক যে, এ নিয়ে কবিতা পর্যন্ত লেখা হয়েছে, যাতে স্কোরবোর্ডের খোঁচাও আছে। কবির নাম অজানা, ‌’দ্য কিউই ক্যাপ্টেন’ পরিচয় থেকে লেখার সময়কালটা (১৯৯৩-১৯৯৫) অনুমান করা যায়।

দ্য কিউই ক্যাপ্টেন হ্যাজ সাচ আ লং নোজ,
ইট প্রট্রুডস্ ওভার হিজ ডাউন-টু-আর্থ টোজ।
হোয়েন হি প্লেস্ ফরোয়ার্ড
হি মেকস্ ইট লুক অকওয়ার্ড
দ্য রেজাল্ট? অফ কোর্স, দ্য স্কোরবোর্ড, ইট শোজ। 

খেলোয়াড়ি জীবনে হালকা-পাতলা ছিলেন বলে নাকটা বেশি চোখে পড়ত। এখন রাদারফোর্ড এমন ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন যে, নাকটা আর আগের মতো বিসদৃশ লাগে না। এক সময় বিব্রত বোধ করলেও নিজের লম্বা নাক নিয়ে এখন নিজেই মজা করেন। বয়স আর সময় সব অনুভূতির তীব্রতাই একটু কমিয়ে দেয়। নইলে কি আর শূন্য রানের সঙ্গে তাঁর যে সখ্য এক সময় খুব স্পর্শকাতর বিষয় ছিল, সেটি নিয়েও হাসতে হাসতে রসিকতা করতে পারেন! ১৯৯৫ সালে নিউজিল্যান্ড দল থেকে শেষ বারের মতো বাদ পড়ার পর চলে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে দুটি ভিন্ন দলের হয়ে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন আরও পাঁচ বছর।  প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে (দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া একদিনের টুর্নামেন্ট) তাঁর শেষ ইনিংসটাও যে ছিল শূন্য, স্বতপ্রণোদিত হয়ে সেটি জানানোর দায়িত্বও নিলেন রাদারফোর্ড নিজেই!

আত্মজীবনী নাম 'আ হেল অব আ ওয়ে টু মেক লিভিং'

নিজেকে নিয়ে রসিকতা করার এই বিরল ক্ষমতা আত্মজীবনীর নামেও প্রকাশিত। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত সেই আত্মজীবনীর নাম,‘আ হেল অব আ ওয়ে টু মেক লিভিং’। ‘হেল অব আ’ কথাটা ‘এত ভালো যে, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না’ অর্থেই সাধারণত ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কেন রাদারফোর্ড তা করেছেন আক্ষরিক অর্থেই। ক্যারিবীয় গতিদানবদের বিপক্ষে ওই ‘ব্যাপ্টিজম বাই ফায়ার’-এর পর ক্যারিয়ারজুড়েই যেমন ভুগতে হয়েছে, সেটিরই প্রতিফলক আত্মজীবনীর ওই নাম। বাংলায় যেটির আক্ষরিক অনুবাদ হতে পারে---জীবিকা নির্বাহের এক নারকীয় উপায়।

কেন রাদারফোর্ডের ছেলে হামিশ রাদারফোর্ড। প্রথম টেস্ট সিরিজে বাবার ব্যাটিং অ্যাভারেজ ছিল ১.৭১, দশমিক তুলে দিয়ে ছেলে প্রথম টেস্ট ইনিংসে করেছিলেন ১৭১

রাদারফোর্ডের গল্প কেন রাদারফোর্ডেই শেষ হয়নি। বাবার অভিষেকের প্রায় ২৮ বছর পর প্রথম টেস্ট খেলতে নামেন কেন রাদারফোর্ডের ছেলে হামিশ রাদারফোর্ড। অভিষেক সিরিজে বাবার ব্যাটিং গড় ১.৭১। আর ছেলের প্রথম টেস্ট ইনিংসটা কত ছিল, জানেন? ওই ব্যাটিং গড় থেকে দশমিকটা তুলে দিয়ে হামিশ রাদারফোর্ড করেছিলেন ১৭১!