শুভ্র.আলাপে এক দর্শকের দাবি ছিল, ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম-মুশফিক-সাকিবকে ক্রমানুসারে সাজাতে হবে। ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক নাজমূল আবেদীন ফাহিম তিনজনকেই অনেক বছর ধরে দেখে আসছেন। কাজও করেছেন তাঁদের সঙ্গে। তাঁর জন্য কাজটা তাই কঠিনই। তা জেনেই উৎপল শুভ্র প্রশ্নটা উৎপলশুভ্রডটকমের ইউটিউব শোর একেবারে শেষে করবেন বলে রেখে দিয়েছিলেন। যা করার পর বলেও দিলেন, কোনো কূটনৈতিক উত্তর দিলে চলবে না। কঠিন হলেও এক-দুই-তিন করতেই হবে।

নাজমূল আবেদীন ফাহিম অবশ্য সেই অনুরোধ রাখতে পারেননি। বরং তিনজনই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েছেন বলে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বললেন, 'তিনজনই ভীষণ প্রতিভাবান। এক-দুই-তিন, কিংবা চার-পাঁচ-ছয়ে ওদের সাজানো বেশ কঠিন। তিনজনই আন্ডার-১৭, আন্ডার-১৯ থেকে শুরু করে একসঙ্গে খেলছে। আপনি রান-অ্যাভারেজ দিয়ে আলাদা করবেন, তিনজনই এত কাছাকাছি যে, সে উপায়ও নেই। আমি তাই এক-দুই-তিন করতে যাব না। আমার চোখে তারা তিনজনই সমান।'

এক-দুই-তিন না হয় না-ই করতে পারলেন, তবে ব্যাটসম্যান সাকিব-তামিম-মুশফিকের ব্যাপারে তাঁর পর্যবেক্ষণ তো জানাতেই পারেন! নাজমূল আবেদীন ফাহিম তা জানালেনও। শুনুন তাহলে তাঁর মুখেই:

তামিম ইকবাল
আমার মনে হয়, তিনজনের মধ্যে তামিমই সবচেয়ে গিফটেড ব্যাটসম্যান। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তামিম যে ধরনের ব্যাটিং করত, তখন ওর ব্যাটিংয়ের যে ন্যাচার ছিল, যে ফিলোসফি ছিল, সেখান থেকে তামিম অনেক সরে এসেছে ইদানীং। ও যদি ওই ফিলোসফিটাই রাখত, আমার মনে হয়, ও আরও অনেক বেশি রান করতে পার‍ত। হয়তো ব্যাটসম্যান হিসেবেও আরও অনেক নাম করতে পারত। তখনো ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর স্কিল তো ছিলই, কিন্তু এর পাশাপাশি যে আগ্রাসী মনোভাব, নিজেকে বিশাল ভাবার ক্ষমতা যে, 'আই অ্যাম সামথিং ভেরি স্পেশাল'; আমাদের মতো দলের জন্য এই ব্যাপারগুলো কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাথায় রাখতে হবে, ও যখন খেলা শুরু করে, তখন আমাদের দল কিন্তু কোনো দলই না। আমরা অর্ডিনারি একটা দল, যেকোনো দল ভাবে, আমাদের দুদিনের মধ্যে হারিয়ে দেয়া সম্ভব। অস্ট্রেলিয়াতে আমরা যখন গেলাম (২০০৩ সালে), কীভাবে একদিনের মধ্যে হারিয়ে দেয়া যাবে সে কথাই বলাবলি হচ্ছিল। সেরকম একটা দলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে কেউ যখন খেলে, স্ট্রেট ড্রাইভ করে, সেটা কিন্তু অনেক গাটসের ব্যাপার। তামিমকে তাই আমি খুব হাইলি রেট করি। 

সাকিব আল হাসান
সাকিবের ব্যাপারটা হচ্ছে, হি ইজ ভেরি ইন্টেলিজেন্ট। ভেরি, ভেরি ইন্টেলিজেন্ট। সাকিবের শক্তি হচ্ছে ওর ডিফেন্স। যেকোনো জায়গায় যেকোনো বলে, শর্ট বল হোক, বল সুইং করুক-- ও ডিফেন্স করতে পারে। আর ওর লিমিটেশনটাও ও খুব ভালো বোঝে, সে অনুযায়ীই খেলে। ও বোঝে, বোলার কী চিন্তা করছে, কোন স্ট্র‍্যাটেজিতে এগোচ্ছে, কী করতে পারে। হি ইজ ভেরি ভেরি প্রো-অ্যাকটিভ, এটাই ওর স্ট্রেংথ।

মুশফিকুর রহিম
ওর ধরনটাই এমন, ও মনে করে, যত পরিশ্রম করবে, ততই ভালো করবে। মুশফিকও কিন্তু খুব ট্যালেন্টেড, তবে পরিশ্রমটাই ওর সবচেয়ে বড় শক্তি।

তামিম, সাকিব ও মুশফিককে নিয়ে উৎপল শুভ্রর সঙ্গে নাজমূল আবেদীন ফাহিমের আলাপ শুনতে পারেন এখানে: