এখন মনে পড়লে হাসিই পায়, প্রথম পরিচয়ের দিন সৌরভ গাঙ্গুলীকে আমি বিস্তর উপদেশ দিয়েছিলাম! আপনিও দেখছি হাসতে শুরু করেছেন। দাঁড়ান, দাঁড়ান, পুরোটা শুনে নিন। সৌরভ গাঙ্গুলী কি আর তখন আজকের সৌরভ গাঙ্গুলী!

আমি বলছি ১৯৮৯ বছর আগের কথা, যখন ১৭ বছরের তরুণ সৌরভ বাংলাদেশে এসেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে খেলতে। সাংবাদিকতায় আমিও তখন তরুণ, বলা যায় হাঁটি-হাঁটি পা-পা। তারপরও সৌরভের চেয়ে বয়সে তো অনেক বড়, সে অধিকার নিয়েই তাঁকে বোঝালাম, তাঁর ভালো করাটা কেন বাংলাদেশের মানুষের কাছেও পরম প্রার্থিত! কী বলেছিলাম, তা-ও মনে আছে—ভালো করে খেলো। ভারতীয় দলে কোনো বাঙালি ক্রিকেটার নেই, তুমি খেলতে পারলে বাংলাদেশের মানুষও মনে করতে পারবে আমাদের একজন টেস্ট ক্রিকেট খেলছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এটাও স্পষ্ট মনে আছে, সৌরভ বাধ্য ছেলের মতো এই ‘উপদেশ’ শুনেছিলেন এবং এই দেখুন লিখতে গিয়ে আবারও হাসি পাচ্ছে...আশীর্বাদও প্রার্থনা করেছিলেন!

সৌরভের সঙ্গে ওই আলাপচারিতা সাক্ষাৎকার বা কোনো লেখার উদ্দেশ্যে ছিল না। তখন একটি সাপ্তাহিকে শখের সাংবাদিকতা করি। শেরাটন হোটেলে যাওয়া ভারতের ওই দলের সবচেয়ে বড় তারকা বিনোদ কাম্বলির সাক্ষাৎকার নিতে। তারকা—কারণ কিছুদিন আগেই শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে স্কুল ক্রিকেটে ৬৬৪ রানের জুটি গড়েছেন, যেটি সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়েই জুটির বিশ্ব রেকর্ড। তার চেয়েও বড় কথা, তত দিনে টেস্ট খেলে ফেলা টেন্ডুলকারের চেয়েও কাম্বলির অবদান তাতে ২০ রান বেশি। তো কাম্বলিকে রুমে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে যখন পেলাম, কার সঙ্গে যেন টেবিল টেনিস খেলছেন। সৌরভ দর্শক। কাম্বলির জন্য অপেক্ষা করার সময়টাকেই ‘কাজে’ লাগালাম সৌরভকে উপদেশ দেওয়ায়! তখন কি আর কল্পনাও করেছি, একদিন তা এমন হাস্যোদ্দীপক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে! চুপ করে অযাচিত উপদেশ শোনা ওই ছেলেই কাঁপিয়ে দেবে ভূ-ভারত!

অফ সাইডে শুধু ঈশ্বরকেই যাঁর ওপরে রেখেছেন রাহুল দ্রাবিড়, সেই ব্যাটসম্যান সৌরভ এই লেখার বিষয় নয়। এমনিতে নিরীহদর্শন মিডিয়াম পেসের কার্যকারিতা দেখে অধিনায়ক শচীন টেন্ডুলকার যাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমার গোপন অস্ত্র’, সেই বোলার সৌরভও নয়। নয় রেকর্ড-বইয়ে ভারতের সফলতম কিন্তু প্রভাবে তার চেয়েও অনেক বড় অধিনায়ক সৌরভও। এসব নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে, সৌরভের বিদায়ের পর তো আরও হচ্ছে। এই মিছিলে যোগ না দিয়ে এই লেখাটা একান্তই ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা। গত ১৯ বছরে মনের পর্দার অনপনেয় ছাপ রেখে যাওয়া সৌরভের টুকরো টুকরো সব ছবির কোলাজ।

তাঁকে ঘিরে পশ্চিম বাংলায় যে উন্মাদনা, সেটির সঙ্গে তো অবশ্যই তুলনা চলে না। তবে বাংলাদেশেও সৌরভ গাঙ্গুলী অন্য রকম এক আবেগ হয়েই ছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে হলে ভিন্ন কথা, নইলে সৌরভের সাফল্য যেন পাশের বাড়ির ছেলেটির বিশ্বজয়। সৌরভের জয়ে যেন বিম্বিত নিজেরও জয়। শুরুর দিকে কারণ ছিল শুধু বাঙালি পরিচয়টাই। শেষের দিকে অবশ্যই নয়। সৌরভ তখন দেশ-জাতি-ধর্ম সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে গিয়ে মানুষের চিরন্তন লড়াইয়ের গল্পে পরিণত। মার খেতে খেতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সবাইকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অবিশ্বাস্য যে দৃশ্য শুধু রুপালি পর্দাতেই দেখে অভ্যস্ত সবাই, সেটিকেই বারবার বাস্তবে নামিয়ে আনার নায়ক। প্রতিটি মানুষের মনেই যা করার স্বপ্ন থাকে এবং বেশির ভাগই পারে না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়বেলায় সতীর্থদের কাঁধে। ছবি: রয়টার্স

ক্রিকেটের মিনিয়েচারে জীবনের প্রতিচ্ছবি এই উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়ে থাকাটাও এমনই উথালপাথাল এক অভিজ্ঞতা যে, সেটির সঙ্গে কারও একাত্ম না হয়ে উপায় থাকেনি। সবাই যখন তাঁকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে, যখন মনে হয়েছে চারপাশ থেকে ছুটে আসা তীরে ছিন্নভিন্ন তিনি এই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন বলে, তখনই ফিনিক্স পাখির মতো ছাইভস্ম থেকে পুনর্জন্ম হয়েছে সৌরভের। এই করতে করতে সৌরভ গাঙ্গুলী আর শুধুই একজন ক্রিকেটার হয়ে থাকেননি। ক্রিকেটের সীমানা ছাড়িয়ে পরিণত হয়েছেন আপামর মানুষের প্রেরণার গল্পে। এসব তো আর রান-উইকেটে লেখা থাকে না।

কিন্তু মানুষের মনে লেখা থাকে। সৌরভ তাই শুধুই ক্রিকেটারের বদলে হয়ে ওঠেন এক আবেগের নাম। এ কারণেই নাগপুর টেস্টের শেষ দিনে সতীর্থদের গার্ড অব অনার নিয়ে মাঠে নামতে দেখা সৌরভ গাঙ্গুলীকে দেখে পোড়খাওয়া পেশাদার সাংবাদিকের চোখও আর্দ্র হয়ে ওঠে। গত কিছুদিন কত রথী-মহারথীই তো ক্রিকেট ছাড়লেন। স্টিভ ওয়াহ, শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রায়ান লারা, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, অনিল কুম্বলে... ক্রিকেটাকাশের উজ্জ্বল সব জ্যোতিষ্ক। ক্রিকেটার হিসেবে সবাই হয়তো সৌরভ গাঙ্গুলীর চেয়ে এগিয়েও। কিন্তু তাঁরা কেউই তো আবেগের তন্ত্রীতে এমন টোকা দিতে পারেননি। খেলাকে জীবন হয়ে উঠতে দেখা যে কখনো কখনো সাংবাদিকের পেশাদারিত্বের বর্মকেও ভেদ করে ফেলে!

ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও কিছুটা ভূমিকা না থেকেই পারে না। বাংলাদেশের মানুষের কাছে সৌরভ যেমন বিশেষ কিছু হয়ে ছিলেন, সৌরভের কাছেও বাংলাদেশ ছিল তা-ই। দেখা হলে ‘কেমন আছ’ জিজ্ঞেস করার পর অবধারিত পরের প্রশ্নটা হতো, ‘তোমাদের ওখানে সবাই কেমন আছে?’ এর পরই জানতে চাইতেন, ‘তোমাদের ওখানে আবার কবে যাচ্ছি?’ বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাটা তাঁকেও স্পর্শ করত বলেই তাঁর মুখে বারবার শুনেছি, ‘বাংলাদেশে খেলতে আমার দারুণ লাগে।’

উদ্ধত, অহঙ্কারী, বদমেজাজি... কত কিছুই না বলা হয়েছে তাঁকে! ১৯৯২-এর অস্ট্রেলিয়া সফরে দ্বাদশ ব্যক্তির দায়িত্ব জল-তোয়ালে নিয়ে মাঠে নামতে আপত্তি জানিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে নাকি বলেছিলেন, এটা বাড়ির রামু চাকরের কাজ। বড় ভাই স্নেহাশিস গাঙ্গুলীর ডাকনাম রাজ, তার সঙ্গে মিলিয়ে সৌরভের মহারাজ। অথচ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই এমন পড়েছি, হাবভাব-চালচলনের জন্যই নাকি তাঁকে ব্যঙ্গভরে ‘মহারাজ’ বলে ডাকা হয়। অথচ সৌরভের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে, প্রতিবারই পেয়েছি অন্য পরিচয়। ভারতীয় দলে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের কয়েক মাস পর, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে বেহালায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে বড় একটা ইন্টারভিউ করেছিলাম।

সেটি শেষ করে শোনা কথার সঙ্গে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা মেলাতে না পারার কথা বলার পর প্রায় কাতর কণ্ঠে সৌরভ বললেন, ‘আমি কী করি, বলো তো? সবাই আমাকে এমন ভুল বোঝে কেন?’

পরে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘তুমি তো আমাকে জানো। একটু ভালো করে লেখো, বাংলাদেশের মানুষ যেন আমাকে ভুল না বোঝে!’

ধন্যবাদ এবং বিদায়। নভেম্বর ২০০৮, নাগপুর। ছবি: এএফপি

ওপার বাংলার অভ্যাসমতো একটু ঘনিষ্ঠতা হয়ে গেলেই ‘তুমি’ বলে ফেলাটা সৌরভেরও অভ্যাস। আর আমি তো সেই ছোটবেলায় দেখার সুযোগ নিয়ে শুরু থেকেই ওকে ‘তুমি’ বলি। নিজের বাড়িতে বসে দেওয়া সাক্ষাত্কার বলেই কি না, সেটি এমনই আন্তরিকতামাখা ছিল যে, লেখার সময়ও তুমি-তুমি সম্বোধনটা আর বদলাতে ইচ্ছে করেনি। তা করলে যেন তাল কেটে যায়। জীবনে এত ইন্টারভিউ করেছি, তুমি-তুমি ছাপা হয়েছে ওই একটাই।

পুরোনো পত্রিকা ঘেঁটে ওই ইন্টারভিউটা বের করে মজার একটা জিনিস পেলাম। অদূর কেন, সুদূর ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট খেলার সম্ভাবনা আছে মনে হয়নি তখন। সৌরভের ওই সাক্ষাৎকারের পাশে ভূমিকার শেষটা ছিল তাই এ রকম: সৌরভ বাঙালি—এই তথ্যটা তাঁর সম্পর্কে এ দেশের মানুষের বাড়তি আগ্রহের কারণ। পেশাদার সাংবাদিকদের ওসব প্রশ্রয় দিতে নেই। তারপরও সৌরভের আরও সাফল্যের জন্য প্রার্থনা না করে পারছি না। এখনো খেলছেন, এমন একজন টেস্ট ক্রিকেটারকে বাংলায় ইন্টারভিউ করতে পারার যে তৃপ্তিটা দিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সেটিকে যে অনেক বড় মনে হচ্ছে!

বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার কল্যাণে টেস্ট ক্রিকেটারকে বাংলায় ইন্টারভিউ করতে পারাটা আর এমন মহার্ঘ কিছু হয়ে থাকেনি। তবে সৌরভের সঙ্গে কথা বলাটা বা তাঁকে ইন্টারভিউ করাটা আনন্দের এক উপলক্ষ হয়ে থেকেছে সব সময়ই। ভাষার আত্মীয়তা অবশ্যই বড় কারণ, তবে একমাত্র কারণ অবশ্যই নয়। অনেক দিন পর দেখা হলেও আপনজনের মতো আন্তরিকতা, মনের কথা অকপটে বলে ফেলার সঙ্গে সূক্ষ্ম রসবোধ মিলিয়ে সৌরভ ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্য দশজন তারকার চেয়ে আলাদা। ইন্টারভিউ চাইলে বিমুখও করেননি কখনো। এমনও হয়েছে, টিম ম্যানেজমেন্টের কড়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে একরকম ‘লুকিয়ে’ই ইন্টারভিউ দিয়েছেন। বলেছেন কারণটাও, “তুমি বাংলাদেশের লোক, তোমাকে ‘না’ করি কীভাবে?”

২০০২ সালে শ্রীলঙ্কায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময়ও ইন্টারভিউ চাইতেই রাজি। এক হোটেলেই আছি জেনে বলে দিলেন, ‘সোজা রুমে চলে এসো।’ নির্ধারিত সময়ে গিয়ে দেখি সৌরভের রুমে ঝুলছে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’! মনটাই খারাপ হয়ে গেল, ইন্টারভিউ দিবি না বলে দিলেই পারতি! তারপরও শেষ চেষ্টা হিসেবে নিজের রুমে ফিরে একটা ফোন দিলাম। সৌরভ ফোন তুলেই বললেন, ‘আরে, ডিএনডি তো তোমার জন্য নয়। ইন্ডিয়ান সাংবাদিকদের কাছ থেকে বাঁচার জন্য। তুমি চলে এসো।’

সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে লেখক। মিরপুর স্টেডিয়ামে, ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়

রুমে ঢুকে দেখি, বিছানায় আধশোয়া হয়ে টিভিতে আগের দিনের খেলাটা দেখছেন। টিভি কমেন্টটরদের নানা মন্তব্যে সৌরভ তখন তেতে আছেন বলে শুনেছি। বিছানায় বসতে বসতে তাই বললাম, ‘এই যে সাবেক ক্রিকেটাররা নানা মন্তব্য করেন, কেমন লাগে?’ সৌরভ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমে সাউন্ড অফ থাকে।’ কিন্তু এখন তো সাউন্ড আছে! ‘আরে ধুর, ওদের কথা শুনছি নাকি, আমি তো খেলা দেখছি।’ ওই সাক্ষাৎকারে সৌরভের আরও দুটি কথা বিশেষভাবে মনে আছে। ১৯৯২ সালের অস্ট্রেলিয়া ট্যুর থেকে ফিরে বাদ পড়ার পর কোনোদিন ভারতের অধিনায়ক হবেন বলে ভেবেছিলেন কি না, প্রশ্ন করায় অবলীলায় বলে দিয়েছিলেন, ‘ক্যাপ্টেন বাদ দাও, আর কোনোদিন ইন্ডিয়া খেলব এটাই ভাবিনি।’ কতটা আত্মবিশ্বাস থাকলে এমন বলা যায়! যে আরেকটা কথা ভুলিনি, তা অধিনায়কত্ব নিয়ে। একজন অধিনায়ক ততটাই ভালো, যতটা ভালো তাঁর দল—এই বিশ্বাসের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ঠিক জায়গায় ঠিক লোকটাকে রেখে দলটা গড়ার চেষ্টা করছি।’ তা যে তিনি পেরেছিলেন, সেটি তো ইতিহাসেই লেখা।

রসবোধের কথা বলছিলাম। একবার ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে দেখি, রুমে এক ভারতীয় সাংবাদিক। আমাকে শুরু করতে বলার পরও ইতস্তত করায় সৌরভ বললেন, ‘তুমি তো দেখি নতুন বউয়ের মতো করছ!’ ২০০৩ বিশ্বকাপের সময় কোত্থেকে যেন এক প্লেনে জোহানেসবার্গে এলাম। টারমাক থেকে বাসে পাশাপাশি, মাথায় সাদা চুলের বাহুল্য দেখে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করায় হেসে জবাব দিলেন, ‘তুমি ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন হও। দেখবে, সাত দিনেই সব চুল পেকে যাবে!’ পশ্চিমবঙ্গীয় বাচনভঙ্গির জন্য কথাগুলো শুনতে আরও মজা লাগত। ওই যে—ইন্ডিয়া খেলব, ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন! সবচেয়ে মজা লাগত ‘গো’ দিয়ে বাক্য শেষ করাটা। হোটেলের লবি থেকে হন্তদন্ত হয়ে বেরোতে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি, সৌরভ বললেন, ‘বড় ঝামেলায় আছি গো।’ আরেকবার তাঁর আদর্শ অধিনায়ক কে, জিজ্ঞেস করে উত্তর পেলাম, ‘তেমন কেউ ছিল না গো।’

সৌরভের বিদায়বেলায় এমন অনেক স্মৃতিই ভিড় করে আসছে মনে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত বাকি সবার মতো আমার মনেও আঁকা থাকছে ওই লড়াইয়ের ছবিটাই। একদিন কাকে যেন বলছিলাম, ‘সৌরভ বাঙালি নামের কলঙ্ক।’ যাকে বলা, তাঁর অবাক দৃষ্টি দেখে ব্যাখ্যা করতে হলো। ভীতু, নরম-সরম, আপসকামী বলে চিরকাল পরিচিতি পেয়ে আসা বাঙালি চরিত্রের সঙ্গে সৌরভকে কি মেলানো যায়! বাঙালি নামের কলঙ্ক নয় তো কি!