বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৪৩/৭। স্কটল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ১৭১। ফল: বাংলাদেশ ৭২ রানে জয়ী।

টুর্নামেন্টে এর আগের ৮০টি ম্যাচে ২৪০-এর বেশি রান তাড়া করে কেউ জেতেনি এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান হয়েছে এবার ১৭১–এই দুটো তথ্য মিলে গত মঙ্গলবার ম্যাচের অর্ধেকটা শেষেই লক্ষ্যপূরণের আনন্দ মাতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। স্ট্রোক খেলার জন্য আদর্শ নয় এমন উইকেট, তার চেয়েও ধীরগতির আউটফিল্ড বাংলাদেশের গড়া ২৪৩ রানের সংগ্রহকে পবর্তপ্রমাণ বলে ধারণা দিচ্ছিল। স্কটল্যান্ড ইনিংস শুরু হওয়ার আগে তাই ‌‘ক্রিকেটে যে কোনো কিছুই হতে পারে’–এ কথাটা পর্যন্ত শোনা যায়নি কারও মুখে। বাংলাদেশ যে জিতবেই, এ নিয়ে কোনো সংশয়ই ছিল না। কীভাবে জিতবে–কৌতূহল ছিল শুধু এটুকুই। সেই কৌতূহল মেটানোর জন্য কাজ বাদ দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্রিকেট মাঠে আসা যায় না–এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কাল মাঠে দর্শক ছিল খুবই কম। গত মঙ্গলবার তিন হাজারের বেশি দর্শকের তুমুল চিৎকারে সরগরম হয়েছিল কিলাত ক্লাব মাঠ। এদের ৯৯ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশি। সম্ভবত ফাইনালের দিন আবার ছুটি প্রয়োজন হবে–এটা বুঝতে পেরেই এঁদের বেশিরভাগই কাল মাঠমুখো হননি।

ফাইনালে তাঁদের আসতেই হবে, এটা নিশ্চিত করতে খুব বেশি সময় নেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ২৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহের নিরাপদ আশ্রয় থাকাতেই খেলোয়াড়দের একটু টিলেমিতে পেয়ে বসেছিল। ফিল্ডিং হয়েছে বেশ খারাপ, ক্যাচ পড়েছে দুটি, নইলে স্কটল্যান্ড ১৭১ রান পর্যন্তও যেতে পারত না। এর আগে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭১ রান করেছে হল্যান্ড, স্কটল্যান্ডও করল তা-ই। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ বোলিং করা দুই পেস বোলার সাইফুল ও শান্ত কাল কাঙ্ক্ষিত ছন্দে ছিলেন না। অবশ্য উইকেট না পেলেও সাইফুল খুব খারাপ করেননি। কিন্তু শান্ত ২ ওভারে ৫টি ওয়াইড করার পর তাঁকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন আকরাম। তাঁর জায়গায় আসা সুজন হিসেবি বোলিংই করেছেন।

স্কটিশ ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে ঘূর্ণিবলই যে হবে বাংলাদেশের মূল অস্ত্র, এটা জানা ছিল আগেই। শেষ পর্যন্ত স্পিনাররাই করেছেন সব। স্কটল্যান্ডের ১০ উইকেটের ২টি রানআউট। বাকি ৮টি উইকেটই স্পিনারদের। দুই বাঁহাতি স্পিনার রফিক ও মনি এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্যে বড় অবদান রেখেছেন। তবে দুজন মিলে ৭ উইকেট পেলেন তাঁরা কালই প্রথম। পেসারদের বিপক্ষে বেশ স্বচ্ছন্দে খেলে প্রথম ১০ ওভারে ৩৬ রান তুলে ফেলেছিল স্কটল্যান্ড। উইকেট পড়েছিল একটিই, মিড অন থেকে শান্তর ডিরেক্ট থ্রোতে রান আউট হয়ে যান ২০ বল খেলে রান করতে না পারা ব্রায়ান লকি।

অন্য ওপেনার ইয়ান ফিলিপ খেলছিলেন চমৎকার, ডগলান লাকহার্টের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৩২ রান তোলার সময় ভালো একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার পূর্বাভাসও দিয়েছিলেন। সেই সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই শেষ করে দিয়েছেন দুর্জয়। ৫৫ বলে ৩৭ রান করা (৪×৪) ইয়ান ফিলিপকে বিদায় করেছেন তিনি পাইলটের সহায়তায়। এটি ছিল কাল পাইলটের দুই স্টাম্পিংয়ের প্রথমটি। ৯ ম্যাচে ১২টি ক্যাচ ও ৯টি স্টাম্পিং করে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মতো নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়েও টুর্নামেন্টটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন এই তরুণ উইকেটকিপার।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করে ফেলার পর সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত ম্যাচ-সেরা পাইলট। সানোয়ারও আছেন তাঁর সঙ্গে। ছবি: শামসুল হক টেংকু

ইনিংসের বাকি অংশটুকু রফিক ও মনির বাঁহাতি ভেলকির সাক্ষী। সঞ্চয়ে প্রচুর রান আছে বলেই এক্সপেরিমেন্ট করতে সাহস পেয়েছেন তাঁরা। কখনো বেশ ফ্লাইট দিয়েছেন, কখনো বা দেনইনি। এই বৈচিত্র্যের জবার দেওয়ার মতো ব্যাটসম্যান স্কটল্যান্ড দলে ছিল না। ওভারপিচড্ বল করতে করতে রফিক প্রথম শিকারটি করেছেন কট এন্ড বোল্ডের মাধ্যমে। এটাই বেশি করতে গিয়ে দ্বিতীয় ওভারে ছক্কা খেয়েছেন। আবার কাউন্টিতে সারের পক্ষে খেলা উইকেটকিপার অ্যালেক ডেভিডসকে বোল্ড করেছেন নির্ভেজাল এক ইয়র্কারে। রফিকের বাকি দুটি উইকেটের একটি স্কয়ার লেগে নান্নুর নেওয়া ক্যাচ, পয়েন্ট ক্যাচ নিয়ে রফিককে চতুর্থ উইকেট দেওয়ার পাশাপাশি স্কটিশ ইনিংসের সমাপ্তি টেনেছেন বুলবুল।

মনির বলে লং অন ও লং অফে ভালো দুটি ক্যাচ নিয়েছেন আতহার ও সাইফুল। ভালো খেলতে থাকা স্কটিশ অধিনায়ক জর্জ স্যালমন্ডকে ফ্লাইটে বোকা বানিয়ে বিদায় করেছেন মনি, পাইলট যখন গ্লাভসে বল নিয়ে বেল তুলে নেন, ডাউন দ্য উইকেট খেলতে যাওয়া স্যালমন্ড তখন ক্রিজের কয়েক ফুট বাইরে।

আগের ম্যাচগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই বোলিং করতে এসেই উইকেট পেয়েছেন আকরাম। কালও পেয়ে যাচ্ছিলেন প্রায়। তাঁর দ্বিতীয় বলেই জন উইলিয়ামসন ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তু মিড অফে তা ফেলে দেন নান্নু। তখন ৩০ রানে থাকা উইলিয়ামসনই শেষ পর্যন্ত ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে স্কটল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার। তাতে অবশ্য পরাজয়ের ব্যবধানটা একটু কমানো ছাড়া কিছুই করতে পারেননি তিনি।