উৎপল শুভ্র: কুয়ালালামপুর থেকে দেশে ফেরাটা কেমন হলো?

গর্ডন গ্রিনিজ: সত্যি করে বললে, দেশে ফিরে আসাটা এমন অসাধারণ হবে, এটা কেউই কল্পনা করেনি। এটা ছিল একটা বিস্ময়কর ব্যাপার। এমনকি খেলোয়াড়েরাও এত মানুষ দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। হল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পরই আমরা শুনেছিলাম, ঢাকায় কী হচ্ছে। তারপরও দেশে যে এমন সংবর্ধনা অপেক্ষা করছে, এটা কেউই চিন্তা করেনি।

শুভ্র: এটা কি আপনার জীবনের স্মরণীয়তম অভিজ্ঞতা?

গ্রিনিজ: অবশ্যই এটি আমার জীবনের স্মরণীয়তম অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এটি ছিল দারুণ আনন্দের ব্যাপার। দীর্ঘদিন ধরে যেটি অর্জনের জন্য চেষ্টা করে আসছিলাম, সেটি করতে পারার আনন্দ। তবে এর কৃতিত্ব শুধু আমার নয়, এটা পুরোপুরি একটা টিম এফোর্ট। ঢাকায় ফেরার পর বুঝতে পারলাম, আমাদের প্রতি কী বিপুল সমর্থন আছে এখানে! এই সমর্থন অবশ্য আমরা কুয়ালালামপুরেও পেয়েছি। আমাদের প্রতিটি ম্যাচে প্রচুর বাংলাদেশি সমর্থক মাঠে এসেছে এবং তাদের সমর্থন দারুণ উজ্জীবিত করেছে খেলোয়াড়দের। আমাদের সাফল্যে তাদেরও অবদান আছে।

শুভ্র: অনেকেই কিন্তু আপনাকে বলছে 'মিরাকল-ম্যান'।

গ্রিনিজ: (জোরে হাসি দিয়ে) না, না, আমি মোটেই মিরাকল-ম্যান নই। সবার সম্মিলিত অবদানেই এসেছে এই সাফল্য। কুয়ালালামপুরে রওনা হওয়ার আগে সমর্থেকরা খুব হতাশ ছিল। সিলেকশন নিয়ে সমালোচনা শুনেছি অনেকের মুখেই, এই দল নিয়ে আইসিসি ট্রফিতে সাফল্যের ব্যাপারে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন অনেকে। আমি খুব খুশি যে, এসব কিছুর পরও আমরা দারুণ খেলে টুর্নামেন্ট জিতেছি। আমি আবারও বলছি, এই সাফল্যে দলের সবারই অবদান আছে। ম্যানেজারের কথা আলাদাভাবে বলতে হবে। লিপু তো খেলোয়াড়দের আমার চেয়ে অনেক ভালো জানে। সে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদেরকে দেখে এসেছে। আমি মাত্র খেলোয়াড়দের বুঝতে শুরু করেছি। তাই তাঁর কাছ থেকে আমি অনেক দিক-নির্দেশনা পেয়েছি। কুয়ালালামপুরে আমাদের টিম মিটিংগুলোও হয়েছে অন্য রকম। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে টিম মিটিংয়ে কথা বলতে হয়েছে। খেলোয়াড়েরা কী ভাবছে, তাঁরা কী করতে চায়, তাঁদের কী সমস্যা হচ্ছে–এটা জানতে না পারলে তাঁদেরকে সাহায্য করা খুব কঠিন। টিম মিটিংয়ে তাই খেলোয়াড়দের কথা বলাটা খুব জরুরি। অতীতে হয়তো এ ব্যাপারটির অভাব ছিল। অপ্রিয় কথা বললে সমস্যা হতে পারে ভেবে হয়তো অনেকে চুপ করে থেকেছে। কিন্তু এবার আমরা বলেছি, দলের প্রত্যেকের কাছ থেকে মতামত আসতে হবে এবং তা এসেছেও। এই একটা ক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়েছি।

শুভ্র: এখন মানুষের প্রত্যাশা তো অনেকে বেড়ে গেছে।

গ্রিনিজ: (হাসি) ক্রিকেট নিয়ে প্রত্যাশার কথা যদি বলেন, তাহলে আমি যতদূর জানি, দক্ষিণ এশিয়ায় তা সব সময়ই খুব বেশি। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ তো সামনেই। হ্যাঁ, আমি জানি, এখন বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি প্রত্যাশা করবে। তা করবে না-ই বা কেন? দীর্ঘদিন ধরে আমরা যে টুর্নামেন্টে ভালো করার চেষ্টা করে এসেছি, শেষ পর্যন্ত সেটি জিতেছি। তবে এখনও আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। ওয়ানডে বা টেস্ট পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো জায়গায় যেতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের খেলোয়াড়দের ট্রেনিং ও ক্যাম্প পদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে, কারণ আমরা এখন অন্য এক পর্যায়ে উঠে এসেছি।

শুভ্র: আইসিসি ট্রফির সময় কুয়ালালামপুরে আপনি অনেকবার আমাদের ক্লাবগুলোর ট্রেনিং সিস্টেমে পরিবর্তনের প্রয়োজনীতার কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলবেন?

গ্রিনিজ: আমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে চাই না। বোর্ড প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার জন্য একটি রিপোর্ট তৈরি করেছি আমি, সেখানে এই ব্যাপারটি খুব গুরুত্ব পেয়েছে। আমার ধারণা, এই রিপোর্ট আপনারাও পাবেন, তখনই জানতে পারবেন আমাদের সুযোগ-সুবিধা যা আছে, সেগুলো সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য আমি কী চিন্তা করছি।

শুভ্র: বাংলাদেশের ক্রিকেটে তো আপনার বেশ কিছুদিন হয়ে গেল। এখন আপনি বলতে পারবেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মূল সমস্যাগুলো কী কী?

গ্রিনিজ: সমস্যা ল্যাক অব অ্যাপ্লিকেশন, কনসেনট্রেশন! আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্বতঃপ্রণোদনার অভাব রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রকট হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব। আমার মনে হয়, হয়তো তাঁদেরকে কখনো কখনো মিডিওকার পারফরম্যান্সের জন্যই একটু বেশি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যে কারণে তাঁদের মধ্যে একটা ভুল ধারণা গড়ে উঠেছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে।

আইসিসি ট্রফি জয়ের পর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে গর্ডন গ্রিনিজ (দাঁড়ানো, বাঁ থেকে তৃতীয়)। ছবি: শামসুল হক টেংকু

শুভ্র: আপনি নিশ্চয় জানেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ক্লাব ক্রিকেটে খেলে প্রচুর টাকা পায়। এটাকে কি একদিক থেকে ক্ষতিকর মনে করেন?

গ্রিনিজ: এই প্রশ্নের উত্তরও আমি এখন দিতে চাই না। কারণ আমার রিপোর্টে  যে ব্যাপারগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, এটি তার অন্যতম। তাই বোর্ড পুরো বিষয়টি খুঁটিয়ে দেখার আগে তা প্রকাশ করাটাকে ঠিক মনে করছি না আমি। তবে এটুকু বলি, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে।

শুভ্র: আমাদের পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্ট তো জুলাইয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। কুয়ালালামপুরে আপনি বলেছিলেন, দলে আরও তরুণতর খেলোয়াড়দের নিতে হবে। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই শুরু হবে পরিবর্তনটা?

গ্রিনিজ: দলে কিছু পরিবর্তন হবে, এটা নিশ্চিত। তবে নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করার আগে এ ব্যাপারে কিছু বলা কঠিন। আমরা এখন কীভাবে এগোব, এটা সবাই মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই এ ব্যাপারে এখনই মন্তব্য করা ঠিক নয়। তবে এশিয়া কাপের জন্য এখন সবচেয়ে বড় যা প্রয়োজন, তা হলো টার্ফ উইকেটে বেশি করে প্র্যাকটিস। যত দূর জানি, দু-একটি সফরের আমন্ত্রণ আছে। এশিয়া কাপ খেলতে কলম্বো যাওয়ার আগে আমাদেরকে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। দল নিয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। যদি কাউকে বাদ দিতে হয়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেই তা করা হবে। বাদ দেওয়া হবেই, এ ব্যাাপারেও আমি নিশ্চিত না। কারণ এই দলটি দারুণ সফলভাবে একটি টুর্নামেন্ট শেষ করে এসেছে। এশিয়া কাপের আগে বেশি কিছু দিন হাতে সময় আছে আমাদের। আমাদের সবার বসে ঠিক করতে হবে, এশিয়া কাপে আমাদের কী ধরণের কম্বিনেশন নিয়ে যেতে হবে!

শুভ্র: এখন পর্যন্ত আপনি তো শুধু জাতীয় দল নিয়ে কাজ করেছেন। বোর্ড সভাপতি বলেছেন, অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের দায়িত্ব দেওয়া হবে আপনাকে। আপনি নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে খুব আগ্রহী।

গ্রিনিজ: খুবই আগ্রহী। আমি পুরো দেশের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে চাই। অনূর্ধ্ব-১২, অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ এবং সম্ভব হলে অনূর্ধ্ব-২৫ দল গড়ে তুলতে হবে আমাদেরকে। এ রকম বয়সভিত্তিক দল গড়ে তোলা খুব প্রয়োজন। আমি আশা করছি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলে জায়গা পাবে ১৯, ২০, ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড়েরা। তা নিশ্চিত করতে কম বয়সীদের নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। নইলে এক সময় হয়তো দেখা যাবে, বাংলাদেশ দলের নিউক্লিয়াস তৈরি হচ্ছে এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে, যাঁরা অনেক এক্সপোজার পেয়েছে, যাঁদের অভিজ্ঞতা প্রচুর। কিন্তু মূলত যে ধরণের খেলা আমরা খেলব অর্থাৎ ওয়ানডে, তার জন্য প্রয়োজনীয় স্ট্যামিনা ও ক্ষিপ্রতা তাঁদের থাকবে না। তাই আমাদের প্রয়োজন তরুণ খেলোয়াড়। যারা হবে অনেক বেশি ফিট, থাকবে প্রাণশক্তিতে ভরপুর। সে জন্য পুরো দেশের ক্রিকেট কাঠামো সম্পর্কে ভালোমতো চিন্তা করতে হবে। এমন একটা পদ্ধতি দাঁড় করাতে হবে, যাতে খুব অল্প বয়স থেকেই এ ধরণের প্রতিভা আমরা চিহ্নিত করতে পারি।

শুভ্র: আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশের কিশোর-তরুণদের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিভা আছে?

গ্রিনিজ: প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু এই মুহূর্তেই সেই প্রতিভাগুলোকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আমরা পাচ্ছি না। কারণ, জাতীয় দল নিয়েই টানা কাজ করে যেতে হচ্ছে আমাদের। তবে এখন আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছি। তাই দল নির্বাচনের ব্যাপারে খুব সাবধানী হতে হবে। যেসব খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হবে, তাঁদের ঐ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো সামর্থ্য আছে কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। অনেক কিছু করতে হবে আমাদের, তবে এখনই সবকিছুতে হাত দেওয়া সম্ভব নয়। একটা একটা করে কাজ ঠিক করতে হবে আমাদের। এখন ভাবতে হবে এশিয়া কাপ নিয়ে। এরপর শুরু হবে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি। আমাদেরকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে।

আইসিসি ট্রফির আগে বিকেএসপিতে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে। গর্ডন গ্রিনিজের বাঁয়ে আকরাম ও বুলবুল; ডানে অপি ও সুজন। ছবি: গেটি ইমেজেস

শুভ্র: আইসিসি ট্রফির আগে উইকেটকিপারদের প্রশিক্ষণ দিতে এসেছিলেন সৈয়দ কিরমানি। পেস বোলার এবং স্পিনারদের জন্য এমন স্পেশালিস্ট কোচের সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন কি?

গ্রিনিজ: হ্যাঁ, এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে। পেস বোলারদের আমরা ভারতের এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে পাঠানোর চেষ্টা করব। অন্য ডিপার্টমেন্টগুলোতেও উন্নতির চেষ্টা করতে হবে। তবে এটা করতে সময় লাগবে। প্রত্যেকেই খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু হয়ে যাবে বলে আশা করছে। আসলে তো তা সম্ভব নয়। এ জন্য শুধু সময়ই নয়, প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। পর্যাপ্ত অর্থ, সুষ্ঠু পরিকল্পনা, মার্কেটিং সবকিছুকে সমন্বিত করতে হবে। আমাদেরকে খুব চিন্তা-ভাবনা করে ঠিক করতে হবে, ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামো কী হবে। আমরা একবিংশ শতাব্দীতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে আমাদেরকে সেভাবেই প্রস্তুত হতে হবে।

শুভ্র:  ২০০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস লাভের স্বপ্ন দেখছে। এ ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?

গ্রিনিজ: এটা সম্ভব। তবে এ জন্য এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। সবারই এই লক্ষ্যের কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যাতে গড়ে ওঠে। আইসিসি ট্রফির সাফল্যে তৃপ্ত হয়ে রিল্যাক্স করার সুযোগ নেই। এখান থেকে এগিয়ে যেতে হবে আরও। বিশ্বকাপ, ওয়ানডে স্ট্যাটাসের হাত ধরেই আসবে টেস্ট স্ট্যাটাস।

শুভ্র: আপনি কি মনে করেন না যে, বোর্ডের উচিত বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা অন্যান্য দেশে খেলতে যাওয়ায় উৎসাহিত করা?

গ্রিনিজ: বোর্ডের সঙ্গে আমরা যখন আলোচনায় বসব, এটা হবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। এটা তো অনস্বীকার্য যে, দেশের বাইরে ভিন্ন প্রতিপক্ষ, ভিন্ন পরিবেশে খেলাটা যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই মহামূল্যবান, বলা যেতে পারে অমূল্য অভিজ্ঞতা। আমাদের খেলোয়াড়েরা যেসব দেশে খেলতে যাবে, সেগুলো অনেক অনেক বছর ধরেই ক্রিকেট খেলছে। অন্যদিকে, আমরা মাত্র একটা আন্তর্জাতিক দল গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। তাই ওসব দেশে গিয়ে খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা পাবে খেলোয়াড়রা। আমি আশা করব, খেলতে গেলে তাঁরা যেন ভালো মানের একটা ক্লাবে খেলতে চায়। দেশে ফিরে তাঁদের ক্লাবের টিমমেটদের মধ্যে সেই অভিজ্ঞতাটা ছড়িয়ে দেওয়াটাও খুব জরুরি। আমাদের যে খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন ক্রিকেট একাডেমিতে যাচ্ছে, এ জন্য শান্ত, দুর্জয় ও পাইলটকে নির্বাচন করেছে আইসিসির ডেভেলপমেন্ট কমিটি, তাঁদের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে এটা। ওখানে শেখা জিনিসগুলো দেশে এসে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। বাইরে গিয়ে শেখার পর তা নিজের মধ্যে রেখে দিলে দেশের ক্রিকেট এগোবে না। একই সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ম্যাচুরিটিও দেখতে চাইব আমরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো অবস্থানে যেতে হলে আমাদেরকে বাইরে খেলা, ক্রিকেট একাডেমিতে খেলোয়াড় পাঠানোর ব্যবস্থাটি আরও নিয়মিতভাবে করতে হবে।

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আইসিসি ট্রফিজয়ী দলকে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা। গর্ডন গ্রিনিজকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। ছবি: শামসুল হক টেংকু

শুভ্র: বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় কী সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন আপনি?

গ্রিনিজ: একটাই সমস্যা, আমি সারা দেশের দিকে দৃষ্টি দিতে পারছি না। শুধু জাতীয় দল নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সারা দেশে আমাদের কী রকম প্রতিভা আছে, তা দেখাটা খুব জরুরি। আরেকটা ব্যাপার, ঠিক সমস্যা নয়, তবে এটি নিয়ে আমি অনেকদিন ধরে চিন্তা করছি। আমি খেলোয়াড়দের খেলার বাইরেও কিছু বিষয়ে শিক্ষিত করে তুলতে চাই। মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, স্পোর্টস সাইকোলজির মতো বিষয়ে খেলোয়াড়দের শিক্ষা দিতে বিভিন্ন ফান্ডের ব্যবস্থা করার জন্য আমি খুব সিরিয়াসলি চেষ্টা করব। এর মধ্যে জাতীয় দলের কিছু বর্তমান খেলোয়াড়ের মতো বাইরের কিছু খেলোয়াড়ও থাকবে। আমরা যে ক্রিকেট কাঠামোতে ঢুকতে যাচ্ছি, তার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, সাবেক খেলোয়াড়দের ক্রিকেটের উন্নয়নে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আছে। একজন ৩০ বা ৩৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়ও খুব মূল্যবান অবদান রাখতে পারে। হয়তো খেলার মাধ্যমে নয়, কিন্তু তাঁদের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা এ দেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে কাজে লাগবে।

শুভ্র: বাংলাদেশের স্কুল ক্রিকেট সম্পর্কে নিশ্চয় শুনেছেন। অনেক স্কুল খেলে নির্মাণ স্কুল ক্রিকেটে।

গ্রিনিজ: হ্যাঁ, এটা খুব ভালো। তবে আমি চাই, আরও বেশি স্কুল খেলুক এই প্রতিযোগিতায়। তবে স্কুল পর্যায়ে খেলার ব্যাপারে আরও কিছু করার আছে। আমরা সরকারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে সাহায্য চাইতে পারি, যাতে প্রতিটি স্কুলে ছোটদের ক্রিকেট শেখানোর মতো একজন শিক্ষক থাকেন। এটা অবশ্যই খুব মজা করে করতে হবে। কারণ ওই বয়সের ছেলেদের কাছ থেকে খুব সিরিয়াসনেস আশা করা যায় না। ওদের মনে শুধু খেলার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে চায়।