তখন দিনগুলো ছিল ফুটবলময়। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বিনোদনের সর্বজনীন তেমন কোনো মাধ্যম ছিল না বললেই চলে। বিনোদন পিয়াসী বেশির ভাগ মানুষের কাছে সমাদৃত ছিল ফুটবল খেলা। পুরো দেশকে মাতিয়ে রাখত উত্তেজনাময় ও রোমাঞ্চকর এ খেলাটি। ঢাকার ফুটবল অবশ্য জনপ্রিয় সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। দেশভাগের পর সেই জনপ্রিয়তার পালে লাগে নতুন হাওয়া। ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ, ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, আগা খান গোল্ডকাপ, বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে প্রদর্শনী ম্যাচকে কেন্দ্র করে যা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে।

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করেও পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাতে মিশে থাকত রাজনৈতিক উত্তাপ। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ইপিআইডিসিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সমর্থক গোষ্ঠী। বিশেষ করে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলে মোহামেডান। মুসলিম জাগরণে অবদান রাখা স্বর্ণযুগের কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অনুসরণে গড়ে তোলা হয় ঢাকা মোহামেডান। সে সময় ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ইপিআইডিসি দলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢাকা মোহামেডান প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে সাত বার, আগা খান গোল্ডকাপে তিন বার চ্যাম্পিয়ন হয়। ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পাওয়ায় দলটির সমর্থন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সমর্থকদের কাছে ধ্রুপদী সাদা-কালো জার্সি হয়ে ওঠে প্রাণের পতাকা।

স্বাধীনতার পর ফুটবল পায় ভিন্ন মাত্রা। তা পৌঁছে যায় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। তবে ঢাকা মোহামেডানের সমর্থক গোষ্ঠী অটুট থাকলেও প্রতিপক্ষ দলগুলো অনেকটাই নির্জীব হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কিছু একচ্ছত্র হলে তো আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ পাওয়া যায় না। প্রতিপক্ষ হিসেবে কাউকে না কাউকে দাঁড়াতে হয়। তেমনিভাবে মোহামেডানের প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসে নবীন ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্র। স্বাধীন দেশে গড়ে ওঠা এ ক্লাবটি পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন ধারার ফুটবলশৈলী উপহার দেয়। আধুনিক ফুটবলের সৌন্দর্য দিয়ে হয়ে ওঠে তারুণ্য ও যৌবনের পূজারী। খেলে বিজ্ঞানভিত্তিক ও পদ্ধতিগত নান্দনিক ফুটবল। ঘটনাচক্রে আবাহনীর তরুণ ফুটবলারদের ইউরোপীয় ঘরানার টোটাল ফুটবলের পাঠ দেন আয়ারল্যান্ডের নাগরিক বিল হার্ট। এ পদ্ধতিতে গোলরক্ষক ছাড়া আর কোনো ফুটবলারের পজিশন নির্ধারিত নয়। প্রত্যেককে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পুরো মাঠজুড়ে খেলতে হয়। দ্রুতই অবস্থান বদলাতে হয়। খেলতে হয় ছোট ছোট পাসে। এতে সাফল্যপ্রাপ্তি নির্ভর করে দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য, সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমঝোতার ওপর। অভিযোজন ক্ষমতা, বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগতভাবে দক্ষ না হলে ওয়ান টাচের দ্রুতলয়ের এ খেলাটি রপ্ত করা সহজ নয়। এই ধারাটি প্রয়োগ করে সে সময় সাফল্য পেয়েছে ডাচ ক্লাব আয়াক্স এবং হল্যান্ড জাতীয় দল।

ধানমন্ডিতে আবাহনী ক্লাবের মূল ফটক​​​​​

আবাহনীতে তখন সমাবেশ ঘটেছে মেধাবী, পরিশ্রমী ও চৌকস এক দল ফুটবলারের। বিল হার্টের প্রশিক্ষণে নতুন ধারার এই ফুটবলশৈলীতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন তাঁরা। নতুন শৈলী, নতুন মেজাজ, নতুন ধারার ফুটবল প্রত্যক্ষ করেন দর্শকরা। অবশ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের নেতৃত্বে আবাহনীর নবীন সংগঠকরাও ছিলেন জীবনযাপনে, মন-মেজাজে, চিন্তা-ভাবনায় স্মার্ট। তাঁরাও ক্লাবটিকে ইউরোপীয় আদলে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। ক্লাবের আকাশি-নীল জার্সিটা পর্যন্ত ছিল ব্যতিক্রমী। তারপরও আবাহনীর পক্ষে নিজেদের অবস্থান গড়ে নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। প্রায় শুরু থেকে আধুনিক ফুটবলের ধারক হয়ে শিরোপা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলেও দর্শক সমর্থন তেমনভাবে পায়নি। বিল হার্টের প্রশিক্ষণে ১৯৭৪ সালে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েও না। একটা কারণ হতে পারে, আবাহনীর নতুন ধাঁচের এ খেলা দর্শকদের জন্য ছিল বড় ধরনের একটা ধাক্কা। গতানুগতিক ধারার বাইরের এই ফুটবলশৈলীর সঙ্গে ধাতস্থ হতে খানিকটা সময় লেগে যায়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রাথমিক অবস্থায় আবাহনীকে মুখোমুখি হতে হয়েছে তুমুল বিরোধিতার। মাঠে ও মাঠের বাইরে হেনস্তা হতে হয়েছে। ঝরাতে হয়েছে রক্ত। সাব্যস্ত করা হয়েছে অনেকটা বহিরাগত হিসেবে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তছনছ হয়ে যায় আবাহনী ক্লাব। কিন্তু কয়েকজন কর্মকর্তা, শুভাকাঙ্খী ও খেলোয়াড় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাব রক্ষায় এগিয়ে আসেন। নতুন রাজনৈতিক আবহে খেলতে নেমে ক্লাবটি অভাবিতভাবে পেয়ে যায় দর্শকদের ভালোবাসা। ম্যাজিকের মতো খুলে যায় রুদ্ধ দুয়ার। নতুন প্রজন্মের দর্শকরা লুফে নেয় নতুন ধারার এই ফুটবল। আস্তে আস্তে গড়ে উঠতে থাকে আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠী।

আবাহনীর টোটাল ফুটবলের সার্থক প্রয়োগ দেখা যায় ১৯৭৭ সালে প্রথম বিভাগ লিগে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। এই দুই দলের আগের ম্যাচটি ছিল অমীমাংসিত। সেদিনও দুই দল নিজেদের রক্ষণভাগ আগলে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় প্রথমার্ধে কোনো গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তরুণ স্ট্রাইকার হাসানের গোলে রহমতগঞ্জ এগিয়ে যাওয়ার পর গুলি খাওয়া আহত বাঘের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে আবাহনী। অনেক দিন পর বুকের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকা বিল হার্টের শেখানো গুপ্তমন্ত্র আবাহনীকে যেন জাগিয়ে দেয়। অলআউট খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করে। গোলে অনিরুদ্ধ, রক্ষণভাগে আশরাফ, নান্নু, টুটুল, মঈন, লিঙ্কে অমলেশ ও খোরশেদ বাবুল, আক্রমণভাগে সালাহউদ্দিন, সামসু, চুন্নু, আনোয়ারের সমন্বয়ে পরিকল্পিত, আক্রমণাত্মক ও দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলতে থাকে। গোলরক্ষক অনিরুদ্ধ আর ডিফেন্ডার মঈনকে নিচে রেখে উপরে উঠে প্রতিপক্ষের ওপর বিপুল পরাক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমন আক্রমণাত্মক ও সাহসী ফুটবল এর আগে দেখা যায়নি। তার ফলও পায় তাঁরা। সালাহউদ্দিন, খোরশেদ বাবুল ও আনোয়ারের গোলে ৩-১-এ জয়ী হয়ে আশরাফের নেতৃত্বে অপরাজিতভাবে শিরোপা জয় করে। নতুন রূপে উদ্ভাসিত হয় আবাহনী। এরপর থেকে খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তা অর্জন করে অভিজাত এলাকা ধানমন্ডির ক্লাবটি। আবাহনীর রোমান্টিক আকাশি-নীল জার্সি হয়ে ওঠে অনেকের ভালোবাসা। খেলা দিয়ে মন জয় করার পাশাপাশি তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে ঢাকা মোহামেডানের।

১৯৮৬ সালের ফুটবল লিগে কোনো একটা ম্যাচের আগে আবাহনী ফুটবল দল

মোহামেডান-আবাহনীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে দেশের ফুটবল। বিপরীত ধারার এই দুই ক্লাব হয়ে ওঠে দেশের ফুটবলের প্রাণভোমরা। ঢাকা কিংবা মিরপুর স্টেডিয়ামে দল দুটি মুখোমুখি হলে তার উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ত পুরো দেশে। বিভক্ত হয়ে যেত দুই ভাগে। এমনকি জীবন বাজি রেখেও এই ম্যাচ দেখতে ব্যাকুল হয়ে থাকত দর্শককূল।

আশির দশকের শুরুতে পাঁচ বছরের মধ্যে হ্যাটট্রিকসহ চারবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হলে খুব দ্রুতই তরুণ প্রজন্মের প্রিয় দলে পরিণত হয় আবাহনী। যদিও আবাহনীর জয়যাত্রা সহজ ও সাবলীল ছিল না। নানান প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র জয় করে আবাহনীকে এগিয়ে যেতে হয়। যত বাধা এসেছে, যত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে, ততই যেন আবাহনী ঝলসে উঠেছে। ১৯৮২ সালে খেলার মাঠে গণ্ডগোলকে কেন্দ্র করে আবাহনীর চার তারকা খেলোয়াড় সালাউদ্দিন, চুন্নু, আনোয়ার ও হেলালকে জেলে পাঠানো হলে ফুটবল অনুরাগীদের সহানুভূতি অর্জন করে ক্লাবটি। ১৯৮৪ সালে ৬ পয়েন্ট কেটে নেওয়ার পরও লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী। প্রতিকূল ও ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থার মধ্যেও নিজেদের উজাড় করে দিয়ে ক্লাবটি সর্বস্তরের দর্শকের হৃদয় কেড়ে নেয়। এমনকি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদেরও মন জয় করে নেয় ক্লাবটি। এমনটা এর আগে দেখা যায়নি। এ কারণে প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা বিদ্রুপ করে বলত, আবাহনী ‘আপামণি’দের দল।

বিদেশি দলগুলোর বিপক্ষেও আবাহনী মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স করতে থাকে।  ১৯৭৬ সালে আগা খান গোল্ডকাপে থাইল্যান্ডের রাজবীথি দলের বিপক্ষে আবাহনীর খেলা দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। পরের বছর মালয়েশিয়ার পেনাং দলের বিপক্ষে, ১৯৭৯ সালে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবসহ বিভিন্ন দলের বিপক্ষেও আবাহনী ছিল উজ্জ্বল। ১৯৯০ সালে ভারতের নাগজি ট্রফি, ১৯৯১ সালে ঢাকা ও কলকাতার সেরা ছয় দল নিয়ে বিটিসি কাপ, ১৯৯৪ সালে কলকাতার চার্মস কাপ এবং ২০১০ সালে বরদুলাই ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আবাহনীর সাফল্যের মুকুটে হীরে হয়ে জ্বলজ্বল করছে। অবশ্য শুধু এই সাফল্য দিয়ে আবাহনীকে পরিমাপ করা যাবে না। ওই সময়ের বিবেচনায় আবাহনী ছিল এক বিপ্লবের নাম।

১৯৯০ সালে ভারত থেকে নাগজি ট্রফি জিতে আসার পর আবাহনী দলকে বিমানবন্দরে বরণ করে নেওয়া হয়

আবাহনীর ফুটবলকে রাঙিয়েছেন সালাহউদ্দিন, নান্নু, আশরাফ, চুন্নু, অমলেশ সেন, আলী ইমাম, শামসু, টুটুল, সোহরাব, রকিব, আনোয়ার, হেলাল, খোরশেদ বাবুল, আশীষ, মনি, আবু ইউসুফ, এমিলি, আসলাম, জনি, মহসিন, মোনেম মুন্না, রূপু, এফ আই কামাল, রুমি, মামুন জোয়ার্দার, মাসুদ রানা, আরমান প্রমুখ। তবে সালাহউদ্দিন, নান্নু, চুন্নু, টুটুল, সোহরাবরা ছিলেন অনেক বেশি দর্শকনন্দিত। তাঁদের ক্যারিশমা, লম্বা চুল আর ক্রীড়াশৈলী আবাহনীর গ্ল্যামারের প্রতীক হয়ে ওঠে। শো-ম্যানশিপের দিক দিয়ে আবাহনীর খেলোয়াড়েরা ছিলেন একদমই আলাদা। তখনকার প্রেক্ষাপটে এটি ছিল যুগান্তকারী। তাছাড়া ফুটবল লিগে সালাহউদ্দিনের চারবার আর আসলামের পাঁচবার সর্বাধিক গোলদাতা হওয়াটাও নজরকাড়া হয়ে আছে। বিদেশিদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার মহেন্দ্র পালা, গোলরক্ষক লায়নেল পিরিচ, পাকির আলী, অশোকা, চন্দ্রসিড়ি, প্রেমলাল, ইরাকের সামির সাকির, করিম মোহাম্মদ, রাশিয়ার সের্গেই ঝুকভরা দর্শক হৃদয়ে দাগ কাটেন।

ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, হকি, টেবিল টেনিস, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় সাফল্যের ডানায় উড়তে থাকে আবাহনী। শুরু থেকেই ক্রিকেট ও হকিতে শক্তিশালী দল গড়ে সাফল্য পায়। ইংল্যান্ডের নিল ফেয়ারব্রাদার, রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ, শ্রীলঙ্কার অতুলা সামারাসেকারা, দিলীপ মেন্ডিস, অশোকা ডি সিলভা, ভারতের রমন লাম্বা, অজয় জাদেজা, পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম, বাসিত আলী, শহীদ আফ্রিদির মতো ক্রিকেটাররা খেলেছেন আবাহনীতে। হকিতে খেলেছেন ভারতের ধনরাজ পিল্লাই, পাকিস্তানের কামার ইব্রাহিমরা। সব খেলা মিলিয়ে আবাহনী শিরোপা জিতেছে এক শর কাছাকাছি।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে আলাদা একটা ধারা গড়ে তোলে আবাহনী ক্রীড়াচক্র, পরবর্তীকালে আবাহনী লিমিটেড। মোহামেডানের সঙ্গে আবাহনীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাটও যেন হয়ে ওঠে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার লড়াই।

আরও পড়ুন.........
ঢাকার মাঠে সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসব 
মোহাম্মদ আলী যখন বাংলাদেশের 
বক্সাররাই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পদক জয়ের পথ-প্রদর্শক!
কাজী সালাউদ্দিন: বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার
অশ্রু আর বেদনা নিয়ে শুরু ক্রীড়াঙ্গনের যাত্রা