ক্রিকেটে বড় জয় পেলেই রাস্তায় নেমে আসে জনতা। এতে কি প্রমাণ হয়-বাংলাদেশের মানুষ খুব ক্রীড়াপ্রেমী? বোকা বাক্সের কল্যাণে পুরো বিশ্ব এখন ড্রয়িংরুম আর বেডরুমে এসে হাজির। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ফুটবল লিগে বুঁদ হয়ে থাকে এ দেশের মানুষ। এতে কি প্রমাণ হয়-বাংলাদেশের মানুষ খুব ক্রীড়াপ্রেমী? 

তা তো কিছুটা হয়ই। ঠিক আছে, বাংলাদেশের মানুষকে ক্রীড়াপ্রেমী বলে না হয় মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু এর জোরেই কি ‘স্পোর্টিং নেশন’ বলা যাবে বাংলাদেশকে? মনে হয় না। এই পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার মানদণ্ড তো ভিন্ন বলেই জানি। খেলার প্রতি ভালো বাসা অবশ্যই একটা শর্ত, তবে ‘স্পোর্টিং নেশন' বিচারের আসল মাপকাঠি তো উচিত জনসংখ্যার শতকরা কত ভাগ মানুষ কোনো খেলা বা শারীরিক ক্রিয়াকর্মে অংশ নেয়। এই বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থা মোটেই সুবিধার বলে মনে হয় না।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অবশ্যই একটা দেশের মর্যাদা বাড়ায়। বাকি বিশ্বের চোখে সম্মান ও সমীহের একটা আসনে জায়গা করে দেয়। তবে ক্রীড়াক্ষেত্রে একটা দেশের অগ্রযাত্রা মূল্যায়নের আসল মাপকাঠি তো হওয়া উচিত, আগের বছরের তুলনায় আরও বেশি মানুষ খেলায় অংশ নিয়েছে কি না।

এই খেলা শুধু প্রতিযোগিতামূলক খেলা নয়। প্রতিযোগিতামূলক খেলা থাকবে, তবে খেলার মূল উদ্দেশ্য তো আর তা নয়। খেলা হবে খেলার আনন্দে। বড়রা শরীর-মনের যত্ন নিতে খেলবে। আর শিশু কিশোররা খেলবে মনের আনন্দে। কারও যদি প্রতিভা থাকে, মনের আনন্দে খেলতে খেলতেই বাকিদের চেয়ে সে আলাদা হয়ে যাবে। ইচ্ছা হলে পেশাদার খেলোয়াড় হবে। খেলতে খেলতে কোনো একদিন হয়তো জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখবে। রাতে ঘুমাতে যাবে অলিম্পিকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন বুকে নিয়ে। সেই স্বপ্ন কারও পূরণ হবে, কারও হবে না। তবে সবার আগে দরকার, সেই বিকালগুলো ফিরিয়ে আনা।

আমাদের বয়সী প্রায় সব মানুষের শৈশব-কৈশোরের গল্পই তো একই রকম। কখন বিকাল হবে, কখন মাঠে যাব। সুযোগ পেলেই ভর দুপুরেও কি আমরা নেমে পড়িনি মাঠে? গ্যাজেটবিহীন আমাদের কৈশোরে আনন্দ বলতে তো ছিল খেলাই। জীবনে এত কিছু করেও তো সেই আনন্দের কোনো তুলনা এখনো খুঁজে পাই না। যে আনন্দ এই সময়ের বেশির ভাগ শিশু-কিশোরের কাছে অনাস্বাদিতই থেকে গেল! কী দু:খ! কী দু:খ!

আমরা কি শুধু এই দু:খে কাতর হয়েই থাকব, নাকি সবাই মিলে একসঙ্গে একটা বদলের ডাক দেব?