স্কাই টিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সেন্টার’-এর উপস্থাপক মাইক ওয়েডারবার্ন কথাটা বলে একটু হাসলেন। হয়তো যুদ্ধটা কত অসম, তা বোঝাতেই। কিউই পাখি উড়তে পারে না, টাইগারের তো তাতে ভালোই সুবিধা হওয়ার কথা। সমস্যা হলো, বাংলাদেশ ‘টাইগার্স’ নামে পরিচিত হচ্ছে বটে, তবে বাঘ হলেও তারা এখনো নেহাতই ‘শিশু বাঘ’। এতটাই শিশু যে, কিউই পাখির সঙ্গে লড়াইয়ে তারা আন্ডারডগ। তারপরও আজ এসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের মাঠ চেমসফোর্ডে উৎসবটা কিন্তু বাংলাদেশেরই। নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি শুধুই আরেকটা ম্যাচ। বাংলাদেশের জন্য ইতিহাসের একটি গৌরবময় পর্বের উন্মোচন। 

অনেক অনেক বছর ধরে দেখে আসা স্বপ্ন আজ সত্যি হচ্ছে আট শ বছরের পুরনো এই চেমসফোর্ড শহরে। দিনশেষে যা-ই হোক, আজ বাংলাদেশের উৎসব করার দিন। স্বপ্নের বিশ্বকাপে অভিষেকের দিন! এই উৎসবের মেজাজ, গর্বের অনুভূতি দিয়েই শুরু হবে দিনটি। তবে বাংলাদেশের মধ্যরাতে এর সবই যে কর্পূরের মতো উবে যেতে পারে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল তা ভালোমতোই জানেন। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু থেকে শুরু করে নিয়ামুর রশীদ রাহুলেরও তা জানা।

 ১৭ মে দিনটি মহামারী-বঞ্চনা-আশাভঙ্গের যন্ত্রণায় পোড়া বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যরকম ঔজ্জ্বল্য নিয়ে ফিরে আসবে প্রতি বছর। তবে সবচেয়ে ভালো হয়, সেই ঔজ্জ্বল্যে কোনো কালিমার দাগ না পড়লে। বুলবুলরা পারবেন কি না, কে জানে—তবে মাঠে নামার ঘণ্টা কয়েক আগে এর চেয়ে ভালো চেহারায় দেখা দিতে পারতেন না তাঁরা। ইংল্যান্ডে আসার মাসখানেক হয়ে যাওয়া ঠাণ্ডা, হিমেল বাতাস এসব নিয়ে অভিযোগের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। 

বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে আজ প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ কি পারবে? আপসেট ঘটানোর তো আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় না। তবে বাংলাদেশ দল যা দিচ্ছে, তা হলো অন্তত বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা। 

এসেক্স আর মিডলসেক্সের বিপক্ষে জয় মাঝখানে একেবারেই হারিয়ে ফেলা আত্মবিশ্বাসটা ফিরিয়ে দিয়েছে আবার। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী স্কটল্যান্ড সব কটি প্রস্তুতি ম্যাচেই হেরেছে—এই তথ্যটা যেন হঠাৎ করেই বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তারা আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন। শুধু নিজের দেশেরই নয়, বিশ্বকাপে নন টেস্ট প্লেয়িং দেশগুলোর পতাকা উড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্বটাও তাদের। যা উড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। আর কেনিয়ার স্মৃতি তো একেবারেই টাটকা। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়াকে বিমূঢ় করে দিয়েছিল আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে খেলতে আসা জিম্বাবুয়ে।

 বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে আজ প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ কি পারবে? আপসেট ঘটানোর তো আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় না। তবে বাংলাদেশ দল যা দিচ্ছে, তা হলো অন্তত বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা। চেমসফোর্ডের উইকেটও সাহস যোগাচ্ছে এতে। ডিওন ন্যাশ, ক্রিস কেয়ার্নস, ক্রিস হ্যারিস, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি—নিউজিল্যান্ডের বোলিং অ্যাটাক খারাপ নয়। তারপরও চেমসফোর্ডের ব্যাটিং উইকেটে এঁদের বিপক্ষে বড় একটা স্কোর গড়াটাকে একেবারে অপূরণযোগ্য কোনো স্বপ্ন বলে মনে করছে না বাংলাদেশ। ২৫০-২৬০ রান করার একটা লক্ষ্যের কথাও বেশ সাহসী মুখে ঘোষণা করে ফেললেন বুলবুল।

 তাঁর পাশ দিয়ে তখন একে একে হেঁটে যাচ্ছেন অপি, বিদ্যুৎ, আকরাম, সুজনরা। বাংলাদেশের দিনটি কেমন হবে—তা নির্ভর করছে এঁদের ওপরই। বোলিং সাধারণ মানের, ফিল্ডিং সম্ভবত তার চেয়েও পিছিয়ে। একমাত্র ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ বুকে নিয়ে নামা প্রতিচ্ছবিটার মর্যাদা রাখার সামর্থ্য রাখে।

আপসেট! আপসেট!! এই যে শব্দটি উড়ে বেড়াচ্ছে আজ বাংলাদেশের বাতাসে, তা তো হতে যাচ্ছেই। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দিলে তা তো আপসেটই। উল্টোটা হলেও কি নয়?

কিউই পাখির কাছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের পরাজয়কে ‘আপসেট’ বলবেন না আপনি?